ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন : উপদেষ্টা ডা. জাহেদ জামালপুরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কনসালটেশন সেসন অনুষ্ঠিত বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু বকশীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ দানেও আনন্দ আছে : জামালপুরে ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র দাতাদের অভিমত নিষিদ্ধ ইয়াবা বড়ি সেবনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড মেয়েদের ছাতিয়ানতলা, ছেলেদের মাইনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন হবে : মির্জা ফখরুল পিরোজপুরের সড়কগুলো দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিবেন : জেলা প্রশাসকদের প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন দেখতে চাই : হাসনাত আবদুল্লাহ

হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে দেশে একটা পরিবর্তন দেখতে চাই। এ পরিবর্তন যখন আসবে, তখন নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।

৮ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘি ময়দানে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম’-এর উদ্যোগে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে করণীয় বিষয়ে ছাত্র-নাগরিকদের সঙ্গে ‘মতবিনিময় সভা ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ভাবনা’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ এবং সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বক্তব্য রাখেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরো বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা যতদিন ফিরে না আসে ততদিন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা দেখতে চাই। আমরা এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চাই, যেখানে আমাদের প্রেসিডেন্ট যে অবস্থায় চিকিৎসা নেবেন, নিঃস্ব ব্যক্তিও একইভাবে চিকিৎসা নেবেন। এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যারা সরকারি চাকরি করে, তাদের সন্তানরাও যেন বাধ্যতামূলকভাবে ফ্রি স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করে।’

ছাত্র-পুলিশ ‘ভাই-ভাই’ উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের প্রতি তাদের দায়িত্বে মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে কারা খুনি এবং স্বৈরাচারের দোসর – আমরা জানি। সব পুলিশ বেনজির বা ডিবি হারুন নয়। আমার বাবা, আমার ভাইও পুলিশে থাকতে পারে। পুলিশকে কর্তব্য পালনে আমরা সর্বোতভাবে সহযোগিতা করবো। যারা এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে রয়েছেন, তাঁদের প্রতিপক্ষ না ভেবে, সহযোগী ভেবে কাজ করুন। তবে পুলিশদের আমরা একটা বার্তা দিতে চাই। বেনজির কিন্তু দেশে থাকতে পারেননি, ডিবি হারুন পারেননি। সুতরাং আপনারা কর্মমুখী না হয়ে ক্ষমতামুখী হলে আপনাদের পরিণতিও বেনজির-হারুনের মতো হবে।’

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আপনারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা করুন। আপনারা যদি ভেবে থাকেন, আপনারা গোস্বা করে বসে থাকবেন, অফিস-আদালতে কাজ করবেন না, তাহলে ভুল করবেন।’

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী পরিস্থিতি উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় এই সমন্বয়ক আরো বলেন, ‘আন্দোলন পরবর্তী সময়ে রাস্তাঘাটে কোনো পোস্টার ছিল না, অমুক দল-তমুক দল ছিল না। কিন্তু এখন দেখবেন দেয়াল পোস্টারে ছেয়ে গেছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্টের আমলে যেভাবে পোস্টার ছিল, ঠিক একইভাবে পোস্টার লেগেছে। পরিবর্তন এসেছে শুধু ছবিতে। আমরা বলতে চাই, ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেউ দলীয়করণ করার চেষ্টা করবেন না।’

বিগত সরকার দেশে বিভাজনের রাজনীতি চালু করেছিল উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সবসময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ভয় দেখিয়ে আমাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বিভাজনের রাজনীতির মধ্য দিয়ে তারা ফ্যাসিজম কায়েম করেছে। কার দাড়ি আছে আর কার নেই, কারা মাদরাসার শিক্ষার্থী আর কারা মাদরাসার নয় এ বিভাজনে জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজ যখন মন্দিরে হামলা হয়, সেই মন্দির পাহারা দিয়েছে আমাদের দাড়ি-টুপিওয়ালা মাদরাসার ভাইয়েরা। আমাদের সবার প্রথম পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমরা স্থাপন করেছি, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।’

হাসনাত বলেন, ‘আপনাদের সতর্ক করতে চাই, প্রভু চলে গেছে, কিন্তু প্রভুর দাসরা আমাদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। তারা বিভিন্নরূপে আমাদের মাঝে এসে আমাদের ঐক্য ভাঙতে চাইবে। আপনাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে আমরা ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছি, একইভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনেও একসঙ্গে কাজ করব।’সূত্র:বাসস।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিকতার জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন : উপদেষ্টা ডা. জাহেদ

অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন দেখতে চাই : হাসনাত আবদুল্লাহ

আপডেট সময় ১২:০০:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে দেশে একটা পরিবর্তন দেখতে চাই। এ পরিবর্তন যখন আসবে, তখন নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।

৮ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘি ময়দানে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম’-এর উদ্যোগে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে করণীয় বিষয়ে ছাত্র-নাগরিকদের সঙ্গে ‘মতবিনিময় সভা ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ভাবনা’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ এবং সহ-সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বক্তব্য রাখেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরো বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা যতদিন ফিরে না আসে ততদিন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা দেখতে চাই। আমরা এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চাই, যেখানে আমাদের প্রেসিডেন্ট যে অবস্থায় চিকিৎসা নেবেন, নিঃস্ব ব্যক্তিও একইভাবে চিকিৎসা নেবেন। এমন শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যারা সরকারি চাকরি করে, তাদের সন্তানরাও যেন বাধ্যতামূলকভাবে ফ্রি স্কুলগুলোতে পড়াশোনা করে।’

ছাত্র-পুলিশ ‘ভাই-ভাই’ উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ পুলিশের প্রতি তাদের দায়িত্বে মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে কারা খুনি এবং স্বৈরাচারের দোসর – আমরা জানি। সব পুলিশ বেনজির বা ডিবি হারুন নয়। আমার বাবা, আমার ভাইও পুলিশে থাকতে পারে। পুলিশকে কর্তব্য পালনে আমরা সর্বোতভাবে সহযোগিতা করবো। যারা এখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে রয়েছেন, তাঁদের প্রতিপক্ষ না ভেবে, সহযোগী ভেবে কাজ করুন। তবে পুলিশদের আমরা একটা বার্তা দিতে চাই। বেনজির কিন্তু দেশে থাকতে পারেননি, ডিবি হারুন পারেননি। সুতরাং আপনারা কর্মমুখী না হয়ে ক্ষমতামুখী হলে আপনাদের পরিণতিও বেনজির-হারুনের মতো হবে।’

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আপনারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সহায়তা করুন। আপনারা যদি ভেবে থাকেন, আপনারা গোস্বা করে বসে থাকবেন, অফিস-আদালতে কাজ করবেন না, তাহলে ভুল করবেন।’

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন পরবর্তী পরিস্থিতি উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় এই সমন্বয়ক আরো বলেন, ‘আন্দোলন পরবর্তী সময়ে রাস্তাঘাটে কোনো পোস্টার ছিল না, অমুক দল-তমুক দল ছিল না। কিন্তু এখন দেখবেন দেয়াল পোস্টারে ছেয়ে গেছে। আওয়ামী ফ্যাসিস্টের আমলে যেভাবে পোস্টার ছিল, ঠিক একইভাবে পোস্টার লেগেছে। পরিবর্তন এসেছে শুধু ছবিতে। আমরা বলতে চাই, ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেউ দলীয়করণ করার চেষ্টা করবেন না।’

বিগত সরকার দেশে বিভাজনের রাজনীতি চালু করেছিল উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সবসময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ভয় দেখিয়ে আমাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বিভাজনের রাজনীতির মধ্য দিয়ে তারা ফ্যাসিজম কায়েম করেছে। কার দাড়ি আছে আর কার নেই, কারা মাদরাসার শিক্ষার্থী আর কারা মাদরাসার নয় এ বিভাজনে জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজ যখন মন্দিরে হামলা হয়, সেই মন্দির পাহারা দিয়েছে আমাদের দাড়ি-টুপিওয়ালা মাদরাসার ভাইয়েরা। আমাদের সবার প্রথম পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমরা স্থাপন করেছি, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।’

হাসনাত বলেন, ‘আপনাদের সতর্ক করতে চাই, প্রভু চলে গেছে, কিন্তু প্রভুর দাসরা আমাদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। তারা বিভিন্নরূপে আমাদের মাঝে এসে আমাদের ঐক্য ভাঙতে চাইবে। আপনাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে আমরা ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছি, একইভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনেও একসঙ্গে কাজ করব।’সূত্র:বাসস।