জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় আনন্দ-উদ্দীপনা, ভাবগাম্ভীর্য এবং দেবী দুর্গার প্রতি অশ্রুসজল বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমীতে পৌর এলাকার শিমলাবাজার গণময়দান মাঠে নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে দুপুর থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমাত থাকেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। গণময়দান মাঠে এসে জমায়েত হন হাজারো পুণ্যার্থী।
উৎসবের শেষ দিনে দেবী দুর্গার চরণে অঞ্জলি প্রদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। মণ্ডপে বিবাহিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে পরিবারের মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। মিষ্টিমুখ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দেবী দুর্গার বিদায়লগ্নে অনেক ভক্তের চোখেই দেখা যায় আবেগ ও বিষাদের ছাপ।
সিঁদুর খেলা ও অন্তিম আচার-অনুষ্ঠান শেষে ধর্মীয় রীতিনীতি বজায় রেখে গণময়দানের বিসর্জন ঘাটে একের পর এক প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে পাঁচদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এই দুর্গোৎসবের। সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে আগামী বছর আবারও মর্ত্যলোকে দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে—এমনই আশাবাদ ও প্রদীপ্ত অপেক্ষায় বিদায় জানান ভক্তকূল।
উল্লেখ্য, সরিষাবাড়ী উপজেলায় চলতি বছর আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৪৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৩৫টি মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য প্রতিমা তৈরির শুরু থেকে বিসর্জনের শেষ সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদারে রেখেছিল পুলিশ এবং প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিমা বিসর্জ্জন দেওয়ার পরেও পুলিশের টহল জোরদার রাখা হবে।
মমিনুল ইসলাম কিসমত : নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম 

















