ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী : মানবিক ও নিরাপদ দেশ গড়ার আহ্বান আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

জামালপুরে প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলস্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য’শীর্ষক অনুষ্ঠিত হয়। জামালপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনার উদ্বোধন করেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকোনুল ইসলাম। সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপনা করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু ইলিয়াস মল্লিক।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন, জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার স্বাগত সাহা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কামরুন্নাহার, সাংবাদিক মো. খোরশেদ আলম, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রিনা বেগম, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নাছিমা প্রমুখ।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন।

কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বলেন, এটা অনস্বীকার্য যে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বহনে সরকারি সহায়তা প্রদানের ফলে প্রতিবন্ধী শিশু এবং তাদের পরিবার শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার আন্তর্জাতিক ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৪ ও ৫ পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সকলপর্যায়ে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। সর্বোপরি, এই কর্মসূচির দরুণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তার সক্ষমতা অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার সুযোগ লাভ করছে।

জামালপুর : সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ধারণাপত্র থেকে চারটি ফলাফল ও তাৎপর্য রয়েছে। সেগুলো হলো-

১. শিক্ষা প্রবেশাধিকারে সহায়তা: অর্থনৈতিক কারণে বহু প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষাজীবনে প্রবেশ করতে পারে না বা মাঝপথে ছিটকে পড়ে। উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রাথমিক খরচ, যেমন বই-খাতা-কলম, ইউনিফর্ম, ও যাতায়াত ইত্যাদির ব্যয় নির্বাহ সহজ হয়। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

২. সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধি : প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের দরুণ প্রতিবন্ধী শিশুরা আত্মাবিশ্বাসী হচ্ছে এবং সমাজে তাদের নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ পেয়ে সমাজে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে সমাজে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার হ্রাস পাচ্ছে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটছে।

৩. সামাজিকীকরণ : নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মেলামেশার দরুন প্রতিবন্ধী সামাজিক দক্ষতা ও প্রজ্ঞা অর্জন করছে। যা পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসাবে বিকশিত হওয়ার ভিত্তি বলে বিবেচিত হয়।

৪. আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন : জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সনদ (UNCRPD) এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর (SDG)-এর লক্ষ্যমাত্রা ৪.৫ এর আওতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সক্ষম হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী : সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল

প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ১১:০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

জামালপুরে প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলস্রোতধারায় অন্তর্ভুক্তিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির তাৎপর্য’শীর্ষক অনুষ্ঠিত হয়। জামালপুর সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ৬ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার জামালপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনার উদ্বোধন করেন জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকোনুল ইসলাম। সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপনা করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু ইলিয়াস মল্লিক।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন, জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার স্বাগত সাহা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কামরুন্নাহার, সাংবাদিক মো. খোরশেদ আলম, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রিনা বেগম, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নাছিমা প্রমুখ।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন।

কর্মসূচির তাৎপর্য তুলে ধরে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বলেন, এটা অনস্বীকার্য যে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বহনে সরকারি সহায়তা প্রদানের ফলে প্রতিবন্ধী শিশু এবং তাদের পরিবার শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার আন্তর্জাতিক ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ৪ ও ৫ পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সকলপর্যায়ে সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। সর্বোপরি, এই কর্মসূচির দরুণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তার সক্ষমতা অনুযায়ী বিকশিত হওয়ার সুযোগ লাভ করছে।

জামালপুর : সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ধারণাপত্র থেকে চারটি ফলাফল ও তাৎপর্য রয়েছে। সেগুলো হলো-

১. শিক্ষা প্রবেশাধিকারে সহায়তা: অর্থনৈতিক কারণে বহু প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষাজীবনে প্রবেশ করতে পারে না বা মাঝপথে ছিটকে পড়ে। উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রাথমিক খরচ, যেমন বই-খাতা-কলম, ইউনিফর্ম, ও যাতায়াত ইত্যাদির ব্যয় নির্বাহ সহজ হয়। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

২. সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধি : প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের দরুণ প্রতিবন্ধী শিশুরা আত্মাবিশ্বাসী হচ্ছে এবং সমাজে তাদের নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এই শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ পেয়ে সমাজে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে সমাজে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার হ্রাস পাচ্ছে। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটছে।

৩. সামাজিকীকরণ : নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাতায়াত ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মেলামেশার দরুন প্রতিবন্ধী সামাজিক দক্ষতা ও প্রজ্ঞা অর্জন করছে। যা পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসাবে বিকশিত হওয়ার ভিত্তি বলে বিবেচিত হয়।

৪. আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন : জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সনদ (UNCRPD) এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এর (SDG)-এর লক্ষ্যমাত্রা ৪.৫ এর আওতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সক্ষম হচ্ছে।