ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাস পুড়ছে দিনে প্রায় ৩ কোটি টাকার, উৎপাদনের খবর নেই যমুনায় ‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার হাত মিলিয়ে দেশে অরাজকতার চেষ্টা চালাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির জামালপুরে রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ উদ্বোধন ফলবান কলাগাছ কর্তনের ন্যায্য বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত মাদারগঞ্জে ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি শুরু প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সচেতন এবং সতর্ক রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

মাদারগঞ্জে নাইওরী রেস্টুরেন্টে যা হচ্ছে

সরজমিনে গিয়ে নাইওরী রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

সরজমিনে নাইওরী রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি বাজারে একটি বহুতল মার্কেটের ছাদে গড়ে উঠা রুফটপ নাইওরী রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেছে। এই রেস্টুরেন্টে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িত হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের মালিক খাবার খরচ ছাড়াও প্রতিঘণ্টা নিরাপদে একান্ত সময় কাটানোর জন্য ৩০০ টাকা বাড়তি ফি আদায় করছে বলে জানা যায়। এ ছাড়া ওই হোটেলে বাইরে থেকে ‘মক্ষীরানী’দেরও এনে অনৈতিক কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, কয়েক বছর হয় মার্কেটের ছাদে একটি রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলে স্থানীয় এক যুবক। পরে তিনি ওই ব্যবসা ছেড়ে দেন স্থানীয় ডিস ব্যবসায়ী নূরনবী ও উপজেলার মোমোনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর কাছে। তারা রেস্টুরেন্টটি নিয়েই এই অনৈতিক কাজ শুরু করে। এবং বাইরের অবকাঠামো ঠিক রেখে ভিতরে গোপন কক্ষ তৈরি করে বড় বড় সোফাসেট ও অল্প আলো লাগিয়ে দেয়। ওই কক্ষের অভ্যন্তরে দুটি খাট ও বিছানাপত্র সাজানো রয়েছে।

জানা যায়, এই সব ব্যবহারে বিভিন্ন রেটে টাকা দিতে হয়। ১১ মে সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গোপন কক্ষে সারি সারি সোফায় স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা একান্ত সময় কাটাচ্ছে। ক্যামেরা দেখে ছোটা ছুটি করে পালিয়ে যায় অনেকে।

এই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার কাম শেফ হারুনুর রশিদ জানায়, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু এই রেস্টুরেন্টটির মালিক, তার হুকুমে এইসব চলে। তিনি বাড়িতে থাকেন। আমি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করি। তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মতো সময় কাটায়। এর জন্য খাবারের বিলের সাথে অতিরিক্ত ঘণ্টা প্রতি ৩০০ টাকা নেওয়া হয়।

এলাকাবাসী জানায়, এতদিন একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রেস্টুরেন্টটি চলতো। তাই কেউ মুখ খুলতে পারতো না। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন সংবাদ জানে না বলে জানা যায়। অচিরেই এইসব বন্ধ করা হবে।

এই রেস্টুরেন্টের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, আমি অসুস্থ, ম্যানেজার হারুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই রেস্টুরেন্টটি আমি ও বালিজুড়ি বাজারের ডিস ব্যবসায়ী নূরনবী মিলে কিনেছি। তিনি এইসব দেখাশুনা করেন।

এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, দ্রুত এই বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ রেস্টুরেন্টের গোপন কক্ষ অপসারণসহ মালিককে সর্তক করা হবে, প্রয়োজনে মামলা করা হবে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত জানান, বিষয়টি এতদিন নজরে আসেনি। এখন এই অবৈধ হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এখানে যাতে কোন অসামাজিক কাজ না হয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে এই অভিযান করবো।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস পুড়ছে দিনে প্রায় ৩ কোটি টাকার, উৎপাদনের খবর নেই যমুনায়

মাদারগঞ্জে নাইওরী রেস্টুরেন্টে যা হচ্ছে

আপডেট সময় ১১:৫৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪
সরজমিনে নাইওরী রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল
নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি বাজারে একটি বহুতল মার্কেটের ছাদে গড়ে উঠা রুফটপ নাইওরী রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেছে। এই রেস্টুরেন্টে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অনৈতিক কাজে জড়িত হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের মালিক খাবার খরচ ছাড়াও প্রতিঘণ্টা নিরাপদে একান্ত সময় কাটানোর জন্য ৩০০ টাকা বাড়তি ফি আদায় করছে বলে জানা যায়। এ ছাড়া ওই হোটেলে বাইরে থেকে ‘মক্ষীরানী’দেরও এনে অনৈতিক কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, কয়েক বছর হয় মার্কেটের ছাদে একটি রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলে স্থানীয় এক যুবক। পরে তিনি ওই ব্যবসা ছেড়ে দেন স্থানীয় ডিস ব্যবসায়ী নূরনবী ও উপজেলার মোমোনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর কাছে। তারা রেস্টুরেন্টটি নিয়েই এই অনৈতিক কাজ শুরু করে। এবং বাইরের অবকাঠামো ঠিক রেখে ভিতরে গোপন কক্ষ তৈরি করে বড় বড় সোফাসেট ও অল্প আলো লাগিয়ে দেয়। ওই কক্ষের অভ্যন্তরে দুটি খাট ও বিছানাপত্র সাজানো রয়েছে।

জানা যায়, এই সব ব্যবহারে বিভিন্ন রেটে টাকা দিতে হয়। ১১ মে সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গোপন কক্ষে সারি সারি সোফায় স্কুলের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা একান্ত সময় কাটাচ্ছে। ক্যামেরা দেখে ছোটা ছুটি করে পালিয়ে যায় অনেকে।

এই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার কাম শেফ হারুনুর রশিদ জানায়, মোস্তাফিজুর রহমান বাবু এই রেস্টুরেন্টটির মালিক, তার হুকুমে এইসব চলে। তিনি বাড়িতে থাকেন। আমি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করি। তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মতো সময় কাটায়। এর জন্য খাবারের বিলের সাথে অতিরিক্ত ঘণ্টা প্রতি ৩০০ টাকা নেওয়া হয়।

এলাকাবাসী জানায়, এতদিন একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রেস্টুরেন্টটি চলতো। তাই কেউ মুখ খুলতে পারতো না। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন সংবাদ জানে না বলে জানা যায়। অচিরেই এইসব বন্ধ করা হবে।

এই রেস্টুরেন্টের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, আমি অসুস্থ, ম্যানেজার হারুনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই রেস্টুরেন্টটি আমি ও বালিজুড়ি বাজারের ডিস ব্যবসায়ী নূরনবী মিলে কিনেছি। তিনি এইসব দেখাশুনা করেন।

এ ব্যাপারে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, দ্রুত এই বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ রেস্টুরেন্টের গোপন কক্ষ অপসারণসহ মালিককে সর্তক করা হবে, প্রয়োজনে মামলা করা হবে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত জানান, বিষয়টি এতদিন নজরে আসেনি। এখন এই অবৈধ হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এখানে যাতে কোন অসামাজিক কাজ না হয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে এই অভিযান করবো।