ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত নান্দিনায় দশ ছাত্রের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন শিল্পপতি রাজিব সরকার শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ দেওয়ানগঞ্জে সংলাপ কেন্দ্রের উদ্যোগে বাল্যবিয়েবিরোধী নাটিকা মঞ্চস্থ দেওয়ানগঞ্জে ভুল ড্রপে চোখের ক্ষতি, অভিযোগ স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জে মেশিনের চাকায় পিষ্ট হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে ৬৪ জেলায় : তথ্য প্রতিমন্ত্রী পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান মিল্লাতের জাতীয় পর্যায়ে ১৮ দিবসসহ অন্যান্য দিবস পালনে সরকারের নতুন নির্দেশনা

দেওয়ানগঞ্জে ভুল ড্রপে চোখের ক্ষতি, অভিযোগ স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে

দেওয়ানগঞ্জ : চোখের ভুল চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত সাকোয়াত হোসেন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে চোখের ড্রপ হিসাবে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা খাতুনের বিরুদ্ধে। স্বজনদের দাবি, ওষুধটি ব্যবহারের পর ৫৫ বছর বয়সী সাকোয়াত হোসেনের চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং চোখের বর্ণ সাদা হয়ে যায়।

পরে জামালপুরের একটি চক্ষু হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে চরম অর্থসংকটের কারণে ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না তার।

অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী। আর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

ভুক্তভোগী সাকোয়াত হোসেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্যমতে, ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সাকোয়াতের চোখের চিকিৎসার জন্য ওষুধ আনতে চেংটিমারি কমিউনিটি ক্লিনিকে যান তার স্ত্রী। ক্লিনিকে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) বানেছা খাতুন তাকে ভুলবশত ‘জেনশন ভায়োলেট’ নামের একটি তরল ওষুধ (যা সাধারণত কড়া বা ঘা জাতীয় ত্বকের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়) দেন।

সাকোয়াতের স্ত্রীর দাবি, বাড়িতে ফিরে ওই ড্রপটি স্বামীর চোখে ব্যবহারের পরপরই তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। চোখের দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ক্লিনিকে যোগাযোগ করা হলে ভুলবশত পায়ের কড়া বা কুনির চিকিৎসার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে শিকার করেন স্থাস্থ্যকর্মী বানেছা খাতুন। পরবর্তীতে তিনি পূর্বের ড্রপটি বদলে ‘ক্লোরামফেনিকল’ (আই ড্রপ) দেন।

সাকোয়াতের স্ত্রী জানান, পরবর্তীতে বদলে দেওয়া চোখের ড্রপটি এখনও তাদের কাছে রয়েছে। তবে প্রথমবার দেওয়া জেনশন ভায়োলেট ড্রপটি আর পাওয়া যায়নি।

ক্লিনিক থেকে দুটি ড্রপ দেওয়া হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নে সাকোয়াতের স্ত্রী বলেন, আমি একটিই ড্রপ এনেছিলাম। আমাদের হাত বা পায়ে কোন ক্ষত ছিল না। তাই ত্বকের জন্য ওষুধ আনব কেন?

পরিবারের সদস্যরা জানান, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে সাকোয়াতকে জামালপুর চক্ষু হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাকে ঢাকায় নেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি এখন বাড়িতেই আছেন। এতে তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছে পরিবারটি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে  ১১ অক্টোবর, রবিবার নিজের সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা খাতুন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সাকোয়াতের স্ত্রীকে দুটি ভিন্ন ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তা রেজিস্টার খাতায় নথিভুক্ত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের খাতায় সাকোয়াতের স্ত্রী মোছা. পঞ্চমালার নামে একটি এবং তার স্বামী সাকোয়াত হোসেনের নামে আরেকটি ওষুধ বিতরণের উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাকোয়াতের স্ত্রীর বিশেষ অনুরোধে রোগী উপস্থিত না থাকলেও ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। ভুল নিয়মে ওষুধ ব্যবহারের দায় কমিউনিটি ক্লিনিক বা তার উপর চাপানো অনুচিত।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব এই প্রতিবেদককে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোগী নিজে উপস্থিত না হয়ে ওষুধ নেয়া আইনসম্মত কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করেন, রোগী ক্লিনিকে উপস্থিত না হয়ে ওষুধ নেয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং বেআইনি। কোনভাবেই সেই সুযোগ নেই।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার পাশাপাশি অসহায় সাকোয়াত হোসেনের চোখের দৃষ্টি বাঁচাতে সরকারি উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়াটাই এখন জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত

দেওয়ানগঞ্জে ভুল ড্রপে চোখের ক্ষতি, অভিযোগ স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৯:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে চোখের ড্রপ হিসাবে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা খাতুনের বিরুদ্ধে। স্বজনদের দাবি, ওষুধটি ব্যবহারের পর ৫৫ বছর বয়সী সাকোয়াত হোসেনের চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয় এবং চোখের বর্ণ সাদা হয়ে যায়।

পরে জামালপুরের একটি চক্ষু হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তবে চরম অর্থসংকটের কারণে ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না তার।

অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী। আর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

ভুক্তভোগী সাকোয়াত হোসেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্যমতে, ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সাকোয়াতের চোখের চিকিৎসার জন্য ওষুধ আনতে চেংটিমারি কমিউনিটি ক্লিনিকে যান তার স্ত্রী। ক্লিনিকে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) বানেছা খাতুন তাকে ভুলবশত ‘জেনশন ভায়োলেট’ নামের একটি তরল ওষুধ (যা সাধারণত কড়া বা ঘা জাতীয় ত্বকের সমস্যায় ব্যবহৃত হয়) দেন।

সাকোয়াতের স্ত্রীর দাবি, বাড়িতে ফিরে ওই ড্রপটি স্বামীর চোখে ব্যবহারের পরপরই তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। চোখের দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ক্লিনিকে যোগাযোগ করা হলে ভুলবশত পায়ের কড়া বা কুনির চিকিৎসার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে শিকার করেন স্থাস্থ্যকর্মী বানেছা খাতুন। পরবর্তীতে তিনি পূর্বের ড্রপটি বদলে ‘ক্লোরামফেনিকল’ (আই ড্রপ) দেন।

সাকোয়াতের স্ত্রী জানান, পরবর্তীতে বদলে দেওয়া চোখের ড্রপটি এখনও তাদের কাছে রয়েছে। তবে প্রথমবার দেওয়া জেনশন ভায়োলেট ড্রপটি আর পাওয়া যায়নি।

ক্লিনিক থেকে দুটি ড্রপ দেওয়া হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নে সাকোয়াতের স্ত্রী বলেন, আমি একটিই ড্রপ এনেছিলাম। আমাদের হাত বা পায়ে কোন ক্ষত ছিল না। তাই ত্বকের জন্য ওষুধ আনব কেন?

পরিবারের সদস্যরা জানান, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে সাকোয়াতকে জামালপুর চক্ষু হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাকে ঢাকায় নেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি এখন বাড়িতেই আছেন। এতে তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছে পরিবারটি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে  ১১ অক্টোবর, রবিবার নিজের সাফাই গেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা খাতুন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সাকোয়াতের স্ত্রীকে দুটি ভিন্ন ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তা রেজিস্টার খাতায় নথিভুক্ত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের খাতায় সাকোয়াতের স্ত্রী মোছা. পঞ্চমালার নামে একটি এবং তার স্বামী সাকোয়াত হোসেনের নামে আরেকটি ওষুধ বিতরণের উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাকোয়াতের স্ত্রীর বিশেষ অনুরোধে রোগী উপস্থিত না থাকলেও ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। ভুল নিয়মে ওষুধ ব্যবহারের দায় কমিউনিটি ক্লিনিক বা তার উপর চাপানো অনুচিত।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব এই প্রতিবেদককে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোগী নিজে উপস্থিত না হয়ে ওষুধ নেয়া আইনসম্মত কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করেন, রোগী ক্লিনিকে উপস্থিত না হয়ে ওষুধ নেয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং বেআইনি। কোনভাবেই সেই সুযোগ নেই।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার পাশাপাশি অসহায় সাকোয়াত হোসেনের চোখের দৃষ্টি বাঁচাতে সরকারি উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়াটাই এখন জরুরি।