নিকাহ রেজিস্ট্রারদের লাইসেন্সে উল্লেখিত কর্মএলাকা বহাল রাখা, অবসরের বয়সসীমা ৬৭ থেকে বাড়িয়ে ৭২ বছর করা, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ফি সময়োপযোগী করা এবং বিবাহযোগ্য বর-কনের বয়স পুনর্নির্ধারণসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ঐক্য পরিষদ, জামালপুর জেলা শাখা।
২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুরে জেলার প্রায় অর্ধশত নিকাহ রেজিস্ট্রার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন। বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ঐক্য পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কাজী মসিউর রহমানের নেতৃত্বে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ঐক্য পরিষদ জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাবিবুল্লাহ স্মারকলিপিতে উল্লেখ থাকা দাবিগুলো সম্পর্কে বলেন, মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছেন তারা। তবে বিদ্যমান বিধি-বিধান ও পেশাগত বিভিন্ন জটিলতার কারণে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান এবং নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বিদ্যমান বিধি-বিধান সংশোধনের দাবি জানান তারা।
তিনি নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অন্যতম প্রধান দাবিগুলো উল্লেখ করে বলেন, লাইসেন্সে উল্লেখিত কর্মএলাকা বহাল রাখা। কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রারের পদ মৃত্যু বা অবসরজনিত কারণে শূন্য হলে ওই এলাকায় নতুন নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শূন্য পদে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের যোগ্য পুত্রকে লাইসেন্স দিতে হবে।
এ ছাড়া নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭২ বছর করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, শারীরিকভাবে সক্ষম ও দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত থাকা পর্যন্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ফি পুনর্নির্ধারণের দাবিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি হাজার টাকা দেনমোহরে নিবন্ধন ফি ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা, সর্বনিম্ন বিবাহ নিবন্ধন ফি ২০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা এবং তালাক নিবন্ধন ফি এক হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন, ভ্রমণ, তল্লাশি, নকল এবং নিকাহনামা ও তালাকনামা সংশোধনের ফিও পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বিবাহযোগ্য বয়স পুনর্নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, বর বা পুরুষের বিবাহযোগ্য বয়স ১৮ বছর এবং কনে বা নারীর বয়স ১৬ বছর করার দাবি করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
তবে বর্তমানে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিবাহের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীর ১৮ বছর। তাই নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে।
এ ছাড়া জালিয়াতি ও বাল্যবিবাহ রোধে বর-কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের ঠিকানার আওতাধীন নিকাহ রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, লাইসেন্স মঞ্জুর সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটিতে একজন নিকাহ রেজিস্ট্রারের প্রতিনিধি রাখা এবং ‘কাজীর সনদ’ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ, লাইসেন্স প্রদানে ডিও লেটারের প্রয়োজনীয়তা বাতিল, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা দিয়ে বিবাহ ও তালাক সম্পাদন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের দাবিও রয়েছে ১২ দফার মধ্যে।
প্রতিটি কাজী অফিসে অফিস সহকারী বা দপ্তরী রাখার ব্যবস্থা, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের মধ্যে একাধিক সমিতি গঠনজনিত জটিলতা নিরসন এবং বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্য যুগোপযোগী বিধিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপি পেশ কালে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিকাহ রেজিস্ট্রাররা উপস্থিত ছিলেন। তারা পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা, নিবন্ধন কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের সেবা সহজ করতে দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মাহমুদুল হাসান মুক্তা : নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম 


















