ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারগঞ্জে দেড় মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক

মাদারগঞ্জ : ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক পরিবার। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভাল হলেও ধানের দাম, টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে চাপে পড়েছেন কৃষকেরা। দেড় মণ ধান বিক্রি করেও মিলছে না একজন শ্রমিকের মজুরি। ফলে পাকা ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান সংগ্রহে। তবে টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে সময়মত ধান কাটতে না পারায় কৃষকেরা উদ্বেগে রয়েছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান, ভুট্টা ও খড় শুকাতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে শস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রোদ উঠতেই অনেককে সড়কে ধান ও ভুট্টা শুকাতে দেখা গেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১১০০ হাজার থেকে ১২০০ টাকা। তিন বেলা খাবারসহ একজন শ্রমিকের পেছনে খরচ পড়ছে প্রায় এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। আরও প্রায় তিন হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান পেকে গেছে। আধাপাকা অবস্থায় আছে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ধান।

গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান খলিল বলেন, জমিতে হাঁটুপানি থাকায় শ্রমিকের কাজের গতি কমে গেছে। আগে একজন শ্রমিক দিনে পাঁচ কাঠা (৯ শতাংশ) ধান কাটতে পারলেও এখন কাটতে পারছেন সাড়ে তিন থেকে চার কাঠা। ফলে একই জমির ধান কাটতে আগের চেয়ে বেশি শ্রমিক লাগছে।

কড়ইচড়া ইউনিয়নের ভাংবাড়ী গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, হালচাষ, সেচ, সার ও কীটনাশকসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকের মজুরি এক হাজার ১০০ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের বাজারদর কমে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় আছেন তিনি।

বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছি। দোকানের ধারদেনা ও ঋণ কিভাবে শোধ করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারণে ধান কাটায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। একযোগে মাঠে ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ধানের দামের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি কিছুটা বেশি। শিগগির কৃষকের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। তখন কৃষক সরকারি মূল্য এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ দাম পাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে দেড় মণ ধানেও মিলছে না একজন শ্রমিক

আপডেট সময় ০৮:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভাল হলেও ধানের দাম, টানা বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে চাপে পড়েছেন কৃষকেরা। দেড় মণ ধান বিক্রি করেও মিলছে না একজন শ্রমিকের মজুরি। ফলে পাকা ধান ঘরে তুলতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান সংগ্রহে। তবে টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে সময়মত ধান কাটতে না পারায় কৃষকেরা উদ্বেগে রয়েছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও রোদের অভাবে মাড়াই করা ধান, ভুট্টা ও খড় শুকাতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে শস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রোদ উঠতেই অনেককে সড়কে ধান ও ভুট্টা শুকাতে দেখা গেছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১১০০ হাজার থেকে ১২০০ টাকা। তিন বেলা খাবারসহ একজন শ্রমিকের পেছনে খরচ পড়ছে প্রায় এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। আরও প্রায় তিন হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান পেকে গেছে। আধাপাকা অবস্থায় আছে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ধান।

গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান খলিল বলেন, জমিতে হাঁটুপানি থাকায় শ্রমিকের কাজের গতি কমে গেছে। আগে একজন শ্রমিক দিনে পাঁচ কাঠা (৯ শতাংশ) ধান কাটতে পারলেও এখন কাটতে পারছেন সাড়ে তিন থেকে চার কাঠা। ফলে একই জমির ধান কাটতে আগের চেয়ে বেশি শ্রমিক লাগছে।

কড়ইচড়া ইউনিয়নের ভাংবাড়ী গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, হালচাষ, সেচ, সার ও কীটনাশকসহ সব ধরনের কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকের মজুরি এক হাজার ১০০ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের বাজারদর কমে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় আছেন তিনি।

বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছি। দোকানের ধারদেনা ও ঋণ কিভাবে শোধ করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, শ্রমিক সংকট ও বৃষ্টির কারণে ধান কাটায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। একযোগে মাঠে ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ধানের দামের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি কিছুটা বেশি। শিগগির কৃষকের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। তখন কৃষক সরকারি মূল্য এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ দাম পাবেন।