ঢাকা ০৪:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সব জেলায় খাদ্যের মান পরীক্ষাগার স্থাপনে জাইকার সহযোগিতা প্রয়োজন : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা চার দিনের সফর শেষে টোকিও ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী আগামী সপ্তাহের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের স্বাধীন গণমাধ্যমের অধিকার সুরক্ষায় মিশরের প্রতি ইইউর আহ্বান শব্দদূষণের নতুন ৪টি উৎস শনাক্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে দেওয়ানগঞ্জে জেসমিন প্রকল্পের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দক্ষ নাবিক তৈরিতে কোনো কম্প্রোমাইজ নয় : নৌপরিবহন সচিব

ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদার হত্যা চেষ্টা মামলায় ৪ জন আটক

ইউএনও ওয়াহিদা খানম

ইউএনও ওয়াহিদা খানম

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক : দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম হত্যা চেষ্টা মামলায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো, মমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরী পলাশ আহম্মেদকে প্রথম আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে অপর ৩ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। শিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ আলম (৩৪) ও আসাদুল হক (৩৫)।

জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে, মাসুদ একই উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের আদু মিয়ার ছেলে এবং আসাদুল সাগরপুর গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে।

আটককৃতদের পুলিশ, র‌্যাব সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যাবে না।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর সকালে আহত ইউএনও’র বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো, মমিনুল ইসলাম তদন্ত করছেন।

উল্লেখ্য, ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরীকে বেধে রেখে সন্ত্রাসীরা পিপিই পরিধান অবস্থায় বাসায় প্রবেশ করে নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় ও শরীরে বেধম আঘাত করে। বাসায় থাকা নির্বাহী কর্মকর্তার পিতা শেখ ওমর আলী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও সন্ত্রাসীরা বেদম প্রহার করে। ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম, তার পিতা শেখ ওমর আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের স্বামী রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, ৩ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ওয়াহিদা খানমকে বিমান বাহিনীর এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

তাকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসক জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তার মাথার অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। তিনি এখন অনেকটা আশঙ্কা মুক্ত রয়েছেন। অস্ত্রোপাচারের পর ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে। তিনি কথাও বলেছেন। তাঁর মাথায় কমপক্ষে ৯টি আঘাতের ক্ষত দেখা গেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

ঘোড়াঘাট ইউএনও ওয়াহিদার হত্যা চেষ্টা মামলায় ৪ জন আটক

আপডেট সময় ০৭:৪১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
ইউএনও ওয়াহিদা খানম

বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক : দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম হত্যা চেষ্টা মামলায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো, মমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরী পলাশ আহম্মেদকে প্রথম আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে অপর ৩ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। শিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ আলম (৩৪) ও আসাদুল হক (৩৫)।

জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে, মাসুদ একই উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের আদু মিয়ার ছেলে এবং আসাদুল সাগরপুর গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে।

আটককৃতদের পুলিশ, র‌্যাব সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আটককৃতদের এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যাবে না।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর সকালে আহত ইউএনও’র বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো, মমিনুল ইসলাম তদন্ত করছেন।

উল্লেখ্য, ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের নৈশ্য প্রহরীকে বেধে রেখে সন্ত্রাসীরা পিপিই পরিধান অবস্থায় বাসায় প্রবেশ করে নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় ও শরীরে বেধম আঘাত করে। বাসায় থাকা নির্বাহী কর্মকর্তার পিতা শেখ ওমর আলী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও সন্ত্রাসীরা বেদম প্রহার করে। ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম, তার পিতা শেখ ওমর আলীকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ইউএনও ওয়াহিদা খানমের স্বামী রংপুর পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, ৩ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ওয়াহিদা খানমকে বিমান বাহিনীর এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।

তাকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপরদিকে ৪ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ওয়াহিদা খানমের অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়া চিকিৎসক জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তার মাথার অস্ত্রপাচার করা হয়েছে। তিনি এখন অনেকটা আশঙ্কা মুক্ত রয়েছেন। অস্ত্রোপাচারের পর ওয়াহিদা খানমের জ্ঞান ফিরেছে। তিনি কথাও বলেছেন। তাঁর মাথায় কমপক্ষে ৯টি আঘাতের ক্ষত দেখা গেছে।