ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে ঐতিহ্যবাহী লাঠিবারি খেলা অনুষ্ঠিত শোলাকুড়িতে বারতীর্থ স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে চেয়ারম্যান বাবুকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন দেশে এপ্রিল ও মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি মজুত রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী দারিদ্র্য দূর করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে চাই : মির্জা ফখরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রসারে অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : আইনমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রতারক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির গ্রেপ্তার

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন : নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তীরের বাসিন্দারা

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মুত্তাছিম বিল্লাহ, মেলান্দহ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের পচাবহলা এলাকা থেকে সাদিপাটি বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার আলাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ফসলি জমিসহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

জানা গেছে, জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়ন থেকে যমুনার শাখা আলাই নদীর উৎপত্তি। প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে বন্যার পানি বাড়ার ফলে তীব্র ভাঙন শুরু হয় এই নদীর তীরে। গত কয়েক বছরের ভাঙনে বিলীন হয়েছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পানি বেড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন নদী পাড়ের মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, আলাই নদীতে চার বছর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ বছরও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সাদিপাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদিপাটি বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদসহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত সড়ক ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় লোকজন যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না।

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

স্থানীয় পারভিন বেগম জানান, আমার ঘর ভাঙতে শুধু এক হাত বাকি আছে। এই এক হাত ভাঙলেই ঘর ভেঙে যাবে। আমার আর জায়গা-জমি নাই। কখন যে ভেঙে পড়বে জানি না। রাতে ঘুমাতে পারি না ভাঙনের চিন্তায়।

সাদিপাটি এলাকার আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, রাস্তা, জায়গা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের বাড়ি হুমকিতে আছে। কখন যে ভাঙে এই ভয়ে আছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

সাদিপাটি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আহমদ উল্লাহ বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে মসজিদের কিনারে এসেছে। মসজিদের পিলার বেরিয়ে এসেছে। এ বছরে নতুন পানি এসেছে, এখন যদি ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে মসজিদ কী হবে জানি না। আমাদের দাবি দ্রুত যেন ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, আলাই নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ খুবই আতঙ্কে রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম মিঞা বলেন, আলাই নদীতে ভাঙনের বিষয়ে জানতে পেরেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ঐতিহ্যবাহী লাঠিবারি খেলা অনুষ্ঠিত

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন : নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তীরের বাসিন্দারা

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩
মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মুত্তাছিম বিল্লাহ, মেলান্দহ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের পচাবহলা এলাকা থেকে সাদিপাটি বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার আলাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ফসলি জমিসহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

জানা গেছে, জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়ন থেকে যমুনার শাখা আলাই নদীর উৎপত্তি। প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে বন্যার পানি বাড়ার ফলে তীব্র ভাঙন শুরু হয় এই নদীর তীরে। গত কয়েক বছরের ভাঙনে বিলীন হয়েছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পানি বেড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন নদী পাড়ের মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, আলাই নদীতে চার বছর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ বছরও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সাদিপাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদিপাটি বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদসহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত সড়ক ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় লোকজন যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না।

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

স্থানীয় পারভিন বেগম জানান, আমার ঘর ভাঙতে শুধু এক হাত বাকি আছে। এই এক হাত ভাঙলেই ঘর ভেঙে যাবে। আমার আর জায়গা-জমি নাই। কখন যে ভেঙে পড়বে জানি না। রাতে ঘুমাতে পারি না ভাঙনের চিন্তায়।

সাদিপাটি এলাকার আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, রাস্তা, জায়গা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের বাড়ি হুমকিতে আছে। কখন যে ভাঙে এই ভয়ে আছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

সাদিপাটি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আহমদ উল্লাহ বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে মসজিদের কিনারে এসেছে। মসজিদের পিলার বেরিয়ে এসেছে। এ বছরে নতুন পানি এসেছে, এখন যদি ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে মসজিদ কী হবে জানি না। আমাদের দাবি দ্রুত যেন ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, আলাই নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ খুবই আতঙ্কে রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম মিঞা বলেন, আলাই নদীতে ভাঙনের বিষয়ে জানতে পেরেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।