ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী স্কুলজীবনে শিক্ষকদের স্মৃতি : শাহ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছাগল পেল ১২০ পরিবার মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় : মির্জা ফখরুল রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে জনগণের সঠিক ধারণা নির্ভর করে গণমাধ্যমের ওপর : তথ্যমন্ত্রী কাজী নজরুল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস: প্রধানমন্ত্রী ১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫৭ টাকা অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিং ঠেকাতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস সঙ্গীত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে অনন্য সেতুবন্ধ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

যমুনা নদীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে ইসলামপুরের সাপধরীর চারটি গ্রাম

ইসলামপুর : যমুনার কাশারীডোবা পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ছবি : আজিজুর রহমান চৌধুরী

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার ছোট্ট দুটি শাখা নদী। একটি ইসলামপুরের বেলগাছা পয়েন্টে যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অপরটি সাপধরী পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী পয়েন্টে উৎপত্তি হয়ে ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এই দুই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে যমুনাগর্ভে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে সাপধরীর চারটি গ্রাম।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ইসলামপুরের বেলগাছা পয়ন্টে উৎপত্তি হওয়া যমুনার শাখা নদীটি শীলদহ ও সিন্দুরতলী হয়ে সাপধরীর প্রজাপতি, নন্দনেরপাড়া, চরশিশুয়া, শিশুয়া, কাশারীডোবা, ইন্দুল্লামারী, আকন্দপাড়া, মণ্ডলপাড়া, চেঙ্গানিয়া, টগারচর ও দৈলকের চর হয়ে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী এলাকার পূর্বাঞ্চল হয়ে আবারও যমুনার মূলস্রোতে মিলিত হয়েছে। এই শাখা নদীটির দুই তীরের প্রজাপতি, কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া ও মণ্ডলপাড়া এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে গত পাঁচ বছর ধরে ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে।

ইসলামপুর : যমুনার মণ্ডলপাড়া পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই সাপধরীর এই শাখা নদীটির বাম তীরের কাশারীডোবা ও আকন্দপাড়া পয়েন্টে এবং মণ্ডলপাড়া পয়েন্টে যমুনার ডান তীরে ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে। এতে এ বছরই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে কাশারীডোবা ও আকন্দপাড়া এলাকার পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, দুটি বাজার, চারটি স্কুল, পাঁচটি মসজিদ এবং কয়েকশ’ একর ফসলি জমি।

অপরদিকে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী পয়েন্টে উৎপত্তি হওয়া যমুনার এই শাখা নদীটি সাপধরীর পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। সাপধরী পশ্চিম সীমানার এই শাখা নদটির ভয়াবহ ভাঙনে বিগত বন্যা মৌসুমে সাপধরী ইউনিয়নের বিশরশি গ্রামটির অন্তত: ২০০ পরিবারের বসতভিটাসহ প্রায় দুই হাজার একর ফসলি জমি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। এ বছরেও বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই বিশরশি, মণ্ডলপাড়া ও দক্ষিণ শিশুয়া এলাকায় চলছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।

সাপধরী ইউনিয়নের কাশারীডোবা গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সাপধরীর পশ্চিম সীমানা দিয়ে প্রবাহিত শাখা নদীটির বাম তীরের ভাঙন প্রতিরোধের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ বছরের ভয়াবহ ভাঙনে মণ্ডলপাড়া, বিশরশি ও দক্ষিণ শিশুয়া গ্রাম দুটির অন্তত: ৫০০ পরিবারের বসতভিটাসহ কমপক্ষে দুই হাজার একর ফসলি জমি যমুনা গর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসলামপুর : যমুনার আকন্দপাড়া পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম মণ্ডল জানান, সাপধরী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া, বিশরশি ও দক্ষিণ শিশুয়া গ্রাম তিনটির পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনার ছোট্ট একটি শাখা নদীর বাম তীরে গত দুই বছর ধরে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। বিগত বছরের বন্যায় বিশরশি গ্রামটির সিংহভাগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এ বছরেও বর্ষা মৌসুমের আগেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন। এছাড়াও মণ্ডলপাড়া গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনার অপর শাখা নদীটির ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া ও মণ্ডলপাড়া গ্রামের দক্ষিণাঞ্চল। এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ বছর বর্ষা মৌসুমেই নিশ্চিহ্ন হবে সাপধরীর বিশরশি, মণ্ডলপাড়া, কাশারীডোবা ও আকন্দপাড়া গ্রাম।

তিনি আরো জানান, যমুনার এই শাখা নদী দু’টির ভাঙন কবলিত চারটি পয়েন্টেই অবিলম্বে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হলে নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে শত শত একর ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ জনপদ।।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

যমুনা নদীর ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে ইসলামপুরের সাপধরীর চারটি গ্রাম

আপডেট সময় ০৯:০৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনার ছোট্ট দুটি শাখা নদী। একটি ইসলামপুরের বেলগাছা পয়েন্টে যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি হয়েছে। অপরটি সাপধরী পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী পয়েন্টে উৎপত্তি হয়ে ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এই দুই নদীর ভয়াবহ ভাঙনে যমুনাগর্ভে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে সাপধরীর চারটি গ্রাম।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ইসলামপুরের বেলগাছা পয়ন্টে উৎপত্তি হওয়া যমুনার শাখা নদীটি শীলদহ ও সিন্দুরতলী হয়ে সাপধরীর প্রজাপতি, নন্দনেরপাড়া, চরশিশুয়া, শিশুয়া, কাশারীডোবা, ইন্দুল্লামারী, আকন্দপাড়া, মণ্ডলপাড়া, চেঙ্গানিয়া, টগারচর ও দৈলকের চর হয়ে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী এলাকার পূর্বাঞ্চল হয়ে আবারও যমুনার মূলস্রোতে মিলিত হয়েছে। এই শাখা নদীটির দুই তীরের প্রজাপতি, কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া ও মণ্ডলপাড়া এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে গত পাঁচ বছর ধরে ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে।

ইসলামপুর : যমুনার মণ্ডলপাড়া পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই সাপধরীর এই শাখা নদীটির বাম তীরের কাশারীডোবা ও আকন্দপাড়া পয়েন্টে এবং মণ্ডলপাড়া পয়েন্টে যমুনার ডান তীরে ভয়াবহ নদী ভাঙন চলছে। এতে এ বছরই নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে কাশারীডোবা ও আকন্দপাড়া এলাকার পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, দুটি বাজার, চারটি স্কুল, পাঁচটি মসজিদ এবং কয়েকশ’ একর ফসলি জমি।

অপরদিকে সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ী পয়েন্টে উৎপত্তি হওয়া যমুনার এই শাখা নদীটি সাপধরীর পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। সাপধরী পশ্চিম সীমানার এই শাখা নদটির ভয়াবহ ভাঙনে বিগত বন্যা মৌসুমে সাপধরী ইউনিয়নের বিশরশি গ্রামটির অন্তত: ২০০ পরিবারের বসতভিটাসহ প্রায় দুই হাজার একর ফসলি জমি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। এ বছরেও বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই বিশরশি, মণ্ডলপাড়া ও দক্ষিণ শিশুয়া এলাকায় চলছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।

সাপধরী ইউনিয়নের কাশারীডোবা গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আজিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সাপধরীর পশ্চিম সীমানা দিয়ে প্রবাহিত শাখা নদীটির বাম তীরের ভাঙন প্রতিরোধের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ বছরের ভয়াবহ ভাঙনে মণ্ডলপাড়া, বিশরশি ও দক্ষিণ শিশুয়া গ্রাম দুটির অন্তত: ৫০০ পরিবারের বসতভিটাসহ কমপক্ষে দুই হাজার একর ফসলি জমি যমুনা গর্ভে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসলামপুর : যমুনার আকন্দপাড়া পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম মণ্ডল জানান, সাপধরী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া, বিশরশি ও দক্ষিণ শিশুয়া গ্রাম তিনটির পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনার ছোট্ট একটি শাখা নদীর বাম তীরে গত দুই বছর ধরে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। বিগত বছরের বন্যায় বিশরশি গ্রামটির সিংহভাগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এ বছরেও বর্ষা মৌসুমের আগেই শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন। এছাড়াও মণ্ডলপাড়া গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনার অপর শাখা নদীটির ভয়াবহ ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে কাশারীডোবা, আকন্দপাড়া ও মণ্ডলপাড়া গ্রামের দক্ষিণাঞ্চল। এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ বছর বর্ষা মৌসুমেই নিশ্চিহ্ন হবে সাপধরীর বিশরশি, মণ্ডলপাড়া, কাশারীডোবা ও আকন্দপাড়া গ্রাম।

তিনি আরো জানান, যমুনার এই শাখা নদী দু’টির ভাঙন কবলিত চারটি পয়েন্টেই অবিলম্বে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হলে নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে শত শত একর ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ জনপদ।।