
মমিনুল ইসলাম কিসমত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সরিষাবাড়ী, বাংলারচিঠিডটকম
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর এডভোকেট মতিউর রহমান তালুকদারের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১৬ জুলাই মঙ্গলবার প্রয়াত এ নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে এডভোকেট মতিউর রহমান স্মৃতি সংসদ।
এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল, মরহুমের নিজবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল, অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ, কোরআন খতম ও স্মরণসভা।
এডভোকেট মতিউর রহমান তালুকদার স্মৃতি সংসদের সভাপতি আজমত আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা, মরহুমের ছেলে সাবেক প্রতিমন্ত্রী চিকিৎসক মুরাদ হাসান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন পাঠান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, আওয়ামী লীগনেতা আবুল হোসেন, পৌর কাউন্সিল সাখাওয়াত আলম মুকুল প্রমুখ।
জানা যায়, মতিউর রহমান তালুকদার ১৯৩৪ সালের ১ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গ প্রদেশের ময়মনসিংহ জেলা জামালপুর মহকুমার সরিষাবাড়ীতে সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কাল থেকে তিনি মেধাবী ছিলেন তিনি। তিনি ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। ১৯৫৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে ১৯৬৯ সালে দেশব্যাপী গণ-আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে তিনি বঙ্গবন্ধুর মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরে বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে জামালপুরে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি। প্রয়াত আপোষহীন এই নেতা আওয়ামী রাজনীতির চরম দুঃসময়ে সামরিক বাহিনীর রক্তচক্ষুর ভয়ে তিনি কখনও ভীত ছিলেন না। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ফ্রিডম পার্টির নৈরাজ্য, জামাত-শিবির ও বিএনপি’র সন্ত্রাস বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করাসহ দলের সকল কর্মকাণ্ডেই তিনি একজন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি ২০০৮ সালের ১৬ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলার চিঠি ডেস্ক : 










