ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুর এপির বার্ষিক শিখন সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে নারী এক গাঁজা ব্যবসায়ীকে ৩ মাসের কারাদণ্ড শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলায় পাখি শিকার বন্ধে বিশেষ অভিযান ইসলামপুরে ১২৮টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, দিনদিন ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য-অগ্নিসন্ত্রাসের প্রতিবাদে মাদারগঞ্জে পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করলে জামায়াত রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না : ওয়ারেছ আলী মামুন জামালপুরে প্রাইম ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শুভ উদ্বোধন মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ান আহত, সাব-জোনাল অফিস ঘেরাও-ভাঙচুর শেরপুর যুবদলের সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জামালপুরে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

সরিষাবাড়ীর শাহানাজ আক্তার এখন তুহিন মিয়া

সরিষাবাড়ী : শাহনাজ আক্তার এখন তুহিন মিয়া, আপাতত ছবি দেখেই বোঝা যায়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক গার্মেন্টস কর্মী এক কিশোরী শাহনাজ আক্তার পুরুষে রূপান্তরিত হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শাহনাজ আক্তারের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম রাখা হয়েছে তুহিন মিয়া।

এক নজরে শাহানাজ আক্তারকে দেখতে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় থেকে সব বয়সের মানুষের ভীড় করছেন। তবে চিকিৎসকদের ধারণা মেডিকেল বিভাগে এমন হবার কোনো সুযোগ নেই। ছেলে বা মেয়ে কি হবে, তা লিঙ্গ নির্ধারক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না।

জানা গেছে, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের মেইয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাছেদের মেয়ে শাহনাজ আক্তার। ২০২৪ সালে সে স্থানীয় শামসুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে। পূর্বে তাদের পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই ছিল। যা এখন পরিবর্তিত হয়ে দুই ভাই ও এক বোন হয়েছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহানাজ আক্তার বাবার আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে রাজধানী ঢাকায় বেঙ্গল কোম্পানি নামের একটি গামেন্টসে চাকরি নেয়। এর কিছুদিন পর থেকে সে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে পারে হরমোনজনিত সমস্যার কারণে তার শারীরিক পরিবর্তন ঘটছে।

(কিশোরী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হতে চলেছে) টানা তিন মাস ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থাকার পর চলতি বছরের মার্চ মাসে শাহনাজ আক্তার পরিপূর্ণ একজন পুরুষে রূপান্তরিত হন। শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক একজন ছেলে। বাবা-মা ও পরিবারের লোকজন সবাই মিলে তার বর্তমান নাম দেয় তুহিন মিয়া।

তবে দর্শনার্থীদের ভীড় এড়াতে ১১ জুন, বুধবার রাত থেকে তার এক আত্মীয়র বাড়িতে অবস্থান করছে বলে জানান তার পরিবারের লোকজন।

রূপান্তিত তুহিন মিয়ার সাথে কথা হলে সে বলেছে, শারীরিক এই পরিবর্তন ঢাকায় অবস্থান করার সময় ঘটেছিল। প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানাতে পারিনি। চিন্তিত ছিলাম যে আমার এই পরিবর্তন সমাজ ও পরিবার মেনে নেবে কিনা। অনেক ভাবনাচিন্তার পর যখন পরিবারকে বিষয়টি জানাই, ঢাকা থেকে বাড়িতে আসতে বলেন। বাড়ি আসার পর দেখতে সবাই আমাকে স্বাভাবিকভাবে ছেলে হিসেবে মেনে নিয়েছেন।

এই স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করে তুহিন আরও বলেছে, আমার খুব ভাল লাগছে। মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছি। এটা মহান আল্লাহর রহমত। বাবাকে অনেক কাজে সহায়তা করতে পারব।

তুহিনের বাবা বলেন, আমার দুই মেয়ের মধ্যে শাহনাজ আক্তার ছোট ছিল। সে পরিবারের হাল ধরতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। কিছুদিন ধরে শুনছিলাম সে অসুস্থ। কিন্তু বাড়িতে আসছিল না। ঈদের আগে ফোন করে জানায় সে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরে তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে ছেলের মতই দেখা যায় বলে বুঝতে পারি। পরে তাকে বাড়িতে আসতে বললে ঈদের পরের দিন সে বাড়িতে আসে।

তিনি আরও জানান, শাহানাজকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খোঁজাখুজি পর্যন্ত শুরু করেছিলাম। এখন উল্টো পাত্রী খোঁজতে হবে। “আমি ও আমার পরিবার আরেকটি ছেলে পেয়ে অনেক খুশি। এখন আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

এ ব্যাপারের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী এ প্রতিবেদককে বলেন, মেডিকেল বিভাগে এমন হবার কোনো সুযোগ নেই। ছেলে বা মেয়ে কি হবে, তা লিঙ্গ নির্ধারক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না।

জামালপুর এপির বার্ষিক শিখন সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সরিষাবাড়ীর শাহানাজ আক্তার এখন তুহিন মিয়া

আপডেট সময় ১০:৪১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় এক গার্মেন্টস কর্মী এক কিশোরী শাহনাজ আক্তার পুরুষে রূপান্তরিত হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শাহনাজ আক্তারের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান নাম রাখা হয়েছে তুহিন মিয়া।

এক নজরে শাহানাজ আক্তারকে দেখতে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় থেকে সব বয়সের মানুষের ভীড় করছেন। তবে চিকিৎসকদের ধারণা মেডিকেল বিভাগে এমন হবার কোনো সুযোগ নেই। ছেলে বা মেয়ে কি হবে, তা লিঙ্গ নির্ধারক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না।

জানা গেছে, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের মেইয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল বাছেদের মেয়ে শাহনাজ আক্তার। ২০২৪ সালে সে স্থানীয় শামসুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে। পূর্বে তাদের পরিবারে দুই বোন ও এক ভাই ছিল। যা এখন পরিবর্তিত হয়ে দুই ভাই ও এক বোন হয়েছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহানাজ আক্তার বাবার আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে রাজধানী ঢাকায় বেঙ্গল কোম্পানি নামের একটি গামেন্টসে চাকরি নেয়। এর কিছুদিন পর থেকে সে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়। এরপর চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে পারে হরমোনজনিত সমস্যার কারণে তার শারীরিক পরিবর্তন ঘটছে।

(কিশোরী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হতে চলেছে) টানা তিন মাস ডাক্তারের পর্যবেক্ষণে থাকার পর চলতি বছরের মার্চ মাসে শাহনাজ আক্তার পরিপূর্ণ একজন পুরুষে রূপান্তরিত হন। শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে সে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক একজন ছেলে। বাবা-মা ও পরিবারের লোকজন সবাই মিলে তার বর্তমান নাম দেয় তুহিন মিয়া।

তবে দর্শনার্থীদের ভীড় এড়াতে ১১ জুন, বুধবার রাত থেকে তার এক আত্মীয়র বাড়িতে অবস্থান করছে বলে জানান তার পরিবারের লোকজন।

রূপান্তিত তুহিন মিয়ার সাথে কথা হলে সে বলেছে, শারীরিক এই পরিবর্তন ঢাকায় অবস্থান করার সময় ঘটেছিল। প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানাতে পারিনি। চিন্তিত ছিলাম যে আমার এই পরিবর্তন সমাজ ও পরিবার মেনে নেবে কিনা। অনেক ভাবনাচিন্তার পর যখন পরিবারকে বিষয়টি জানাই, ঢাকা থেকে বাড়িতে আসতে বলেন। বাড়ি আসার পর দেখতে সবাই আমাকে স্বাভাবিকভাবে ছেলে হিসেবে মেনে নিয়েছেন।

এই স্বস্তির অনুভূতি প্রকাশ করে তুহিন আরও বলেছে, আমার খুব ভাল লাগছে। মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছি। এটা মহান আল্লাহর রহমত। বাবাকে অনেক কাজে সহায়তা করতে পারব।

তুহিনের বাবা বলেন, আমার দুই মেয়ের মধ্যে শাহনাজ আক্তার ছোট ছিল। সে পরিবারের হাল ধরতে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। কিছুদিন ধরে শুনছিলাম সে অসুস্থ। কিন্তু বাড়িতে আসছিল না। ঈদের আগে ফোন করে জানায় সে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। পরে তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে ছেলের মতই দেখা যায় বলে বুঝতে পারি। পরে তাকে বাড়িতে আসতে বললে ঈদের পরের দিন সে বাড়িতে আসে।

তিনি আরও জানান, শাহানাজকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খোঁজাখুজি পর্যন্ত শুরু করেছিলাম। এখন উল্টো পাত্রী খোঁজতে হবে। “আমি ও আমার পরিবার আরেকটি ছেলে পেয়ে অনেক খুশি। এখন আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

এ ব্যাপারের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী এ প্রতিবেদককে বলেন, মেডিকেল বিভাগে এমন হবার কোনো সুযোগ নেই। ছেলে বা মেয়ে কি হবে, তা লিঙ্গ নির্ধারক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাবে না।