ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

যমুনার বাঁধ নির্মাণ হলেই বন্যায় রক্ষা পাবে দুই লাখ মানুষ

ইসলামপুর : যমুনার বাঁধ নির্মাণ হলে বন্যায় রক্ষা পাবে দুই লাখ মানুষ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীর বাঁধ নির্মাণ হলেই বন্যায় রক্ষা পাবে তিন উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ।

চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ী থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত যমুনা নদীর মাত্র ছয় কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর বন্যায় প্লাবিত হয় ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলা। এতে তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হন অন্তত দুই লাখ মানুষ।

জানা গেছে, নদীভাঙন থেকে রক্ষাকবজ যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উপর স্থায়ী বাঁধ হলেও দুই পাশে বাকি থাকায় যমুনার ফুঁসে উঠা পানি পাইলিংয়ের উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। পানি প্রবল স্রোতে  বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ড ও ঘরবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। বন্যা চলে গেলেও ক্ষত নিয়ে সারা বছর মানবেতর জীবন যাপন করে থাকে তিন উপজেলার মানুষ।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের নৌ-টার্মিনাল হয়ে বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত এবং চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া পর্যন্ত যমুনা নদীর মাত্র ছয় কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ বাকি অংশটুকু নির্মাণ করা হলে বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে বাড়ি-ঘর, রাস্তা সেতু-কালভার্টসহ তিন ফসলি জমি ও উপজেলার মানুষ।

বিগত সরকার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উপর দিয়ে শত কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ করলেও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের নৌ-টার্মিনাল হয়ে বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত এবং চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা আজও অরক্ষিত রয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি বাড়লেই ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ও সদর ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম এবং মেলান্দহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের আরও প্রায় ৩০টি গ্রাম ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, রেলওয়ে স্টেশনসহ পৌর শহরের ১০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়। প্রতি বছর অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।

ইসলামপুর : যমুনার বাঁধ নির্মাণ হলে বন্যায় রক্ষা পাবে দুই লাখ মানুষ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তাদের অভিযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর উপজেলার শশারিয়াবাড়ী থেকে চিনাডুলী ইউনিয়নের সিংভাঙ্গা পর্যন্ত বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু গিলাবাড়ী থেকে উলিয়া পর্যন্ত অংশটি বাদ পড়ে গেছে।

উলিয়া এলাকার ওয়ারেছ আলী বলেন, যমুনা নদীর মুখে লাগাম দিতে এই ছয় কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলে তিন উপজেলার অন্তত ৬০টি গ্রাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষকের তিনটি ফসল ঘরে উঠবে।

ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কিছু অংশে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের অভাবে গিলাবাড়ি থেকে উলিয়া পর্যন্ত ও বালুগ্রাম থেকে ইসলামপুর সীমানা পর্যন্ত এলাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, নদীভাঙন অনেকাংশে রোধ করা গেছে। তবে যমুনার নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় হঠাৎ নদী ফুলে উঠে। ফলে বিচ্ছিন্ন ভাঙন ও তীব্র বন্যা দেখা দেয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু এ প্রতিবেদককে বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

যমুনার বাঁধ নির্মাণ হলেই বন্যায় রক্ষা পাবে দুই লাখ মানুষ

আপডেট সময় ১১:১৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় যমুনা নদীর বাঁধ নির্মাণ হলেই বন্যায় রক্ষা পাবে তিন উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ।

চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ী থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত যমুনা নদীর মাত্র ছয় কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর বন্যায় প্লাবিত হয় ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলা। এতে তলিয়ে যায় হাজার হাজার একর ফসলি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত হন অন্তত দুই লাখ মানুষ।

জানা গেছে, নদীভাঙন থেকে রক্ষাকবজ যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উপর স্থায়ী বাঁধ হলেও দুই পাশে বাকি থাকায় যমুনার ফুঁসে উঠা পানি পাইলিংয়ের উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। পানি প্রবল স্রোতে  বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট, সেতু-কালভার্ড ও ঘরবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে। বন্যা চলে গেলেও ক্ষত নিয়ে সারা বছর মানবেতর জীবন যাপন করে থাকে তিন উপজেলার মানুষ।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের নৌ-টার্মিনাল হয়ে বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত এবং চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া পর্যন্ত যমুনা নদীর মাত্র ছয় কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ বাকি অংশটুকু নির্মাণ করা হলে বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে বাড়ি-ঘর, রাস্তা সেতু-কালভার্টসহ তিন ফসলি জমি ও উপজেলার মানুষ।

বিগত সরকার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় যমুনার বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উপর দিয়ে শত কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ করলেও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের নৌ-টার্মিনাল হয়ে বালাগ্রাম থেকে ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকা পর্যন্ত এবং চিনাডুলী ইউনিয়নের গিলাবাড়ি থেকে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা আজও অরক্ষিত রয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি বাড়লেই ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ও সদর ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম এবং মেলান্দহ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের আরও প্রায় ৩০টি গ্রাম ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, রেলওয়ে স্টেশনসহ পৌর শহরের ১০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়। প্রতি বছর অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।

ইসলামপুর : যমুনার বাঁধ নির্মাণ হলে বন্যায় রক্ষা পাবে দুই লাখ মানুষ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

তাদের অভিযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর উপজেলার শশারিয়াবাড়ী থেকে চিনাডুলী ইউনিয়নের সিংভাঙ্গা পর্যন্ত বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু গিলাবাড়ী থেকে উলিয়া পর্যন্ত অংশটি বাদ পড়ে গেছে।

উলিয়া এলাকার ওয়ারেছ আলী বলেন, যমুনা নদীর মুখে লাগাম দিতে এই ছয় কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলে তিন উপজেলার অন্তত ৬০টি গ্রাম বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষকের তিনটি ফসল ঘরে উঠবে।

ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে কিছু অংশে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের অভাবে গিলাবাড়ি থেকে উলিয়া পর্যন্ত ও বালুগ্রাম থেকে ইসলামপুর সীমানা পর্যন্ত এলাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, নদীভাঙন অনেকাংশে রোধ করা গেছে। তবে যমুনার নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষায় হঠাৎ নদী ফুলে উঠে। ফলে বিচ্ছিন্ন ভাঙন ও তীব্র বন্যা দেখা দেয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু এ প্রতিবেদককে বলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।