ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান সাংবাদিক আবুল কাশেমের বাসায় চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট! যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: ৪৭০ আসন ও ১২ বিলিয়ন ডলারের লড়াই কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক জরায়ু কেটে ফেলার অভিযোগ, এম এ রশীদ হাসপাতালের দুই ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শেরপুরে এবার ধুম কাছিম উদ্ধার ও অবমুক্ত জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী জামালপুরে সিডসের শিখন বিনিময় সফরে এসে সন্তুষ্ট কারিতাস দল

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ১৬২ জন নিহত

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভাতে ভূমিকম্পে ১৬২ জন নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে থাকা জীবিতদের সন্ধান করছে। এতে শত শত লোক আহত হয়েছে এবং ধসে পড়া ভবনে আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার ভূস্তরের অগভীর ৫.৬-মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্র স্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর শহরের কাছে, যেখানে নিহতদের বেশীরভাগ ভবন ও ভূমিধসে মারা গেছে এবং সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চূর্ণবিচূর্ণ বিল্ডিং থেকে মৃতদেহগুলো বের করে আনার সাথে সাথে নিখোঁজদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার প্রচেষ্টার দিকে জোর দেয়া হয়। ভূমিকম্পের কারণে শহরের রাস্তাগুলোতে বিক্ষিপ্ত প্রতিরন্ধকতার কারণে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে এমন এলাকায় ধ্বংসাবশেষের নীচে এখনও বেঁচে থাকা লোকদের উদ্ধার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কয়েক ডজন উদ্ধারকারীদের মধ্যে একজন, ৩৪ বছর বয়সী ডিমাস রেভিয়ানস্যাহ বলেছেন, উদ্ধারকারী দল ধ্বংসাবশেষের স্তুপ ভেঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের আটকে থাকা জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন ‘গতকাল থেকে আমি মোটেও ঘুমাইনি। তবে আমাকে অবশ্যই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কারণ এমন লোক এখনো রয়েছে যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

স্থানীয় সামরিক প্রধান রুডি সালাদিন এএফপিকে বলেছেন, ‘আজ আমাদের ফোকাস হল ভূমিধসে চাপা পড়া ক্ষতিগ্রস্তদের সরিয়ে নেয়া।’

‘এখনও আরও কিছু লোক উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা, বা বিএনপিবি বলেছে, সোমবার অন্ধকার নেমে আসায় অন্তত ২৫ জন এখনও সিয়ানজুরে ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের ছাত্র এবং অন্যরা তাদের বাড়িতে ছাদ এবং দেয়াল ধসে পড়ে মারা গেছে।

১৪ বছর বয়সী ছাত্র এপ্রিজাল মুলিয়াদি এএফপিকে বলেন, ‘কক্ষটি ধসে পড়ে এবং আমার পা ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে যায়। সবকিছু দ্রুত ঘটেছিল।’

তিনি বলেন, তার বন্ধু জুলফিকার তাকে নিরাপদে টেনে নিয়ে গিয়েছিল, যে পরে ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে মারা গিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে এভাবে দেখে বিধ্বস্ত হয়েছিলাম, কিন্তু আমি তাকে সাহায্য করতে পারিনি।’

বৃহত্তর গ্রামীণ, পার্বত্য অঞ্চলের কিছু অংশে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মঙ্গলবার অনুসন্ধান অভিযান আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে।

মঙ্গলবার সকাল নাগাদ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানি পিএলএন সিয়াঞ্জুরের ৮৯ শতাংশ বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করেছে।

পশ্চিম জাভার গভর্নর রিদওয়ান কামিল বলেছেন, ৩০০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়েছে এবং ১৩ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ১৬২ জন নিহত

আপডেট সময় ০২:৩০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর ২০২২

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক ❑ ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভাতে ভূমিকম্পে ১৬২ জন নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে থাকা জীবিতদের সন্ধান করছে। এতে শত শত লোক আহত হয়েছে এবং ধসে পড়া ভবনে আটকে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার ভূস্তরের অগভীর ৫.৬-মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্র স্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ পশ্চিম জাভার সিয়ানজুর শহরের কাছে, যেখানে নিহতদের বেশীরভাগ ভবন ও ভূমিধসে মারা গেছে এবং সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চূর্ণবিচূর্ণ বিল্ডিং থেকে মৃতদেহগুলো বের করে আনার সাথে সাথে নিখোঁজদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার প্রচেষ্টার দিকে জোর দেয়া হয়। ভূমিকম্পের কারণে শহরের রাস্তাগুলোতে বিক্ষিপ্ত প্রতিরন্ধকতার কারণে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে এমন এলাকায় ধ্বংসাবশেষের নীচে এখনও বেঁচে থাকা লোকদের উদ্ধার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কয়েক ডজন উদ্ধারকারীদের মধ্যে একজন, ৩৪ বছর বয়সী ডিমাস রেভিয়ানস্যাহ বলেছেন, উদ্ধারকারী দল ধ্বংসাবশেষের স্তুপ ভেঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের আটকে থাকা জায়গায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি বলেন ‘গতকাল থেকে আমি মোটেও ঘুমাইনি। তবে আমাকে অবশ্যই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কারণ এমন লোক এখনো রয়েছে যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

স্থানীয় সামরিক প্রধান রুডি সালাদিন এএফপিকে বলেছেন, ‘আজ আমাদের ফোকাস হল ভূমিধসে চাপা পড়া ক্ষতিগ্রস্তদের সরিয়ে নেয়া।’

‘এখনও আরও কিছু লোক উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা, বা বিএনপিবি বলেছে, সোমবার অন্ধকার নেমে আসায় অন্তত ২৫ জন এখনও সিয়ানজুরে ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের ছাত্র এবং অন্যরা তাদের বাড়িতে ছাদ এবং দেয়াল ধসে পড়ে মারা গেছে।

১৪ বছর বয়সী ছাত্র এপ্রিজাল মুলিয়াদি এএফপিকে বলেন, ‘কক্ষটি ধসে পড়ে এবং আমার পা ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে যায়। সবকিছু দ্রুত ঘটেছিল।’

তিনি বলেন, তার বন্ধু জুলফিকার তাকে নিরাপদে টেনে নিয়ে গিয়েছিল, যে পরে ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে মারা গিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে এভাবে দেখে বিধ্বস্ত হয়েছিলাম, কিন্তু আমি তাকে সাহায্য করতে পারিনি।’

বৃহত্তর গ্রামীণ, পার্বত্য অঞ্চলের কিছু অংশে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মঙ্গলবার অনুসন্ধান অভিযান আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে।

মঙ্গলবার সকাল নাগাদ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানি পিএলএন সিয়াঞ্জুরের ৮৯ শতাংশ বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করেছে।

পশ্চিম জাভার গভর্নর রিদওয়ান কামিল বলেছেন, ৩০০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়েছে এবং ১৩ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।