ঢাকা ০৯:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে : ইকবাল হাসান মাহমুদ অনিরাপদ খাদ্যের স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিজিবির অভিযানে ভারতীয় কসমেটিক পণ্য উদ্ধার ইসলামপুরে বৃদ্ধ দম্পত্তি চায় নিরাপদ ঘর, দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তা ইসলামপুরে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হিউম্যান রাইটস ভয়েস বাংলাদেশের বকশীগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক হলেন সাঈদ ঝর্নায় জ্বালানি তেল না আসায় ভোগান্তিতে ইসলামপুরবাসী আওনা ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু, মদিনায় দাফন

জনগণই আমার শক্তি, কোনো চাপ নেই, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে : প্রধানমন্ত্রী

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক : ‘জনগণই তাঁর শক্তি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি কখনোই কোনো বিদেশি চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে শেখ হাসিনাকে চাপ দিতে পারে এমন কোন চাপ নেই। কারণ আমার শক্তি একমাত্র আমার জনগণ।” বিএনপি বিদেশিদের কাছে দেন দরবার করছে বা একটি বিদেশি প্রভাবশালী পত্রিকায় ড. ইউনুসকে নিয়ে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত ৪০ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি কোন চাপ অনুভব করছেন কিনা বা আন্তর্জাতিক কোন চাপ তাঁর অথবা সরকারের ওপর রয়েছে কিনা’- এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৩ মার্চ বিকেলে গণভবনে তাঁর সাম্প্রতিক কাতার সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এমন কোন চাপ নাই যেটা শেখ হাসিনাকে দিতে পারে। এটা মাথায় রাখতে হবে। কারণ আমার শক্তি একমাত্র আমার জনগণ, আর উপরে আল্লাহ আছেন। আর আমার বাবার আশির্বাদের হাত আমার মাথায় আছে। কাজেই কে কি চাপ দিলো, না দিলো- এতে আমাদের কিছু আসে যায় না। জনগণের স্বার্থে যেটা করার আমরা সেটাই করবো। জনগণের কল্যাণে যে কাজ করার সেটাই করবো।

তিনি বলেন, এরকম বহু চাপ তো ছিলই। পদ্মা সেতুর আগেতো কম চাপ দেয়া হয়নি। কোন একটা দেশের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী থেকে শুরু করে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে টেলিফোনের পর টেলিফোন এসেছে। হেনো তেনো কারণেও টেলিফোন। একজন ভদ্রলোক একটি ব্যাংকের এমডি, তাকে এমডি পদে রাখতে হবে। আর এই এমডি পদে কি মধু, তাতো আমি জানি না।

তিনি বলেন, আইনে নেই, তবু ৭০ বছর বয়স হয়ে গেলেও, এমডি পদে তাকে থাকতে হবে। এতে একটাই হয় যে, এমডি পদে থাকলে বোধ হয় মানি লন্ডারিং করা যায়, এটাই সুবিধা। পয়সা বানানো যায়, পয়সা মারা যায়, গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া যায়। তো সেই চাপও কিন্তু শেখ হাসিনা সহ্য করে চলে এসেছে এবং তারপরেও নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু করে দেখালাম সেই চাপে আমাদের কিছু আসে যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কতগুলো আইন আছে। সে আইন অনুযায়ী সব চলবে এবং সেটা চলে। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। শ্রমিকদের অধিকার আমরা রক্ষা করি, ট্যাক্স বিভাগ আছে আলাদা। তারা সেটি আদায় করে। কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নেয়, শ্রম আদালত আছে। এই ক্ষেত্রে আমার তো কিছু করার নেই সরকার প্রধান হিসেবে। পদ্মা সেতু কিন্তু করে ফেলেছি, এটুকুই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা বিবৃতি না, এটা একটা বিজ্ঞাপন। যে ৪০ জনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে একজন বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে, এর উত্তর কী দেবো, জানি না। আমার একটা প্রশ্ন আছে, যিনি এত নামিদামি নোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত, তারজন্য এই ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে বিজ্ঞাপন দিতে হবে কেন ? তাও আবার বিদেশি পত্রিকায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিরও চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, আমি বিশ্বাস করি, এটা কেউ কিছু করতে পারবে না। হয়তো সাময়িক কিছু একটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সেটা মোকাবেলা করবে আমাদের দেশের জনগণই।

প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী এই সংবাদ সম্মেলনে কাতার সফরের বিষয়বস্তু ছাড়াও আগামী নির্বাচন,সংলাপ,কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের দৌঁড়ঝাপ, নানামুখী অপতৎরতা, গুজব রটানো, দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা এবং দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তাসহ সাংবাদিকদের নানামুখি প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইসানুল করিম সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন।

এর আগে ৪ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশসমূহের (এলডিসি ৫ : সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) ৫ম জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগদানের পর কাতারের রাজধানী দোহা থেকে দেশে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী।সূত্র:বাসস।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জনগণই আমার শক্তি, কোনো চাপ নেই, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মার্চ ২০২৩

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক : ‘জনগণই তাঁর শক্তি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি কখনোই কোনো বিদেশি চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে শেখ হাসিনাকে চাপ দিতে পারে এমন কোন চাপ নেই। কারণ আমার শক্তি একমাত্র আমার জনগণ।” বিএনপি বিদেশিদের কাছে দেন দরবার করছে বা একটি বিদেশি প্রভাবশালী পত্রিকায় ড. ইউনুসকে নিয়ে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত ৪০ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি কোন চাপ অনুভব করছেন কিনা বা আন্তর্জাতিক কোন চাপ তাঁর অথবা সরকারের ওপর রয়েছে কিনা’- এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৩ মার্চ বিকেলে গণভবনে তাঁর সাম্প্রতিক কাতার সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এমন কোন চাপ নাই যেটা শেখ হাসিনাকে দিতে পারে। এটা মাথায় রাখতে হবে। কারণ আমার শক্তি একমাত্র আমার জনগণ, আর উপরে আল্লাহ আছেন। আর আমার বাবার আশির্বাদের হাত আমার মাথায় আছে। কাজেই কে কি চাপ দিলো, না দিলো- এতে আমাদের কিছু আসে যায় না। জনগণের স্বার্থে যেটা করার আমরা সেটাই করবো। জনগণের কল্যাণে যে কাজ করার সেটাই করবো।

তিনি বলেন, এরকম বহু চাপ তো ছিলই। পদ্মা সেতুর আগেতো কম চাপ দেয়া হয়নি। কোন একটা দেশের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী থেকে শুরু করে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে টেলিফোনের পর টেলিফোন এসেছে। হেনো তেনো কারণেও টেলিফোন। একজন ভদ্রলোক একটি ব্যাংকের এমডি, তাকে এমডি পদে রাখতে হবে। আর এই এমডি পদে কি মধু, তাতো আমি জানি না।

তিনি বলেন, আইনে নেই, তবু ৭০ বছর বয়স হয়ে গেলেও, এমডি পদে তাকে থাকতে হবে। এতে একটাই হয় যে, এমডি পদে থাকলে বোধ হয় মানি লন্ডারিং করা যায়, এটাই সুবিধা। পয়সা বানানো যায়, পয়সা মারা যায়, গরিবের রক্ত চুষে খাওয়া যায়। তো সেই চাপও কিন্তু শেখ হাসিনা সহ্য করে চলে এসেছে এবং তারপরেও নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু করে দেখালাম সেই চাপে আমাদের কিছু আসে যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কতগুলো আইন আছে। সে আইন অনুযায়ী সব চলবে এবং সেটা চলে। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। শ্রমিকদের অধিকার আমরা রক্ষা করি, ট্যাক্স বিভাগ আছে আলাদা। তারা সেটি আদায় করে। কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নেয়, শ্রম আদালত আছে। এই ক্ষেত্রে আমার তো কিছু করার নেই সরকার প্রধান হিসেবে। পদ্মা সেতু কিন্তু করে ফেলেছি, এটুকুই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা বিবৃতি না, এটা একটা বিজ্ঞাপন। যে ৪০ জনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে একজন বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে, এর উত্তর কী দেবো, জানি না। আমার একটা প্রশ্ন আছে, যিনি এত নামিদামি নোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত, তারজন্য এই ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে বিজ্ঞাপন দিতে হবে কেন ? তাও আবার বিদেশি পত্রিকায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিরও চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, আমি বিশ্বাস করি, এটা কেউ কিছু করতে পারবে না। হয়তো সাময়িক কিছু একটা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সেটা মোকাবেলা করবে আমাদের দেশের জনগণই।

প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী এই সংবাদ সম্মেলনে কাতার সফরের বিষয়বস্তু ছাড়াও আগামী নির্বাচন,সংলাপ,কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের দৌঁড়ঝাপ, নানামুখী অপতৎরতা, গুজব রটানো, দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা এবং দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তাসহ সাংবাদিকদের নানামুখি প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইসানুল করিম সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন।

এর আগে ৪ থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত স্বল্পোন্নত দেশসমূহের (এলডিসি ৫ : সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) ৫ম জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগদানের পর কাতারের রাজধানী দোহা থেকে দেশে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী।সূত্র:বাসস।