ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত সাবেক সচিব ইহসানুল হকের সভায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর উপস্থিতি, অত:পর… যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হিট স্ট্রোকে কৃষকের মৃত্যুু সরিষাবাড়ীতে আব্দুল জলিল চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ভিউ প্রতিযোগিতার নামে অপসাংবাদিকতা বন্ধের আহ্বান আতিকুর রহমান রুমনের মূলধারার গণমাধ্যমের পেশা চর্চায় অনৈতিক বাধা মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ : তথ্যমন্ত্রী মাদারগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী : জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যােগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শরিফপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী রতন গ্রেপ্তার

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী মো. রতন। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী মো. রতন। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের জের ধরে প্রথম স্ত্রী হাসি বেগম (২৫) স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই গৃহবধূর স্বামী মো. রতনকে জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রতন জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বগালী গ্রামের মৃত মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বগালী গ্রামের মো. রতন ছয় বছর আগে জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাগেরপাড়া গ্রামের মো. অহিজলের মেয়ে হাসি বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই রতন যৌতুকের জন্য স্ত্রী হাসি বেগমকে নির্যাতন করে আসছেন। এ নিয়ে হাসি বেগম আদালতে মামলা দায়ের করলে উভয়পক্ষের আপসরফায় তারা পুনরায় সংসার করে আসছিলেন। রতন ফের যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে এবং হাসি বেগমকে ছয়মাস আগে তার বাবার বাড়ি মেলান্দহের নাগেরপাড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। তাদের পাঁচ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে তালাক না হলেও প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে রতন দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে হাসি বেগম তার শিশু সন্তান ও বোন খুশি বেগমকে নিয়ে শরিফপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যান। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয় নিয়ে স্বামী রতনের সাথে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে স্বামী রতন ও তার পরিবারের অন্যান্যরা হাসি বেগমকে কোদাল দিয়ে কোপ দিয়ে এবং বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তার বোন খুশি বেগম ফেরাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। কোদালের আঘাতে হাসি বেগমের ডান পা এবং পীঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।

ওইদিন রাতেই সদর থানা পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসি বেগমকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে হাসি বেগম ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার বাবার বাড়ি মেলান্দহের নাগেরপাড়ায় ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় হাসি বেগমের বাবা মো. অহিজল বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাসি বেগমের স্বামী মো. রতনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকা থেকে মামলাটির প্রধান আসামি মো. রতনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, ‘হাসি নামের গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা নিয়েছি। তার স্বামী মো. রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

শরিফপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী রতন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৭:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নির্যাতনকারী স্বামী মো. রতন। ছবি : বাংলার চিঠি ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর ॥
জামালপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের জের ধরে প্রথম স্ত্রী হাসি বেগম (২৫) স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই গৃহবধূর স্বামী মো. রতনকে জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার রতন জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বগালী গ্রামের মৃত মো. আবুল কাশেমের ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বগালী গ্রামের মো. রতন ছয় বছর আগে জেলার মেলান্দহ উপজেলার নাগেরপাড়া গ্রামের মো. অহিজলের মেয়ে হাসি বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই রতন যৌতুকের জন্য স্ত্রী হাসি বেগমকে নির্যাতন করে আসছেন। এ নিয়ে হাসি বেগম আদালতে মামলা দায়ের করলে উভয়পক্ষের আপসরফায় তারা পুনরায় সংসার করে আসছিলেন। রতন ফের যৌতুকের জন্য নির্যাতন শুরু করে এবং হাসি বেগমকে ছয়মাস আগে তার বাবার বাড়ি মেলান্দহের নাগেরপাড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। তাদের পাঁচ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তাদের মধ্যে তালাক না হলেও প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে রতন দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে হাসি বেগম তার শিশু সন্তান ও বোন খুশি বেগমকে নিয়ে শরিফপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যান। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয় নিয়ে স্বামী রতনের সাথে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে স্বামী রতন ও তার পরিবারের অন্যান্যরা হাসি বেগমকে কোদাল দিয়ে কোপ দিয়ে এবং বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তার বোন খুশি বেগম ফেরাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। কোদালের আঘাতে হাসি বেগমের ডান পা এবং পীঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।

ওইদিন রাতেই সদর থানা পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসি বেগমকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে হাসি বেগম ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার বাবার বাড়ি মেলান্দহের নাগেরপাড়ায় ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় হাসি বেগমের বাবা মো. অহিজল বাদী হয়ে যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে ৪ সেপ্টেম্বর রাতে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাসি বেগমের স্বামী মো. রতনসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে জামালপুর শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকা থেকে মামলাটির প্রধান আসামি মো. রতনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছিমুল ইসলাম বাংলার চিঠি ডটকমকে বলেন, ‘হাসি নামের গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা নিয়েছি। তার স্বামী মো. রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’