ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের ভিড় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১ লাখ এতিম শিক্ষার্থীকে সহায়তা দেয়া হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল গারো পাহাড়ে অর্ধলক্ষাধিক পুণ্যার্থীর আলোর মিছিল ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সব জেলায় খাদ্যের মান পরীক্ষাগার স্থাপনে জাইকার সহযোগিতা প্রয়োজন : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের

মাদারগঞ্জ মডেল মসজিদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় ৬ লাখ টাকা

মাদারগঞ্জ : মাদারগঞ্জ মডেল মসজিদ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ৩৫ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয় লাখ টাকা। বিপুল অঙ্কের এ বকেয়া বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মসজিদটি ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। উদ্বোধনের প্রায় তিন বছরে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ লাফিয়ে বাড়লেও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখনও তা পরিশোধের উদ্যোগ নেয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিভাগের চাপ সইতে হচ্ছে মসজিদের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের।

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ী বাজারে ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মডেল মসজিদের কার্যক্রম শুরু হয়। মসজিদে আজান, নামাজ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন পেশ ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন এবং দু’জন খাদেম নিয়োগপ্রাপ্ত। তবে শুধু তাদের সম্মানীই ইসলামিক ফাউন্ডেশন বহন করে। মসজিদের অন্যান্য খরচ যেমন পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়, নামাজরত মুসল্লিদের দানের অর্থ দিয়ে চালাতে হয়।

মাদারগঞ্জ : মাদারগঞ্জ মডেল মসজিদ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মডেল মসজিদে রয়েছে একাধিক নামাজের কক্ষ, দামি ঝাড়বাতি, শত শত লাইট, ফ্যান ও এসি, নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক অজুখানা এবং আধুনিক টয়লেটের ব্যবস্থা। অটিজম কর্নার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, ইসলামিক লাইব্রেরি, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, হজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইসলামিক গবেষণা, শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন ও অতিথিশালা। রয়েছে মৃতদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থা।

উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার আসাদুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মডেল মসজিদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। প্রতি মাসে গড়ে ১৫-২০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে, কিন্তু মুসল্লিদের দান থেকে প্রতি মাসে আয় হয় মাত্র দুই-তিন হাজার টাকা। বালিজুড়ী বাজারে একাধিক মসজিদ থাকায় এবং বাজার থেকে একটু দূরে মডেল মসজিদ নির্মাণে মুসল্লির সমাগম কম বলে দানের অর্থের পরিমাণও কম হয় বলে জানান তিনি।

পল্লী বিদ্যুতের মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, মডেল মসজিদের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি। দিন দিন বকেয়া বিলের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছি। মডেল মসজিদের বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। যা একবারে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। মসজিদের আয় বৃদ্ধি এবং বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন

মাদারগঞ্জ মডেল মসজিদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় ৬ লাখ টাকা

আপডেট সময় ০৮:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ৩৫ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ছয় লাখ টাকা। বিপুল অঙ্কের এ বকেয়া বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মসজিদটি ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। উদ্বোধনের প্রায় তিন বছরে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ লাফিয়ে বাড়লেও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখনও তা পরিশোধের উদ্যোগ নেয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিভাগের চাপ সইতে হচ্ছে মসজিদের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের।

উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ী বাজারে ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মডেল মসজিদের কার্যক্রম শুরু হয়। মসজিদে আজান, নামাজ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন পেশ ইমাম, একজন মুয়াজ্জিন এবং দু’জন খাদেম নিয়োগপ্রাপ্ত। তবে শুধু তাদের সম্মানীই ইসলামিক ফাউন্ডেশন বহন করে। মসজিদের অন্যান্য খরচ যেমন পরিচ্ছন্নতা, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়, নামাজরত মুসল্লিদের দানের অর্থ দিয়ে চালাতে হয়।

মাদারগঞ্জ : মাদারগঞ্জ মডেল মসজিদ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মডেল মসজিদে রয়েছে একাধিক নামাজের কক্ষ, দামি ঝাড়বাতি, শত শত লাইট, ফ্যান ও এসি, নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক অজুখানা এবং আধুনিক টয়লেটের ব্যবস্থা। অটিজম কর্নার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, ইসলামিক লাইব্রেরি, ইমাম ট্রেনিং সেন্টার, হজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইসলামিক গবেষণা, শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসন ও অতিথিশালা। রয়েছে মৃতদেহ গোসল ও কফিন বহনের ব্যবস্থা।

উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার আসাদুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মডেল মসজিদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। প্রতি মাসে গড়ে ১৫-২০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে, কিন্তু মুসল্লিদের দান থেকে প্রতি মাসে আয় হয় মাত্র দুই-তিন হাজার টাকা। বালিজুড়ী বাজারে একাধিক মসজিদ থাকায় এবং বাজার থেকে একটু দূরে মডেল মসজিদ নির্মাণে মুসল্লির সমাগম কম বলে দানের অর্থের পরিমাণও কম হয় বলে জানান তিনি।

পল্লী বিদ্যুতের মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. ওবায়দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, মডেল মসজিদের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়নি। দিন দিন বকেয়া বিলের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছি। মডেল মসজিদের বিপুল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। যা একবারে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। মসজিদের আয় বৃদ্ধি এবং বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।