রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, জেলেনস্কি চাইলে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন। চার বছর আগে ইউক্রেনে শুরু করা যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে মস্কো। এর মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ওপর চাপ বাড়ালেন ট্রাম্প। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এদিকে, ইউক্রেনে কয়েক বছর আগে রুশ বাহিনীর হাতে আটক মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার নতুন করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রবণতার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এ পদক্ষেপকে।
২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চাই জেলেনস্কি একটি চুক্তিতে পৌঁছান। তিনি তা করতে পারেন। দুই বছর আগে ওভাল অফিসে আমাদের যে ছোট্ট কথোপকথন হয়েছিল, তখনই তিনি চুক্তি করতে পারতেন।’
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও জেলেনস্কির মধ্যে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক উত্তপ্ত বাদানুবাদ হয়েছিল। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সংশয় প্রকাশকারী ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার কিছুদিন পরই ওই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, ‘তাকে (জেলেনস্কি) চুক্তি করতে চাইতে হবে। কারণ, আমার মনে হয় না তার দেশের মানুষ আর বেশিদিন এই পরিস্থিতি মেনে নেবেন।’
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তি করতে গিয়ে ট্রাম্প আংশিকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে জেলেনস্কিকে ‘যুদ্ধবাজ’ বলেও সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে মঙ্গলবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলেনস্কি।
বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ আবার চালু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো আলোচনায় কিয়েভের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
মার্কিন নাগরিককে মুক্তির বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্প
রাশিয়ার হাতে আটক মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
এএফপির এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি হাবার্ডকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছি। তার সঙ্গে এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছি। আমি তাকে হাবার্ডকে মুক্তি দিতে অনুরোধ করেছি। দেখা যাক কী হয়।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘শুধু আমার সঙ্গে থাকুন। কয়েক দিন পর এই প্রশ্নটির কথা মনে রাখবেন। কারণ, আমি এমন কিছু কাজ করি, যা অন্য কেউ করতে পারে না।’
বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক 


















