ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল তিন দিনের নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হচ্ছে সাদিয়া তাবাসসুম বৃষ্টি রচিত নাটক ‘ঊনচাঁদ’ বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিক পালিত বিএনপির সাবেক মহাসচিব সালাম তালুকদার স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী ২০ আগস্ট শেরপুরে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‎ চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার রায় : সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে স্প্রিপ্ট প্রকল্পের সভা মাদারগঞ্জে অটোচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বকশীগঞ্জে আলুর আশাতীত ফলন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা কৃষক

বকশীগঞ্জ : আলু তোলার কাজে ব্যস্ত ও দাম নিয়ে চিন্তিত একজন কৃষক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গোল আলুর আশাতীত ফলন হয়েছে। কিন্তু আলু চাষিদের মাঝে নেই আনন্দ। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত পরিচর্যায় আলুর ভাল ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও পাইকারি বাজারে আলুর দাম কম থাকায় অনেকেই মূলধন তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৮৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ফলন আশানুরূপ হলেও স্থানীয় হাট-বাজারে প্রতি মণ আলু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে প্রতি মণ উৎপাদন খরচই এর কাছাকাছি বা বেশি বলে দাবি চাষিদের।

বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক মন্টু মিয়া বলেন, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছি। ফলন ভাল হলেও বাজারে দাম কম। খরচই উঠছে না। লাভ তো দূরের কথা। সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আরেক কৃষক শরিফ মিয়া বলেন, হিমাগারে রাখার কোন সুব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় তারা দীর্ঘদিন আলু সংরক্ষণ করতে পারছেন না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দাম পড়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক মাঠ থেকেই কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর আলুর আবাদ ও ফলন দুটোই ভাল হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পেতেন।

তাছাড়া এ এলাকায় হিমাগার সুবিধা না থাকায় কৃষকেরা আলু সংরক্ষণ করতে পারছে না। হিমাগার সুবিধা থাকলে কৃষকেরা আলু সংরক্ষণ করে লাভবান হতে পারতেন।

এদিকে স্থানীয় কৃষিবিদদের ধারণা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আলু চাষে কৃষকের আগ্রহ কমে যাবে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং হিমাগার সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল

বকশীগঞ্জে আলুর আশাতীত ফলন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা কৃষক

আপডেট সময় ১০:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গোল আলুর আশাতীত ফলন হয়েছে। কিন্তু আলু চাষিদের মাঝে নেই আনন্দ। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত পরিচর্যায় আলুর ভাল ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও পাইকারি বাজারে আলুর দাম কম থাকায় অনেকেই মূলধন তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ৮৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ফলন আশানুরূপ হলেও স্থানীয় হাট-বাজারে প্রতি মণ আলু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে প্রতি মণ উৎপাদন খরচই এর কাছাকাছি বা বেশি বলে দাবি চাষিদের।

বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৃষক মন্টু মিয়া বলেন, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেছি। ফলন ভাল হলেও বাজারে দাম কম। খরচই উঠছে না। লাভ তো দূরের কথা। সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আরেক কৃষক শরিফ মিয়া বলেন, হিমাগারে রাখার কোন সুব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় তারা দীর্ঘদিন আলু সংরক্ষণ করতে পারছেন না। ফলে মৌসুমের শুরুতেই অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দাম পড়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক মাঠ থেকেই কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বছর আলুর আবাদ ও ফলন দুটোই ভাল হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পেতেন।

তাছাড়া এ এলাকায় হিমাগার সুবিধা না থাকায় কৃষকেরা আলু সংরক্ষণ করতে পারছে না। হিমাগার সুবিধা থাকলে কৃষকেরা আলু সংরক্ষণ করে লাভবান হতে পারতেন।

এদিকে স্থানীয় কৃষিবিদদের ধারণা, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আলু চাষে কৃষকের আগ্রহ কমে যাবে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং হিমাগার সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।