ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে সবুজপুর ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসার পাঠদান

সবুজপুর ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসায় পাঠদান করছেন শিক্ষক কামরুল ইসলাম। ছবি: বিল্লাল হোসেন মন্ডল

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সবুজপুর ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসায় জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার হাতীভাঙ্গা ইউনিয়মের সবুজপুর গ্রামে দাখিল মাদরাসাটি ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হলেও হয়নি কোনো অবকাঠামো উন্নয়ন। ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন শিক্ষকেরা নিজের খেয়ে এবং নিজেদের অর্থায়নে টিনশেড মাদরাসাটি মেরামত করে পাঠদান করে আসছেন। মাদরাসায় ১৪ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৫৬ জন। বাঁশ, টিন ও কাঠের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরি করে সেখানেই চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বর্তমানে ঘরটির অবস্থাও খুবই নাজুক।

মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সোনিয়া আক্তার বলেছে, এইরকম ঘরে প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করে আমাদের ক্লাস করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে ছিদ্র হওয়া টিন থেকে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। বাথরুমে যাওয়ারও কোনো সুব্যবস্থা নেই। কবে নাগাদ দূর হবে মাদরাসার দুরাবস্থা, তা কেউ বলতে পারেন না।

জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। যেখানে চলে পাঠদান কার্যক্রম।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মাদরাসার সুপার মো. আবু মোতালেব বাংলারচিঠিডটকমকে বলেন, দীর্ঘদিন মাদরাসার শিক্ষকেরা বিনাবেতনে পাঠদান করার পর ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হলেও ঝড় বৃষ্টি রোদ মাথায় নিয়ে পাঠদান চলছে। বর্তমানে মাদরাসাটিতে অনেক শিক্ষার্থী। লেখাপড়ার গুণগত মান পরিবর্তন হলেও অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে পারিনি। মাদরাসায় একটি নতুন পাকা ভবন হলে শিক্ষার পরিবেশসহ বর্তমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে।

উপজেলা প্রকৌশলী তোফায়েল আহামেদ বাংলারচিঠিডটকমকে বলেন, মাদরাসাটির ভবন নির্মাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই ভবন নির্মাণের কাজ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স বাংলারচিঠিডটকমকে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে মাদরাসাটি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে সবুজপুর ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসার পাঠদান

আপডেট সময় ০৬:০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সবুজপুর ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসায় জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার হাতীভাঙ্গা ইউনিয়মের সবুজপুর গ্রামে দাখিল মাদরাসাটি ১৯৮৪ সালে স্থাপিত হলেও হয়নি কোনো অবকাঠামো উন্নয়ন। ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। দীর্ঘদিন শিক্ষকেরা নিজের খেয়ে এবং নিজেদের অর্থায়নে টিনশেড মাদরাসাটি মেরামত করে পাঠদান করে আসছেন। মাদরাসায় ১৪ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৫৬ জন। বাঁশ, টিন ও কাঠের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরি করে সেখানেই চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বর্তমানে ঘরটির অবস্থাও খুবই নাজুক।

মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সোনিয়া আক্তার বলেছে, এইরকম ঘরে প্রচণ্ড গরমে কষ্ট করে আমাদের ক্লাস করতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে ছিদ্র হওয়া টিন থেকে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। বাথরুমে যাওয়ারও কোনো সুব্যবস্থা নেই। কবে নাগাদ দূর হবে মাদরাসার দুরাবস্থা, তা কেউ বলতে পারেন না।

জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর। যেখানে চলে পাঠদান কার্যক্রম।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মাদরাসার সুপার মো. আবু মোতালেব বাংলারচিঠিডটকমকে বলেন, দীর্ঘদিন মাদরাসার শিক্ষকেরা বিনাবেতনে পাঠদান করার পর ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হলেও ঝড় বৃষ্টি রোদ মাথায় নিয়ে পাঠদান চলছে। বর্তমানে মাদরাসাটিতে অনেক শিক্ষার্থী। লেখাপড়ার গুণগত মান পরিবর্তন হলেও অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে পারিনি। মাদরাসায় একটি নতুন পাকা ভবন হলে শিক্ষার পরিবেশসহ বর্তমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে।

উপজেলা প্রকৌশলী তোফায়েল আহামেদ বাংলারচিঠিডটকমকে বলেন, মাদরাসাটির ভবন নির্মাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই ভবন নির্মাণের কাজ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স বাংলারচিঠিডটকমকে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে মাদরাসাটি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।