পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, গারো পাহাড়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং আপনাদের হাতি। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং হাতি সম্পদকে ব্যবহার করে এই অঞ্চলে বৃহৎ আকারে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে পারে। এতে করে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব বলে আমি মনে করি। গারো পাহাড়ে হাতির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা সম্ভব হলে বন দখলও বন্ধ হবে।
১০ অক্টোবর, শনিবার তিনি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক ও ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, গণমাধ্যমকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে পৃথক দুটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরা বসে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে যা যা করা দরকার তা আমরা যত শিগগির করতে পারব। তাতে করে আপনাদের, আমাদের, সরকার এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানের ১৮ ক অনুযায়ী মানুষের নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা করা আছে। মানুষের অধিকার সংরক্ষণের বিধান আছে। অনুরূপ ১৮ ক অনুযায়ী পরিবেশ, প্রতিবেশ, বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণের বিষয়টিও কিন্তু সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পরে। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষের ঘনত্ব অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। আবার এই এলাকায় যে বন রয়েছে তাতে হাতির সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি রয়েছে। কিন্তু আমরা তো বলতে পারব না যে মানুষগুলো সরিয়ে দেই অথবা হাতিগুলো সরিয়ে দেই।

শেরপুর : প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সহায়তার চেক বিতরণ করেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম
তিনি বলেন, হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসন করে কিভাবে সহাবস্থান করা যায় এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র নিয়ে আমাদের চেয়েও বেশি চিন্তা করেন। এই কারণেই আমরা এখানে এসেছি। শেরপুরের গারো পাহাড়ে হাতির অভয়ারণ্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বনবিভাগের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দুটি মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এতে বক্তব্য রাখেন শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল, ঢাকার বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ. এস. এম জহির উদ্দিন আকন, প্ুিলশ সুপার এ. কে. এম জহিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এস কে সাত্তার, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য লরেন্স দ্রং, ইমতিয়াজ জাবেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুমাইয়া খানম সাবা ও রুফাইদা ইসলাম রদি।
এ সময় জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ, গণমাধ্যম ও পরিবেশকর্মী, ইআরটির সদস্যগণ, উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় হাতির আক্রমণে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপূরণের ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন এবং ৩২টি ইআরটি টিমের সদস্যদের মধ্যে হ্যান্ড মাইক, টর্চ লাইটসহ হাতি তাড়ানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করেন।
এর আগে মন্ত্রী গারো পাহাড়ের নালিতাবাড়ীর ওসমানের খোল ও ঝিনাইগাতীর গজনী বিট অফিসের পশ্চিমে পৃথক দুটি হাতি চলাচলের রাস্তা পরিদর্শন করেন।
মুগনিউর রহমান মনি : নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম 


















