ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার সাংবাদিক প্রবেশে কেন্দ্র সচিবের নিষেধাজ্ঞা মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে জিডি করলেন বকশীগঞ্জ পৌর সচিব

বকশীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন।

বকশীগঞ্জ পৌরসভার সচিব (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা) মো. নুরুল আমিন।

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু
নিজস্ব প্রতিবেদক, বকশীগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নেয়া ঘুষের সাড়ে ৪ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো কাল্পনিক অভিযোগে ভুক্তভোগী চাকরি প্রত্যাশী বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বকশীগঞ্জ পৌরসভার সচিব (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা) মো. নুরুল আমিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী গ্রামের মো. ইদ্রিছ আলীর ছেলে আবদুর রাজ্জাক ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে বকশীগঞ্জ পৌরসভায় মাস্টার রোলে (অস্থায়ী চাকরি) কাজ করে আসছেন। এ অবস্থায় পৌরসভার সচিব মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।

এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাককে স্থায়ী চাকরিতে নিয়োগের আশ্বাস দেন। এরই মধ্যে ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি বকশীগঞ্জ পৌরসভায় একাধিক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি জারির পর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে চাকরি পাইয়ে দিতে পৌর সচিব আব্দুর রাজ্জাকের কাছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। একপর্যায়ে পৌর সচিবের প্রলোভনে ২০২৩ সালের ১২ মে নুরুল আমিনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দেন আব্দুর রাজ্জাক।

শেষ পর্যন্ত চাকরি না পেয়ে পৌর সচিবের কাছে ঘুষের সেই টাকাগুলো ফেরত চান আব্দুর রাজ্জাক। পৌর সচিব টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। উল্টো তাকে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগে ৪ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ থানায় আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন পৌর সচিব মো. নুরুল আমিন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাকে পৌরসভায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পৌর সচিব মো. নুরুল আমিন আমার কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু তিনি চাকরিও দেননি। সেই টাকা ফেরতও দেননি। সেই টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমার বিরুদ্ধেই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। মূলত টাকা দেবেন না বলেই তিনি থানায় আমার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করে আমার টাকাগুলো ফেরতসহ পৌরসচিবের বিচার দাবি করেছি।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ পৌর সচিব মো. নুরুল আমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বানোয়াট। আমাকে হুমকি দেওয়ার কারণে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। তবে তিনি টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অহনা জিন্নাত এ প্রতিবেদককে বলেন এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে জিডি করলেন বকশীগঞ্জ পৌর সচিব

আপডেট সময় ০৬:০৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বকশীগঞ্জ পৌরসভার সচিব (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা) মো. নুরুল আমিন।

জিএম ফাতিউল হাফিজ বাবু
নিজস্ব প্রতিবেদক, বকশীগঞ্জ, বাংলারচিঠিডটকম

চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নেয়া ঘুষের সাড়ে ৪ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো কাল্পনিক অভিযোগে ভুক্তভোগী চাকরি প্রত্যাশী বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন বকশীগঞ্জ পৌরসভার সচিব (পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা) মো. নুরুল আমিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কামালের বার্ত্তী গ্রামের মো. ইদ্রিছ আলীর ছেলে আবদুর রাজ্জাক ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে বকশীগঞ্জ পৌরসভায় মাস্টার রোলে (অস্থায়ী চাকরি) কাজ করে আসছেন। এ অবস্থায় পৌরসভার সচিব মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।

এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাককে স্থায়ী চাকরিতে নিয়োগের আশ্বাস দেন। এরই মধ্যে ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি বকশীগঞ্জ পৌরসভায় একাধিক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি জারির পর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর পদে চাকরি পাইয়ে দিতে পৌর সচিব আব্দুর রাজ্জাকের কাছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। একপর্যায়ে পৌর সচিবের প্রলোভনে ২০২৩ সালের ১২ মে নুরুল আমিনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দেন আব্দুর রাজ্জাক।

শেষ পর্যন্ত চাকরি না পেয়ে পৌর সচিবের কাছে ঘুষের সেই টাকাগুলো ফেরত চান আব্দুর রাজ্জাক। পৌর সচিব টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। উল্টো তাকে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগে ৪ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ থানায় আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন পৌর সচিব মো. নুরুল আমিন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাকে পৌরসভায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পৌর সচিব মো. নুরুল আমিন আমার কাছ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ নেন। কিন্তু তিনি চাকরিও দেননি। সেই টাকা ফেরতও দেননি। সেই টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমার বিরুদ্ধেই থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। মূলত টাকা দেবেন না বলেই তিনি থানায় আমার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন। ১১ সেপ্টেম্বর আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করে আমার টাকাগুলো ফেরতসহ পৌরসচিবের বিচার দাবি করেছি।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ পৌর সচিব মো. নুরুল আমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বানোয়াট। আমাকে হুমকি দেওয়ার কারণে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। তবে তিনি টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অহনা জিন্নাত এ প্রতিবেদককে বলেন এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।