ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যমুনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সরিষাবাড়ীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ গুম বিষয়ক প্রস্তাবিত আইন ভিকটিমের সরাসরি ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামপুর উপজেলা সমিতি ঢাকার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ মাদারগঞ্জে ডোবায় পড়ে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু দলের নাম ভাঙিয়ে নৈরাজ্যকারীদের বিএনপিতে ঠাঁই নেই : শামীম তালুকদার জামালপুরে জাতীয় যুবশক্তির সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে দুই শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে থানায় মামলা ইসলামপুর হবে আগামী প্রজন্মের সেরা বাসস্থান : সুলতান মাহমুদ বাবু যুব সমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে কাজ করছে বিএনপি সরকার : শামীম তালুকদার দেশকে স্বনির্ভর করা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার : পানিসম্পদ মন্ত্রী

জামালপুর জেলা কারাগারে ৬ কয়েদি নিহত

জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারে বন্দি আসামিদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দিলে ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ বন্দিরা বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ছয়জন কারাবন্দি নিহত এবং জেলার, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার আবু ফাতাহ।

৯ আগস্ট শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কারাগারের প্রধান গেইটে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার ফহিমের ছেলে আরমান, মাসুদের ছেলে শ্যামল, নুরুল ইসলামের ছেলে জসিম ও রাহাত, ফজলে রাব্বি বাবু, রায়হান নিহত হয়েছেন। এছাড়াও জেলার আবু ফাতাহ, কারারক্ষী রুকুনুজ্জামান (৫০), সাদেক আলী (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (৪১) ও সোহেল রানাসহ ১৯ জন আহত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মামলার বন্দি আসামিরা গত কয়েকদিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে। অন্য মামলার আসামিরা কারাগারে বন্দি রয়েছে। সেই বন্দি আসামিরা দুইভাগে বিভক্ত হয়। তাদের একটি পক্ষ মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করে এবং অপর পক্ষকে মারধর করে। পরে ওই বিদ্রোহী গ্রুপ দায়িত্বরত কারারক্ষীদের হাত-পা বাঁধে এবং জিম্মি করে। পরে বিদ্রোহীরা প্রথম গেইট দিয়ে জেলার কক্ষে ঢুকে তাঁকে প্রধান গেইট খুলে দিতে বলেন। তখন তিনি গেইট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিদ্রোহীরা তাঁর উপর আক্রমণ এবং মারধর করে। পরে বন্দিদের একটি পক্ষ ও কারারক্ষীদের সহায়তায় তিনি বের হয়ে আসেন। এ সময় বিদ্রোহীরা জেলারের কক্ষ, হাসপাতাল ও বন্দিদের সাতটি সেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। পরে পিরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কারারক্ষীদের পাশাপাশি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে অবস্থান নেন।

এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, বন্দিদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি শুরু করে। এ সময় তারা আমাকে ও কারারক্ষীদের উপর আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়া হয়। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন বন্দি নিহত হয়েছে এবং আমি, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যমুনায় বালু উত্তোলন নিয়ে সরিষাবাড়ীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

জামালপুর জেলা কারাগারে ৬ কয়েদি নিহত

আপডেট সময় ০৫:২৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অগাস্ট ২০২৪
জামালপুর জেলা কারাগারের প্রধান ফটক। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুর জেলা কারাগারে বন্দি আসামিদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা দেখা দিলে ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ বন্দিরা বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ছয়জন কারাবন্দি নিহত এবং জেলার, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার আবু ফাতাহ।

৯ আগস্ট শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কারাগারের প্রধান গেইটে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় জামালপুর সদর উপজেলার ফহিমের ছেলে আরমান, মাসুদের ছেলে শ্যামল, নুরুল ইসলামের ছেলে জসিম ও রাহাত, ফজলে রাব্বি বাবু, রায়হান নিহত হয়েছেন। এছাড়াও জেলার আবু ফাতাহ, কারারক্ষী রুকুনুজ্জামান (৫০), সাদেক আলী (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (৪১) ও সোহেল রানাসহ ১৯ জন আহত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মামলার বন্দি আসামিরা গত কয়েকদিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে। অন্য মামলার আসামিরা কারাগারে বন্দি রয়েছে। সেই বন্দি আসামিরা দুইভাগে বিভক্ত হয়। তাদের একটি পক্ষ মুক্তির জন্য বিদ্রোহ করে এবং অপর পক্ষকে মারধর করে। পরে ওই বিদ্রোহী গ্রুপ দায়িত্বরত কারারক্ষীদের হাত-পা বাঁধে এবং জিম্মি করে। পরে বিদ্রোহীরা প্রথম গেইট দিয়ে জেলার কক্ষে ঢুকে তাঁকে প্রধান গেইট খুলে দিতে বলেন। তখন তিনি গেইট খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিদ্রোহীরা তাঁর উপর আক্রমণ এবং মারধর করে। পরে বন্দিদের একটি পক্ষ ও কারারক্ষীদের সহায়তায় তিনি বের হয়ে আসেন। এ সময় বিদ্রোহীরা জেলারের কক্ষ, হাসপাতাল ও বন্দিদের সাতটি সেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে কারারক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে থাকে। পরে পিরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কারারক্ষীদের পাশাপাশি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কারাগারে অবস্থান নেন।

এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা যায়। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতরা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, বন্দিদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মারামারি শুরু করে। এ সময় তারা আমাকে ও কারারক্ষীদের উপর আক্রমণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়া হয়। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন বন্দি নিহত হয়েছে এবং আমি, কারারক্ষী ও বন্দিসহ ১৯ জন আহত হয়।