টানা ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত শেষে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ ‘যমুনা সার কারখানা’য় (জেএফসিএল) ফের ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে কারখানাটিতে পুরোদমে ইউরিয়া সার উৎপাদন চালু করে কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন পর সার কারখানাটি পুনরায় সচল হওয়ার খবরে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমজীবী মানুষ, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সার-নির্ভর কৃষকদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ও আনন্দের আমেজ ফিরে এসেছে।
কারখানার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গ্যাস সংকটের কারণে গত ১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ ছিল যমুনা সার কারখানার উৎপাদন। দীর্ঘ আট মাস উৎপাদন বন্ধ থাকার পর ২০ সেপ্টেম্বর, রবিবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করে। গ্যাস পাওয়ার পর কারখানায় স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু করা হলেও তিতাস কর্তৃক প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ (প্রেসার) না থাকায় কিছুদিন উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পেলে ৭ অক্টোবর, বুধবার রাত থেকে কারখানাটি উৎপাদনে ফেরে। তবে চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় বয়লারে হঠাৎ ছিদ্র দেখা দিলে ৯ অক্টোবর, শুক্রবার থেকে কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কারখানার প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের টানা দুই সপ্তাহের নিবিড় প্রচেষ্টায় যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করা সম্ভব হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যমুনা সার কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, টানা নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে প্রকৌশলীরা বয়লারের ত্রুটি দু’দিন আগেই সম্পূর্ণ নিরসন করতে সক্ষম হন। এরপর আজ গ্যাসের প্রয়োজনীয় চাপ পাওয়া গেলে সকাল ১০টা থেকে কারখানায় পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত জামালপুরের তারাকান্দির এই সার কারখানাটি ১৯৯১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসে। দৈনিক এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই মেগা কারখানাটি জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও রাজবাড়ীসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের ২১ জেলায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরিয়া সার সরবরাহ করে আসছে। কারখানা সচল হওয়ায় আসন্ন মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে সার সংকট দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মমিনুল ইসলাম কিসমত : নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম 


















