ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দু’দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত পুলিশ পরিদর্শককে দেখতে হাসপাতালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য গর্বের বিষয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী শসা চাষে বদলাচ্ছে মাদারগঞ্জের কৃষকের ভাগ্য সোনার মানুষ সেবা সম্মাননা পেলেন জনশক্তির সহকারী পরিচালক ইকরামুন নাহার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : বকশীগঞ্জে ড্রেজার, ডিজেল ইঞ্জিন জব্দ ডিবির অভিযানে ডলার প্রতারক চক্রের সদস্য আটক বকশীগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫০ শিক্ষার্থী পেল শিক্ষা উপকরণ মাদারগঞ্জে জীবন্ত পাখি খাদক সাদুল্লাহ গ্রেপ্তার ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রমজান সম্পর্কে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষণ

:মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ:
সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমাদেরকে সত্য দ্বীনের অনুসারি বানিয়েছেন। আরবি বারো মাসের মধ্যে রমজান মাস সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় মাস। মাহে রমজান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের জন্য বিশেষ উপহার। রমজান সম্পর্কে কিংবা রমজানের রোজার ফজীলত সম্পর্কে কুরআন হাদীসে বহু ফজীলত বর্ণনা করা হয়েছে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বেই সাহাবায়ে কেরাম রা. কে রমজান মাসের ফজীলত ও এ মাসে করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিতেন। হযরত সালমান ফারসী রা. থেকে এ সম্পর্কে একটি হাদীস হল , হযরত সালমান ফারসী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসূল (সা.) আমাদের শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান মাস, মোবারক মাস। এটি এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের রোজাগুলোকে করেছেন (তোমাদের ওপর) ফরজ আর রাতে নামাজ পড়াকে তোমাদের জন্য করেছেন নফল।

এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে ১টি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।

এটা ধৈর্য্যের মাস। আর ধৈর্য্যের সওয়াব হলো বেহেশত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তা তার জন্য গুনাহ মাফের এবং দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার ছওয়াব হবে রোজাদার ব্যক্তির সমান। অথচ রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কমবে না।

এসব শুনে সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ রাখেনা যে রোজাদারকে (তৃপ্তি সহকারে) ইফতার করাবে? রাসূল (সা.) বললেন, আল্লাহ পাক এই ছওয়াব দান করবেন যে রোজাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দিয়ে, অথবা একটি খেজুর দিয়ে, অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন, যার পর সে পুনরায় তৃষ্ণার্ত হবে না জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত।

এটা এমন পবিত্র মাসের প্রথম দিক রহমত, মাঝের দিক মাগফিরাত, আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্থ দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী)

মাহে রমজান সম্পর্কে এছাড়াও বহু হাদীস আছে। রমজান মাসে আমরা যা করার চেষ্টা করব।

# গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। বিগত বছরের কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া বেশি বেশি।

# রমজানের সকল রোজা রাখা।

# পাঁচওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সাথে মসজিদে আদায় করার চেষ্টা করা।

# রাতে তারাবীহ নামাজ, ও তাহাজ্জুদ আদায় করা।

# কুরআন নাজিলের মাসে নিজে কুরআন তিলাওয়াত করা, কুরআন তিলাওয়াত শোনা, যেখানে খতমে তারাবীহ হয় কষ্ট হলেও খতমে তারাবীহ আদায় করা। কারণ এতে যেমন তারাবীহ নামাজ আদায় হচ্ছে সাথে সাথে পূর্ণ কুরআন শোনার সৌভাগ্য হয়।

# গোনাহ মাফের মাসে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে রোনাজারী করা, জিকির, দুআতে ব্যস্ত থাকা।

# রোজা রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই সাথে রোজা যেন নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। তাই সমস্ত গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা, গীবত, শেকায়েত, মিথ্যা, চোগলখোরি, অন্যায়, অশ্লীলতা, জুলুম, কুদৃষ্টি, কুধারণা, হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, ঝগড়াঝাঁটি, মাপে কম দেওয়া, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা।

# দান সদকা বেশি বেশি করা।
# সম্ভব হলে কমপক্ষে একজন রোজাদারকে হলেও ইফতারীর ব্যবস্থা করা।

# অধীনস্থ কর্মচারী, দাসী বা গোলামদের কর্মভার হালকা করা।

# ইফতার, সাহরীতে সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকা।

# হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কে আমল করার তোফিক দিন।

মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ : খতিব, বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, বকশীগঞ্জ, জামালপুর

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দু’দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রমজান সম্পর্কে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষণ

আপডেট সময় ০৭:১২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল ২০২১

:মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ:
সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহ তাআলার জন্য যিনি আমাদেরকে সত্য দ্বীনের অনুসারি বানিয়েছেন। আরবি বারো মাসের মধ্যে রমজান মাস সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় মাস। মাহে রমজান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের জন্য বিশেষ উপহার। রমজান সম্পর্কে কিংবা রমজানের রোজার ফজীলত সম্পর্কে কুরআন হাদীসে বহু ফজীলত বর্ণনা করা হয়েছে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাস শুরু হওয়ার পূর্বেই সাহাবায়ে কেরাম রা. কে রমজান মাসের ফজীলত ও এ মাসে করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দিতেন। হযরত সালমান ফারসী রা. থেকে এ সম্পর্কে একটি হাদীস হল , হযরত সালমান ফারসী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসূল (সা.) আমাদের শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান মাস, মোবারক মাস। এটি এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের রোজাগুলোকে করেছেন (তোমাদের ওপর) ফরজ আর রাতে নামাজ পড়াকে তোমাদের জন্য করেছেন নফল।

এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে ১টি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।

এটা ধৈর্য্যের মাস। আর ধৈর্য্যের সওয়াব হলো বেহেশত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তা তার জন্য গুনাহ মাফের এবং দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার ছওয়াব হবে রোজাদার ব্যক্তির সমান। অথচ রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কমবে না।

এসব শুনে সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ রাখেনা যে রোজাদারকে (তৃপ্তি সহকারে) ইফতার করাবে? রাসূল (সা.) বললেন, আল্লাহ পাক এই ছওয়াব দান করবেন যে রোজাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দিয়ে, অথবা একটি খেজুর দিয়ে, অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন, যার পর সে পুনরায় তৃষ্ণার্ত হবে না জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত।

এটা এমন পবিত্র মাসের প্রথম দিক রহমত, মাঝের দিক মাগফিরাত, আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্থ দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী)

মাহে রমজান সম্পর্কে এছাড়াও বহু হাদীস আছে। রমজান মাসে আমরা যা করার চেষ্টা করব।

# গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। বিগত বছরের কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া বেশি বেশি।

# রমজানের সকল রোজা রাখা।

# পাঁচওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সাথে মসজিদে আদায় করার চেষ্টা করা।

# রাতে তারাবীহ নামাজ, ও তাহাজ্জুদ আদায় করা।

# কুরআন নাজিলের মাসে নিজে কুরআন তিলাওয়াত করা, কুরআন তিলাওয়াত শোনা, যেখানে খতমে তারাবীহ হয় কষ্ট হলেও খতমে তারাবীহ আদায় করা। কারণ এতে যেমন তারাবীহ নামাজ আদায় হচ্ছে সাথে সাথে পূর্ণ কুরআন শোনার সৌভাগ্য হয়।

# গোনাহ মাফের মাসে বেশি বেশি আল্লাহর কাছে রোনাজারী করা, জিকির, দুআতে ব্যস্ত থাকা।

# রোজা রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই সাথে রোজা যেন নষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। তাই সমস্ত গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা, গীবত, শেকায়েত, মিথ্যা, চোগলখোরি, অন্যায়, অশ্লীলতা, জুলুম, কুদৃষ্টি, কুধারণা, হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, ঝগড়াঝাঁটি, মাপে কম দেওয়া, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা।

# দান সদকা বেশি বেশি করা।
# সম্ভব হলে কমপক্ষে একজন রোজাদারকে হলেও ইফতারীর ব্যবস্থা করা।

# অধীনস্থ কর্মচারী, দাসী বা গোলামদের কর্মভার হালকা করা।

# ইফতার, সাহরীতে সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকা।

# হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কে আমল করার তোফিক দিন।

মুফতী জাকির হোসাইন আশরাফ : খতিব, বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, বকশীগঞ্জ, জামালপুর