ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি শিশু বক্করের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী ডিবির অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে কষ্টি পাথরসদৃশ বস্তু জব্দ, আটক ১১ যমুনায় ফের ইউরিয়া উৎপাদন শুরু জামালপুরে শরৎকালীন টেনিস টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত এপেক সম্মেলনের আগে কিমের দরজায় কড়া নাড়ছেন ট্রাম্প বন্যার পানিতে ডুবতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করলেন অস্ট্রেলীয় টিভি সাংবাদিক কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে ৪ সেনা নিহত, আহত ৩৯ এআইয়ের মাধ্যমে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত, বিশ্বজুড়ে বন্ধ বহু ওয়েবসাইট সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

আশামনির আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী তামিম গ্রেপ্তার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার স্কুলছাত্রী আশামনির আত্মহত্যা মামলার একমাত্র আসামি তামিম আহমেদ স্বপনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। ১১ মার্চ রাতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধর ইউনিয়নের চরশশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১২ মার্চ দুপুরে তাকে মেলান্দহ থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। মেলান্দহ থানার পুলিশ বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করলে আশামনিকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে তামিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ থানার ওসি।

তামিম জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সাধুপুর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের মো. খোকা মোল্লার ছেলে। ভিকটিম আশামনি একই উপজেলার মেলান্দহ পৌরসভার শাহজাদপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মো. আবু সাঈদের মেয়ে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, তামিম দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আশামনিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ১০ মার্চ স্কুল থেকে ফিরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খাবার খেয়ে ঘুমানোর কথা বলে নিজ ঘরে যায় আশামনি। ঘুম থেকে না ওঠায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মা ঘরে গিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

খবর পেয়ে ১০ মার্চ রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় মেলান্দহ থানার পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই ঘর থেকে ভিকটিম আশামনির হাতে লেখা দুটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে সে লেখে, ‘তামিম তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে।’ এ জন্যই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে তামিম গাঢাকা দেন। ১১ মার্চ জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ভিকটিমের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ভিকটিম মেয়েটির বাবা আবু সাঈদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তামিমকে আসামি করে ১১ মার্চ মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাবের জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘ঘটনার মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা আসামি তামিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে তামিম আশামনি আত্মহত্যার ঘটনার জন্য দায় স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে মেলান্দহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম ময়নুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্রী ভিকটিম আশামনিকে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী তামিম আহমেদ স্বপন খানকে গ্রেপ্তারের পর ১২ মার্চ দুপুরে তাকে মেলান্দহ থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। পরে আজই তাকে জামালপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিয়া আরজু ১৬৪ ধারায় আসামি তামিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। আসামি তামিম তার জবানবন্দিতে ভিকটিম আশামনিকে আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করা এবং ঘটনার দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন। পরে আদালতের আদেশে আসামি তামিমকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি

আশামনির আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী তামিম গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৮:২৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার স্কুলছাত্রী আশামনির আত্মহত্যা মামলার একমাত্র আসামি তামিম আহমেদ স্বপনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪। ১১ মার্চ রাতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধর ইউনিয়নের চরশশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১২ মার্চ দুপুরে তাকে মেলান্দহ থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। মেলান্দহ থানার পুলিশ বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করলে আশামনিকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে তামিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলান্দহ থানার ওসি।

তামিম জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সাধুপুর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের মো. খোকা মোল্লার ছেলে। ভিকটিম আশামনি একই উপজেলার মেলান্দহ পৌরসভার শাহজাদপুর গ্রামের রাজমিস্ত্রি মো. আবু সাঈদের মেয়ে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, তামিম দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আশামনিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ১০ মার্চ স্কুল থেকে ফিরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে খাবার খেয়ে ঘুমানোর কথা বলে নিজ ঘরে যায় আশামনি। ঘুম থেকে না ওঠায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মা ঘরে গিয়ে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

খবর পেয়ে ১০ মার্চ রাতেই তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় মেলান্দহ থানার পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই ঘর থেকে ভিকটিম আশামনির হাতে লেখা দুটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে সে লেখে, ‘তামিম তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে।’ এ জন্যই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে তামিম গাঢাকা দেন। ১১ মার্চ জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে ভিকটিমের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ভিকটিম মেয়েটির বাবা আবু সাঈদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তামিমকে আসামি করে ১১ মার্চ মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাবের জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, ‘ঘটনার মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা আসামি তামিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে তামিম আশামনি আত্মহত্যার ঘটনার জন্য দায় স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে মেলান্দহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম ময়নুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্রী ভিকটিম আশামনিকে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী তামিম আহমেদ স্বপন খানকে গ্রেপ্তারের পর ১২ মার্চ দুপুরে তাকে মেলান্দহ থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। পরে আজই তাকে জামালপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারিয়া আরজু ১৬৪ ধারায় আসামি তামিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। আসামি তামিম তার জবানবন্দিতে ভিকটিম আশামনিকে আগে থেকেই উত্ত্যক্ত করা এবং ঘটনার দিন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছেন। পরে আদালতের আদেশে আসামি তামিমকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।