ঢাকা ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যমুনা সার কারখানা পরিদর্শনে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে তারাকান্দিতে বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, জাল জব্দ ও ব্যবসায়ীকে জরিমানা কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দুর্গাপূজায় ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ দিয়ে নজরদারি করবে আনসার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে : সাখাওয়াত হোসেন নকলায় জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত দুর্গাপূজা : অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে বস্ত্র উপহার দিলেন ছাত্রদলনেতা মাহমুদুল ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দু’দিন ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জামালপুর জেলা কারাগারে ৬ কয়েদি নিহত

জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারে বন্দি আসামিদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দিলে ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ বন্দিরা বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ছয়জন কারাবন্দি নিহত এবং জেলার, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার আবু ফাতাহ।

৯ আগস্ট শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কারাগারের প্রধান গেইটে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার ফহিমের ছেলে আরমান, মাসুদের ছেলে শ্যামল, নুরুল ইসলামের ছেলে জসিম ও রাহাত, ফজলে রাব্বি বাবু, রায়হান নিহত হয়েছেন। এছাড়াও জেলার আবু ফাতাহ, কারারক্ষী রুকুনুজ্জামান (৫০), সাদেক আলী (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (৪১) ও সোহেল রানাসহ ১৯ জন আহত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মামলার বন্দি আসামিরা গত কয়েকদিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে। অন্য মামলার আসামিরা কারাগারে বন্দি রয়েছে। সেই বন্দি আসামিরা দুইভাগে বিভক্ত হয়। তাদের একটি পক্ষ মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করে এবং অপর পক্ষকে মারধর করে। পরে ওই বিদ্রোহী গ্রুপ দায়িত্বরত কারারক্ষীদের হাত-পা বাঁধে এবং জিম্মি করে। পরে বিদ্রোহীরা প্রথম গেইট দিয়ে জেলার কক্ষে ঢুকে তাঁকে প্রধান গেইট খুলে দিতে বলেন। তখন তিনি গেইট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিদ্রোহীরা তাঁর উপর আক্রমণ এবং মারধর করে। পরে বন্দিদের একটি পক্ষ ও কারারক্ষীদের সহায়তায় তিনি বের হয়ে আসেন। এ সময় বিদ্রোহীরা জেলারের কক্ষ, হাসপাতাল ও বন্দিদের সাতটি সেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। পরে পিরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কারারক্ষীদের পাশাপাশি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে অবস্থান নেন।

এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, বন্দিদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি শুরু করে। এ সময় তারা আমাকে ও কারারক্ষীদের উপর আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়া হয়। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন বন্দি নিহত হয়েছে এবং আমি, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনা সার কারখানা পরিদর্শনে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা

জামালপুর জেলা কারাগারে ৬ কয়েদি নিহত

আপডেট সময় ০৫:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪
জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারে বন্দি আসামিদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দিলে ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ বন্দিরা বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ছয়জন কারাবন্দি নিহত এবং জেলার, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার আবু ফাতাহ।

৯ আগস্ট শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কারাগারের প্রধান গেইটে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার ফহিমের ছেলে আরমান, মাসুদের ছেলে শ্যামল, নুরুল ইসলামের ছেলে জসিম ও রাহাত, ফজলে রাব্বি বাবু, রায়হান নিহত হয়েছেন। এছাড়াও জেলার আবু ফাতাহ, কারারক্ষী রুকুনুজ্জামান (৫০), সাদেক আলী (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (৪১) ও সোহেল রানাসহ ১৯ জন আহত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মামলার বন্দি আসামিরা গত কয়েকদিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে। অন্য মামলার আসামিরা কারাগারে বন্দি রয়েছে। সেই বন্দি আসামিরা দুইভাগে বিভক্ত হয়। তাদের একটি পক্ষ মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করে এবং অপর পক্ষকে মারধর করে। পরে ওই বিদ্রোহী গ্রুপ দায়িত্বরত কারারক্ষীদের হাত-পা বাঁধে এবং জিম্মি করে। পরে বিদ্রোহীরা প্রথম গেইট দিয়ে জেলার কক্ষে ঢুকে তাঁকে প্রধান গেইট খুলে দিতে বলেন। তখন তিনি গেইট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিদ্রোহীরা তাঁর উপর আক্রমণ এবং মারধর করে। পরে বন্দিদের একটি পক্ষ ও কারারক্ষীদের সহায়তায় তিনি বের হয়ে আসেন। এ সময় বিদ্রোহীরা জেলারের কক্ষ, হাসপাতাল ও বন্দিদের সাতটি সেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। পরে পিরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কারারক্ষীদের পাশাপাশি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে অবস্থান নেন।

এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, বন্দিদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি শুরু করে। এ সময় তারা আমাকে ও কারারক্ষীদের উপর আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়া হয়। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন বন্দি নিহত হয়েছে এবং আমি, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়।