ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান সাংবাদিক আবুল কাশেমের বাসায় চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট! যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৭০ আসন ও ১২ বিলিয়ন ডলারের লড়াই কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ, এম এ রশীদ হাসপাতালের দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেরপুরে এবার ধুম কাছিম উদ্ধার ও অবমুক্ত জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে সিডসের শিখন বিনিময় সফরে এসে সন্তুষ্ট কারিতাস দল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান : আকাশের দিকে তাকিয়ে এক শহিদের স্ত্রীর আকুতি

সরিষাবাড়ী : বক্তব্য রাখেন শহিদ রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

শহিদ রবিউল ইসলাম। জুলাই মাসের সেই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো হাজারো তরুণের একজন। তার মৃত্যুর পর থেকেই শোকের অন্ধকারে ডুবে আছে তার পরিবার।

৫ আগস্ট, বুধবার জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে হল মিলনায়তনে জুলাই-গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শহিদ রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী। তার আবেগঘন বক্তব্য সবার দৃষ্টি কাড়ে।

​বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠে শহিদ রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, আজ তো সবাই আছে। কিন্তু আমার মেয়ের বাবা নেই। রবিউলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই তাদের মেয়ে শুধু একটিই প্রশ্ন করছে, মা, আমার বাবা কেন আসছে না? কখন আসবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রবিউলের স্ত্রী আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি তার কথার জবাব দিতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।

​রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি শহিদ হয়েছেন। দিয়ে গেছেন নতুন এক বাংলাদেশ। সেটি বুকে ধারণ করতে হবে। তার সম্মান রাখতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে রবিউল শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, তিনি বলেছিলেন, দেশের মানুষের জন্য তিনি কিছু করতে চান। তিনি তা করে দেখিয়েছেন।

​রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী জানান, রবিউল যখন আন্দোলনে যান, তখন তিনি তাদের মেয়েকে মজা এনে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, তিনি মেয়েকে মজা এনে দেওয়ার কথা বলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছেন। আজ তিনি আর নেই। কিন্তু তার মেয়ে এখনও অপেক্ষা করছে তার মজার জন্য। রবিউলের মৃত্যুর পর থেকে তার মেয়েকে মজা দিতে কার্পণ্য করছেন সবাই। নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, যিনি মেয়েকে মজা এনে দেওয়ার কথা বলে মেয়ের বাবা আন্দোলনে শহিদ হলেন, সেই মেয়েকে একটা ফুলের স্টিক পর্যন্ত হাতে দিতে কার্পণ্য করছেন সবাই।

​নাজমুন নাহার লাবনী তার বক্তৃতার শেষে জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ সবাইকে ধারণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, রবিউলসহ আরও হাজারও তরুণ দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তাদের ত্যাগ আমরা ভুলে যেতে পারি না। আমাদের সবার উচিত তাদের ত্যাগ বুকে ধারণ করে দেশের জন্য কিছু করা।
​
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানার সভাপতিত্বে এতে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আহত যোদ্ধা, উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান : আকাশের দিকে তাকিয়ে এক শহিদের স্ত্রীর আকুতি

আপডেট সময় ০৮:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

শহিদ রবিউল ইসলাম। জুলাই মাসের সেই গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো হাজারো তরুণের একজন। তার মৃত্যুর পর থেকেই শোকের অন্ধকারে ডুবে আছে তার পরিবার।

৫ আগস্ট, বুধবার জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে হল মিলনায়তনে জুলাই-গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শহিদ রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী। তার আবেগঘন বক্তব্য সবার দৃষ্টি কাড়ে।

​বক্তব্য দিতে মঞ্চে উঠে শহিদ রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, আজ তো সবাই আছে। কিন্তু আমার মেয়ের বাবা নেই। রবিউলের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই তাদের মেয়ে শুধু একটিই প্রশ্ন করছে, মা, আমার বাবা কেন আসছে না? কখন আসবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রবিউলের স্ত্রী আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, আমি তার কথার জবাব দিতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।

​রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি শহিদ হয়েছেন। দিয়ে গেছেন নতুন এক বাংলাদেশ। সেটি বুকে ধারণ করতে হবে। তার সম্মান রাখতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে রবিউল শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, তিনি বলেছিলেন, দেশের মানুষের জন্য তিনি কিছু করতে চান। তিনি তা করে দেখিয়েছেন।

​রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার লাবনী জানান, রবিউল যখন আন্দোলনে যান, তখন তিনি তাদের মেয়েকে মজা এনে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, তিনি মেয়েকে মজা এনে দেওয়ার কথা বলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছেন। আজ তিনি আর নেই। কিন্তু তার মেয়ে এখনও অপেক্ষা করছে তার মজার জন্য। রবিউলের মৃত্যুর পর থেকে তার মেয়েকে মজা দিতে কার্পণ্য করছেন সবাই। নাজমুন নাহার লাবনী বলেন, যিনি মেয়েকে মজা এনে দেওয়ার কথা বলে মেয়ের বাবা আন্দোলনে শহিদ হলেন, সেই মেয়েকে একটা ফুলের স্টিক পর্যন্ত হাতে দিতে কার্পণ্য করছেন সবাই।

​নাজমুন নাহার লাবনী তার বক্তৃতার শেষে জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ সবাইকে ধারণ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, রবিউলসহ আরও হাজারও তরুণ দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তাদের ত্যাগ আমরা ভুলে যেতে পারি না। আমাদের সবার উচিত তাদের ত্যাগ বুকে ধারণ করে দেশের জন্য কিছু করা।
​
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানার সভাপতিত্বে এতে জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আহত যোদ্ধা, উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।