জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৫০০ টাকার বাজি ধরে জীবন্ত শালিক পাখি ছিঁড়ে খাওয়ার ঘটনায় সাদুল্লাহ (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
১৪ অক্টোবর, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দী মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাদুল্লাহ ওই এলাকার হাফিজল মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার কোয়ালিকান্দী বাজারে কয়েকজন অটোরিকশাচালকের সঙ্গে ৫০০ টাকার বাজি ধরেন সাদুল্লাহ। বাজির শর্ত অনুযায়ী তিনি একটি জীবন্ত শালিক পাখি ছিঁড়ে খেয়ে ফেলেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনের উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি জীবন্ত শালিক পাখির পালক ও চামড়া ছাড়িয়ে কাঁচা মাংস ছিঁড়ে খাচ্ছেন। এ সময় বাজিতে জিতে তাকে বেশ উল্লাস করতে দেখা যায়।
এই ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, বাজি বা বিনোদনের নামে একটি জীবন্ত পাখির প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় এই প্রতিবেদককে বলেন, জীবন্ত পাখি ছিঁড়ে খাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। ১৪ অক্টোবর, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদুল্লাহকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন্ এর নির্বাহী পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনি ১৪ অক্টোবর বিকালে মাদারগঞ্জ থানায় যান। তারা বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়েরের প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।
শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মুগনিউর রহমান মনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গ্রেপ্তার ওই পাখি খাদক সাদুল্লাহ থানা হেফাজতে রয়েছে। তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছেন। তার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, সাদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির জীবন্ত শালিক পাখি ছিঁড়ে খাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। শেরপুর থেকে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তাসহ একটি টিম এসেছিলেন। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 


















