নানা ভুল ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব কেটি জাকারিয়াকে দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার পদ ছাড়তে হয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিকভাবে চাপে থাকা ট্রাম্পের জন্য নতুন করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে জাকারিয়ার পদ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরুর খবর প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘বিষয়টি নিশ্চিত।’ ৪১ বছর বয়সী জাকারিয়া দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছিল।
এর আগেই ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, নতুন মুখপাত্রকে বিদায় জানাতে তিনি প্রস্তুত। নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়া নিয়ে সমালোচনা এবং তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ব্যাপক উপহাসের পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কেটিকে বলেছিলাম, ‘কেটি, এই কাজটা কি আপনার জন্য?’ আমি বলেছিলাম, ‘কেটি, আপনাকে এটা করতেই হবে, এমন নয়। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি নিয়ে আরেকবার ভাবতাম।’ ট্রাম্প কেটি জাকারিয়াকে তার পদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক হিসেবে অর্থায়ন খাতের সঙ্গে যুক্ত অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১১ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার এই স্বল্পস্থায়ী মেয়াদ নিয়ে ব্যাপক হাসি-ঠাট্টা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হয়। এমনকি বিষয়টি ইন্টারনেটে মিমেও পরিণত হয়েছিল। জাকারিয়ার মেয়াদ ছিল এর অর্ধেকেরও কম।
স্কারামুচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘রেকর্ড ভাঙার জন্যই তৈরি হয়।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।’
এর আগে আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জন্য পরিচিত ক্যারোলিন লিভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন জাকারিয়া। লিভিট হোয়াইট হাউসের সংবাদ পরিবেশনার ধরন বদলে দিতে ট্রাম্পকে সহায়তা করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পের প্রতি সহানুভূতিশীল সংবাদমাধ্যমগুলোকে বেশি সুযোগ দিয়েছিলেন এবং সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।
১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকালে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে প্রথম ব্রিফিংয়ের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শুরু করেছিলেন জাকারিয়া। কিন্তু শুরু থেকেই তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। ১৫ মিনিটেরও কম সময়ের ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রথমে ট্রাম্পের কথিত নানা সাফল্যের বিবরণ অত্যন্ত ধীরগতিতে পড়ে শোনান। এরপর সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন। এরপরই তার আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। অতীতে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে তিনি আইন পেশায় কাজ করার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেননি বলে জানা যায়।
বিতর্কটি ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্পের জন্য নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে তিনি দেশজুড়ে সফর করছেন। জনমত জরিপগুলোতে তার দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং দুর্নীতি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়তে থাকায় ট্রাম্পের নিজের জনপ্রিয়তাও কমছে।
– আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন : টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্যে জাকারিয়া নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি রক্ষণশীল অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান আইন উপদেষ্টা হিসেবেও নিজের পরিচয় উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় কাজ করার জন্য আবশ্যক বার পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিষয়টি স্বীকার করেন জাকারিয়া।
বিতর্ক সামাল দিতে ট্রাম্প-সমর্থক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক সাক্ষাৎকার দেন তিনি। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর মধ্যে ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সাক্ষাৎকারটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হ্যানিটিকে জাকারিয়ার ব্যাখ্যায় খুব একটা সন্তুষ্ট মনে হয়নি। তিনি জাকারিয়াকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কখনো বার পরীক্ষা আবার দিয়েছিলেন কি না। জবাবে জাকারিয়া বলেন, ‘না, দিইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আইন পেশায় কাজ করার কোনো ইচ্ছাই আমার কখনো ছিল না।’
১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প-সমর্থক সংবাদমাধ্যম ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’-কে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া বলেন, তিনি বার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে চীনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের কারণে পরীক্ষা দেওয়া হয়ে ওঠেনি।
জাকারিয়ার দাবি, আইন বিষয়ে তার ডিগ্রি থাকায় এ পেশার অনেকেই তাকে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অনুমতি আছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। সূত্র : বাসস
বাংলারচিঠিডটকম ডেস্ক 


















