ঢাকা ১১:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারগঞ্জে আরও ২ কূপ খননের প্রস্তুতি, ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় বাপেক্স

মাদারগঞ্জ : দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র ‘জামালপুর-১’-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র ‘জামালপুর-১’-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয়েছে। এবার আরও দুটি কূপ খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

কূপ দুটি খননের স্থান নির্ধারণ ও মাটি পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেতে পারে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই মাঠপর্যায়ে খনন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বাপেক্সের।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলায় মোট তিনটি কৌশলগত স্থানে গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে অবস্থিত ‘জামালপুর-১’ কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। এই কূপ থেকে দৈনিক গড়ে ৪-৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় কূপটি স্থাপনের জন্য উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় কূপটি খনন করা হবে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর এলাকায়। এরই মধ্যে নির্ধারিত স্থান দুটিতে মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বাপেক্সের পরিকল্পনা ও আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ জানান, নতুন কূপ দুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জামালপুর-২’ ও ‘জামালপুর নর্থ-১’। প্রকল্প দুটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন কূপ দুটির একটিতে মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রম (অ্যাপ্রেইজাল কাম ডেভেলপমেন্ট) এবং অন্যটিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হবে। প্রতিটি কূপ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ৫০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাদারগঞ্জ : দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র ‘জামালপুর-১’-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এদিকে, জামালপুর-১ কূপ থেকে প্রাপ্তগ্যাস সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাপেক্সের জামালপুর-১ এর ফিল্ড ইনচার্জ বাইজিদ হোসেন। এই কূপ গ্যাস মজুত রয়েছে প্রায় এক হাজার ৩০ কোটি (১০ দশমিক তিন বিলিয়ন) ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত আছে ৭২০ কোটি (সাত দশমিক দুই বিলিয়ন) ঘনফুট। দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট হারে প্রায় পাঁচ বছর এই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। জামালপুর-১ কূপ থেকে যমুনা সার কারখানার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। পাইপলাইনের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানায় সরবরাহ করতে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।

জামালপুর-১ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কূপ খনন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল দুই হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার তিনটি স্তরে ডিএসটির (ড্রিল স্টেম স্টেট) মাধ্যমে সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয়। ওই বছরের ৩১ মে অগ্নি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্যাসের সন্ধান মেলে। এরপর সেখান থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কূপের এক হাজার ৪৪১ থেকে এক হাজার ৪৪৪ মিটার গভীরতায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, ১১২৪ পিএসআই (পাউন্ডস পার স্কয়ার ইঞ্চি) চাপে দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট হারে প্রায় পাঁচ বছর এই গ্যাস কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। এর আর্থিক মূল্য বাপেক্স মার্জিনে ৮২ কোটি টাকা, ভোক্তাপর্যায়ে ৪৬৮ কোটি টাকা এবং এলএনজি আমদানি মূল্য এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের বাণিজ্যিক উপস্থিতি, মজুতের পরিমাণ ও উত্তোলনযোগ্যতা যাচাইয়ের পর একই সঙ্গে তিন কূপের গ্যাস উত্তোলন ও জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামালপুর-১ কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, প্রথম কূপ থেকে দৈনিক গড়ে পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে নতুন ওই কূপ দুটি খননের জন্য সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে আরও ২ কূপ খননের প্রস্তুতি, ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় বাপেক্স

আপডেট সময় ১১:১৯:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র ‘জামালপুর-১’-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয়েছে। এবার আরও দুটি কূপ খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

কূপ দুটি খননের স্থান নির্ধারণ ও মাটি পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেতে পারে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুতই মাঠপর্যায়ে খনন কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বাপেক্সের।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলায় মোট তিনটি কৌশলগত স্থানে গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে অবস্থিত ‘জামালপুর-১’ কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। এই কূপ থেকে দৈনিক গড়ে ৪-৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় কূপটি স্থাপনের জন্য উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় কূপটি খনন করা হবে চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর এলাকায়। এরই মধ্যে নির্ধারিত স্থান দুটিতে মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বাপেক্সের পরিকল্পনা ও আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ জানান, নতুন কূপ দুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জামালপুর-২’ ও ‘জামালপুর নর্থ-১’। প্রকল্প দুটি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন কূপ দুটির একটিতে মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রম (অ্যাপ্রেইজাল কাম ডেভেলপমেন্ট) এবং অন্যটিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হবে। প্রতিটি কূপ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার ৫০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাদারগঞ্জ : দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র ‘জামালপুর-১’-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয়েছে। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এদিকে, জামালপুর-১ কূপ থেকে প্রাপ্তগ্যাস সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাপেক্সের জামালপুর-১ এর ফিল্ড ইনচার্জ বাইজিদ হোসেন। এই কূপ গ্যাস মজুত রয়েছে প্রায় এক হাজার ৩০ কোটি (১০ দশমিক তিন বিলিয়ন) ঘনফুট এবং উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত আছে ৭২০ কোটি (সাত দশমিক দুই বিলিয়ন) ঘনফুট। দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট হারে প্রায় পাঁচ বছর এই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। জামালপুর-১ কূপ থেকে যমুনা সার কারখানার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। পাইপলাইনের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানায় সরবরাহ করতে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।

জামালপুর-১ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কূপ খনন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল দুই হাজার ৬০০ মিটার গভীরতার তিনটি স্তরে ডিএসটির (ড্রিল স্টেম স্টেট) মাধ্যমে সফলভাবে কূপ খনন শেষ হয়। ওই বছরের ৩১ মে অগ্নি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্যাসের সন্ধান মেলে। এরপর সেখান থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কূপের এক হাজার ৪৪১ থেকে এক হাজার ৪৪৪ মিটার গভীরতায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, ১১২৪ পিএসআই (পাউন্ডস পার স্কয়ার ইঞ্চি) চাপে দৈনিক গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট হারে প্রায় পাঁচ বছর এই গ্যাস কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। এর আর্থিক মূল্য বাপেক্স মার্জিনে ৮২ কোটি টাকা, ভোক্তাপর্যায়ে ৪৬৮ কোটি টাকা এবং এলএনজি আমদানি মূল্য এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের বাণিজ্যিক উপস্থিতি, মজুতের পরিমাণ ও উত্তোলনযোগ্যতা যাচাইয়ের পর একই সঙ্গে তিন কূপের গ্যাস উত্তোলন ও জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামালপুর-১ কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, প্রথম কূপ থেকে দৈনিক গড়ে পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে নতুন ওই কূপ দুটি খননের জন্য সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে।