ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মাননা ও উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ ইসলামপুরে নৌকা বাইচের পর এক ব্যক্তির মৃত্যু সাংবাদিক আলিফ হত্যা : বকশীগঞ্জে প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা : তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার চাইতে বেশি হওয়ায় শ্রীলঙ্কায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদায় নিতে হলো ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিবকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার উপযুক্ত পোপ লিও: চিকিৎসকরা

শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ সহিংসতার দ্বিতীয় রাতে বিক্ষিপ্ত অগ্নিসংযোগের পর শ্রীলঙ্কার পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক শীর্ষ কর্মকর্তা বুধবার এএফপি’কে এ কথা জানান।

পুলিশ বলেছে, সহিংসতায় সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের হতাশা থেকে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

এমনকি বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্যকে আরো সহিংসতা এড়াতে ‘দেখা মাত্র গুলির’ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের আত্মীয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আগুন দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এটি আর স্বতঃস্ফূর্ত ক্রোধ নয়, বরং সংঘবদ্ধ সহিংসতা। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয় তাহলে পুরোপুরি নৈরাজ্যের দিকে যেতে পারে।’

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, ৮৫ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনীকে ‘আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহন করতে বলা হয়েছে’ এবং গোলযোগকারীদের বিরুদ্ধে লাইভ গোলাবারুদ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার সহিংসতা শুরু হওয়ার পরপরই জারি করা কারফিউ বুধবার সকালে তুলে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সহিংসতার কারণে তা আরো ২৪ ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, হোটেলে আগুনের পাশাপাশি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা যানবাহনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দু’টি স্থানে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের টার্গেটে থাকা বেশ কয়েকজন বিচারকের নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান এবং প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ে রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবীতে কয়েক সপ্তাহধরে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অংশ হিসেবে সোমবার কলম্বোতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সরকার সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধ আক্রমন চালায়। এতে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এর পর জনতা গভীর রাত পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের কয়েক ডজন নেতার বাড়িতে তারা আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিক্ষোভকারীরা ঝড়ের বেগে রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ঢ়ুকে পড়ার চেষ্টা চালায়।

প্রেসিডেন্টের ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের কয়েক ঘন্টার মধ্যে জনতা তার বাসভবনে হামলা চালায়, মঙ্গলবার ভোরের আগে এক সামরিক অভিযানে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে বাসভবন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

শ্রীলঙ্কা অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলার ফুরিয়ে যাওয়ায় সংকট এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার বলেছে, ‘তারা ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং সেনা মোতায়েনের বিষয়ে উভয়ই উদ্বিগ্ন।’

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা জোর দিচ্ছি যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কখনোই সহিংসতা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। তা সামরিক বাহিনী বা বেসাসরিক ইউনিটের যে পক্ষ থেকেই হোক না কেন।’

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি

শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ

আপডেট সময় ০৪:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মে ২০২২

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ সহিংসতার দ্বিতীয় রাতে বিক্ষিপ্ত অগ্নিসংযোগের পর শ্রীলঙ্কার পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক শীর্ষ কর্মকর্তা বুধবার এএফপি’কে এ কথা জানান।

পুলিশ বলেছে, সহিংসতায় সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের হতাশা থেকে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

এমনকি বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্যকে আরো সহিংসতা এড়াতে ‘দেখা মাত্র গুলির’ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা রাজাপাকসের আত্মীয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আগুন দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এটি আর স্বতঃস্ফূর্ত ক্রোধ নয়, বরং সংঘবদ্ধ সহিংসতা। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয় তাহলে পুরোপুরি নৈরাজ্যের দিকে যেতে পারে।’

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, ৮৫ হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনীকে ‘আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহন করতে বলা হয়েছে’ এবং গোলযোগকারীদের বিরুদ্ধে লাইভ গোলাবারুদ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার সহিংসতা শুরু হওয়ার পরপরই জারি করা কারফিউ বুধবার সকালে তুলে নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সহিংসতার কারণে তা আরো ২৪ ঘন্টা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, হোটেলে আগুনের পাশাপাশি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা যানবাহনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দু’টি স্থানে ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

পুলিশ বিক্ষোভকারীদের টার্গেটে থাকা বেশ কয়েকজন বিচারকের নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান এবং প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ে রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবীতে কয়েক সপ্তাহধরে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অংশ হিসেবে সোমবার কলম্বোতে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে সরকার সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে সংঘবদ্ধ আক্রমন চালায়। এতে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

এর পর জনতা গভীর রাত পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের কয়েক ডজন নেতার বাড়িতে তারা আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিক্ষোভকারীরা ঝড়ের বেগে রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ঢ়ুকে পড়ার চেষ্টা চালায়।

প্রেসিডেন্টের ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের কয়েক ঘন্টার মধ্যে জনতা তার বাসভবনে হামলা চালায়, মঙ্গলবার ভোরের আগে এক সামরিক অভিযানে মাহিন্দা রাজাপাকসেকে বাসভবন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

শ্রীলঙ্কা অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলার ফুরিয়ে যাওয়ায় সংকট এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার বলেছে, ‘তারা ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং সেনা মোতায়েনের বিষয়ে উভয়ই উদ্বিগ্ন।’

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা জোর দিচ্ছি যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের কখনোই সহিংসতা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। তা সামরিক বাহিনী বা বেসাসরিক ইউনিটের যে পক্ষ থেকেই হোক না কেন।’