ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান সাংবাদিক আবুল কাশেমের বাসায় চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট! যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৭০ আসন ও ১২ বিলিয়ন ডলারের লড়াই কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ, এম এ রশীদ হাসপাতালের দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেরপুরে এবার ধুম কাছিম উদ্ধার ও অবমুক্ত জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে সিডসের শিখন বিনিময় সফরে এসে সন্তুষ্ট কারিতাস দল

গাছ কাটতে লাগবে অনুমতি : হাইকোর্টের রায়

গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে বলে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে গ্রাম পর্যায়ে ব্যক্তি মালিকানার গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে না বলে জানিয়েছেন রিটের পক্ষের আইনজীবী।

গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে জনস্বার্থে করা রিটের রুল যথাযথ ঘোষণা করে ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও সেলিম রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শফিকুর রহমান।

আজকের এই রায়ের বিষয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এই রায়ের ফলে গাছ কাটতে অনুমতি নিতে হবে কমিটি থেকে। ঢাকা ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সাতদিনের মধ্যে ঢাকায় কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত। পরিবেশবাদী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।

আর জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে জনপ্রশাসন সচিবকে সাত দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর জেলা প্রশাসকের নেতৃতে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি করতে বলা হয়েছে।

জেলা কমিটিতে জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক, স্থানীয় সমাজকর্মী, পরিবেশবিদ বা বিশেষজ্ঞ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক এবং সিভিল সার্জনকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।

আর উপজেলা কমিটিতে স্থানীয় একটি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে রাখতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, আদালত রায়ে বলেছেন, দেশে দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গাছ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। নির্বিচারে গাছ কাটা হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে, যা আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারকে খর্ব করছে। পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য যে পরিমাণ গাছ বা বনায়ন দেশে থাকা প্রয়োজন সে পরিমাণ গাছ বা বনায়ন নেই। ফলে গাছ রক্ষা করা খুবই জরুরি।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, ‘কমিটি গঠনের নির্দেশনার পাশাপাশি ২০২৪ সালে প্রণীত সামাজিক বনায়ন বিধিমালায় সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা সংক্রান্ত একটি বিধান পরিবর্তন করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

আদালত ‘সামজিক বনায়নের গাছ না কেটে গাছের বাজার মূল্য নির্ধারণ করে সে টাকা নির্বাচিত উপকারভোগীদের (ভূমিহীন, দুস্থ মহিলা, অনগ্রসর গোষ্ঠী, দরিদ্র আসিবাসী, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাসহ আরও অনেকেই) দেওয়ার বিধান সামাজিক বনায়ন বিধিমালায় যুক্ত করতে বলেছেন।’

এক প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের গাছ কাটাই যাবে না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যেকোনো গাছ কাটতে কমিটির অনুমতি লাগবে। তবে গ্রাম পর্যায়ে ব্যক্তি মালিকানার গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে না বলে জানান এই আইনজীবী।’সূত্র:বাসস।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি

গাছ কাটতে লাগবে অনুমতি : হাইকোর্টের রায়

আপডেট সময় ০৯:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে বলে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে গ্রাম পর্যায়ে ব্যক্তি মালিকানার গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে না বলে জানিয়েছেন রিটের পক্ষের আইনজীবী।

গাছ কাটা নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে জনস্বার্থে করা রিটের রুল যথাযথ ঘোষণা করে ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এই রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও সেলিম রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শফিকুর রহমান।

আজকের এই রায়ের বিষয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এই রায়ের ফলে গাছ কাটতে অনুমতি নিতে হবে কমিটি থেকে। ঢাকা ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সাতদিনের মধ্যে ঢাকায় কমিটি গঠন করতে বলেছেন আদালত। পরিবেশবাদী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।

আর জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে জনপ্রশাসন সচিবকে সাত দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর জেলা প্রশাসকের নেতৃতে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি করতে বলা হয়েছে।

জেলা কমিটিতে জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক, স্থানীয় সমাজকর্মী, পরিবেশবিদ বা বিশেষজ্ঞ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক এবং সিভিল সার্জনকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।

আর উপজেলা কমিটিতে স্থানীয় একটি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে রাখতে বলা হয়েছে।

রিটের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, আদালত রায়ে বলেছেন, দেশে দিন দিন তাপমাত্রা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে গাছ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। নির্বিচারে গাছ কাটা হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে, যা আমাদের বেঁচে থাকার অধিকারকে খর্ব করছে। পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য যে পরিমাণ গাছ বা বনায়ন দেশে থাকা প্রয়োজন সে পরিমাণ গাছ বা বনায়ন নেই। ফলে গাছ রক্ষা করা খুবই জরুরি।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, ‘কমিটি গঠনের নির্দেশনার পাশাপাশি ২০২৪ সালে প্রণীত সামাজিক বনায়ন বিধিমালায় সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা সংক্রান্ত একটি বিধান পরিবর্তন করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

আদালত ‘সামজিক বনায়নের গাছ না কেটে গাছের বাজার মূল্য নির্ধারণ করে সে টাকা নির্বাচিত উপকারভোগীদের (ভূমিহীন, দুস্থ মহিলা, অনগ্রসর গোষ্ঠী, দরিদ্র আসিবাসী, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাসহ আরও অনেকেই) দেওয়ার বিধান সামাজিক বনায়ন বিধিমালায় যুক্ত করতে বলেছেন।’

এক প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের গাছ কাটাই যাবে না। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যেকোনো গাছ কাটতে কমিটির অনুমতি লাগবে। তবে গ্রাম পর্যায়ে ব্যক্তি মালিকানার গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে না বলে জানান এই আইনজীবী।’সূত্র:বাসস।