ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪ বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার আহ্বান ল্যানসেটের দুর্নীতি ও দাবানল মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে শেরপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ জামালপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ নিরাপদ সড়কের জন্য রোড-শো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে শুশুক

মাদারগঞ্জের যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া শুশুক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মাদারগঞ্জের যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া শুশুক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জাহিদুর রহমান উজ্জল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জের যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল জাতের শুশুক। ২১ আগস্ট সকালে যমুনা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরতে যাওয়া প্রদীপ আরকাটির জালে ধরা পড়ে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের একটি বিরল জাতের শুশুক। ধুসর রঙ্গ এর এই শুশুকটি দেখতে ভীড় করে এলাকবাসী। অনেকে এই শুশুকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

যমুনা নদীর মাছ ব্যবসায়ী সুবাহান মিয়া জানান, শুশুকটিকে আরকাটির পেশাদার মাছ শিকারীর লোকজন এটাকে হত্যা করে এর তেল তৈরি করে। যা তারা দিয়ে অন্যান্য মাছ শিকার করে থাকে।

যমুনা নদীর নিয়মিত মাছ শিকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যমুনা নদীতে কয়েক যোগ আগেও শত শত শুশুকদের দেখা পাওয়া যেত। খরস্্েরাতা নদীতে “ডুব সাঁতার” খেলতো। কিন্তু কিছু দিন ধরে এদের সংখ্যা কমে গেছে। তবুও মাঝে মাঝে যমুনার গভীর জলে কয়েকটি শুশুক দেখা যায়। তারা জানান, মাছ শিকারীদের একটি দল যারা স্থানীয়ভাবে আনকাটি নামে পরিচিত তারা বড় বড় পাগলা বড়শি ও বিশেষ জালে শুশুক শিকার করে থাকে। এবং সেটাকে হত্যা করে বিশেষ তেল তৈরি করে, এই তেল দিয়ে বাঁচা ও ঘাড়িয়া মাছ শিকার করে। তাদের হাতেও প্রতিবছর অনেক শুশুক নিধন হয়।

শুশুক সম্পর্কে জানা যায়, একটি স্তন্যপায়ী জলজ প্রাণি। বাংলাদেশে এটা বিপন্ন হিসাবে পরিচিত। দেশে ২ ধরনের শুশুক পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে জামালপুরের পরিবেশৎকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, শুশুক দেশের জলজ প্রাণির অন্যতম। এটা বিপন্ন তালিকায় এক নম্বরে। তাই পবিবেশ এবং জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় এটাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। কোন ক্রমেই এটা শিকার বা হত্যা কার যাবে না। এটা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। যারা এই কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা হতে পারে। যমুনা নদীতে গত দশকে যে পরিমাণ শুশুক দেখা মিলতো এখন তা প্রায় বিপন্ন। একশ্রেণির লোভী মৎস্য শিকারীদের হাতে প্রতিবছর অনেক শুশুক শিকার ও হত্যা হয়। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি দাবি জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে শুশুক

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অগাস্ট ২০২১
মাদারগঞ্জের যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া শুশুক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জাহিদুর রহমান উজ্জল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জের যমুনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিরল জাতের শুশুক। ২১ আগস্ট সকালে যমুনা নদীতে নিয়মিত মাছ ধরতে যাওয়া প্রদীপ আরকাটির জালে ধরা পড়ে প্রায় ১৫ কেজি ওজনের একটি বিরল জাতের শুশুক। ধুসর রঙ্গ এর এই শুশুকটি দেখতে ভীড় করে এলাকবাসী। অনেকে এই শুশুকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

যমুনা নদীর মাছ ব্যবসায়ী সুবাহান মিয়া জানান, শুশুকটিকে আরকাটির পেশাদার মাছ শিকারীর লোকজন এটাকে হত্যা করে এর তেল তৈরি করে। যা তারা দিয়ে অন্যান্য মাছ শিকার করে থাকে।

যমুনা নদীর নিয়মিত মাছ শিকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যমুনা নদীতে কয়েক যোগ আগেও শত শত শুশুকদের দেখা পাওয়া যেত। খরস্্েরাতা নদীতে “ডুব সাঁতার” খেলতো। কিন্তু কিছু দিন ধরে এদের সংখ্যা কমে গেছে। তবুও মাঝে মাঝে যমুনার গভীর জলে কয়েকটি শুশুক দেখা যায়। তারা জানান, মাছ শিকারীদের একটি দল যারা স্থানীয়ভাবে আনকাটি নামে পরিচিত তারা বড় বড় পাগলা বড়শি ও বিশেষ জালে শুশুক শিকার করে থাকে। এবং সেটাকে হত্যা করে বিশেষ তেল তৈরি করে, এই তেল দিয়ে বাঁচা ও ঘাড়িয়া মাছ শিকার করে। তাদের হাতেও প্রতিবছর অনেক শুশুক নিধন হয়।

শুশুক সম্পর্কে জানা যায়, একটি স্তন্যপায়ী জলজ প্রাণি। বাংলাদেশে এটা বিপন্ন হিসাবে পরিচিত। দেশে ২ ধরনের শুশুক পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে জামালপুরের পরিবেশৎকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, শুশুক দেশের জলজ প্রাণির অন্যতম। এটা বিপন্ন তালিকায় এক নম্বরে। তাই পবিবেশ এবং জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় এটাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। কোন ক্রমেই এটা শিকার বা হত্যা কার যাবে না। এটা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। যারা এই কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা হতে পারে। যমুনা নদীতে গত দশকে যে পরিমাণ শুশুক দেখা মিলতো এখন তা প্রায় বিপন্ন। একশ্রেণির লোভী মৎস্য শিকারীদের হাতে প্রতিবছর অনেক শুশুক শিকার ও হত্যা হয়। তাই এ ব্যাপারে প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি দাবি জানান।