জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় মা ইলিশ রক্ষায় যমুনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৬০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া মা ইলিশ বিক্রির দায়ে এক মাছ ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
১৫ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পাকরুল এলাকায় যমুনা নদীতে এ অভিযান চালানো হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী বাজারের ঠাকুরবাড়ি মোড়ে অভিযান চালিয়ে দুই কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও কেনাবেচা নিষিদ্ধ।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ১৫ অক্টোবর যমুনা নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৬০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ছয়টি ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে পাকরুল ঘাটে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় তিনটি দরিদ্র পরিবারকে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে বালিজুড়ী বাজারের ঠাকুরবাড়ি মোড়ে মা ইলিশ বিক্রির সময় আজিজুল হক নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী। এ সময় দুই কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে মাছগুলো স্থানীয় একটি এতিমখানায় দেওয়া হয়।
অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান খান, মাদারগঞ্জ মডেল থানার এএসআই মুহাম্মদ আব্দুল কদ্দুসসহ পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ইলিশ আহরণ বা বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খাদেমুল ইসলাম : নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম 


















