ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশুধর্ষণ মামলার আসামিকে ১০ বছরের আটকাদেশ গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সংলাপ, গঠিত হল মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্ক জামালপুরে শিক্ষার্থী অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে কৃষি বিভাগের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত ইসলামপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পেল নতুন পোশাক একাত্তর টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত সহজপাঠ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সরিষাবাড়ীতে হয়ে গেল ঘুড়ি উৎসব মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার যে জাতি সঙ্গীতকে গুরুত্ব দেয়, সে জাতি উন্নত মানসিকতার পরিচয় বহন করে : সংস্কৃতি মন্ত্রী

ইসলামপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

লিয়াকত হোসাইন লায়ন
ইসলামপুর প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর বাংলার অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসলামপুর উপজেলায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানামোড় বটতলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনজীবী জামাল আব্দুন নাছের বাবুল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানূর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মানিকুল ইসলাম মানিক, শাহাদত হোসেন স্বাধীন, ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু নাছের চৌধুরী চার্লেস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহ-কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেন স্বাধীন বলেন, ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে ইসলামপুর উপজেলার উত্তর দরিয়াবাদ ফকির পাড়া গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা ইসলামপুর সিরাজাবাদ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে আখ ক্ষেতে একটি ক্যাম্প স্থাপন করে সেখান থেকেই গেরিলা যুদ্ধ চালানো হয় । মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প দখলের উদ্দেশ্যে ৬ ডিসেম্বর দুপুরে ইসলামপুরের পলবান্ধা পশ্চিম বাহাদুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন সিরাজাবাদ সড়কে অবস্থান নিয়ে চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে হানাদার ক্যাম্পে চারিদিক থেকে আক্রমণ চালায়। সেদিন দুপুর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত একটানা যুদ্ধ হয়।

সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে টিকতে না পেরে হানাদার বাহিনী অস্ত্র, গোলাবারুদসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ফেলে ট্রেনযোগে জামালপুরের দিকে পালিয়ে যায়। হানাদার বাহিনী ইসলামপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ইসলামপুর থানা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ নেতাসহ হাজারও মুক্তিকামী জনতা আনন্দ উল্লাস করে ইসলামপুর থানা চত্বরে সমবেত হন। সেই সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ইসলামপুরের মাটিতে প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই দিন থেকেই ইসলামপুরের মাটি শত্রুমুক্ত হয় ।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুধর্ষণ মামলার আসামিকে ১০ বছরের আটকাদেশ

ইসলামপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

আপডেট সময় ০৪:১৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩
ইসলামপুর হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

লিয়াকত হোসাইন লায়ন
ইসলামপুর প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের ইসলামপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর বাংলার অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসলামপুর উপজেলায় প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানামোড় বটতলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আইনজীবী জামাল আব্দুন নাছের বাবুল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহানূর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মানিকুল ইসলাম মানিক, শাহাদত হোসেন স্বাধীন, ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু নাছের চৌধুরী চার্লেস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সহ-কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত হোসেন স্বাধীন বলেন, ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশে ইসলামপুর উপজেলার উত্তর দরিয়াবাদ ফকির পাড়া গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা ইসলামপুর সিরাজাবাদ এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে আখ ক্ষেতে একটি ক্যাম্প স্থাপন করে সেখান থেকেই গেরিলা যুদ্ধ চালানো হয় । মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাক হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প দখলের উদ্দেশ্যে ৬ ডিসেম্বর দুপুরে ইসলামপুরের পলবান্ধা পশ্চিম বাহাদুরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন সিরাজাবাদ সড়কে অবস্থান নিয়ে চারটি ভাগে বিভক্ত হয়ে হানাদার ক্যাম্পে চারিদিক থেকে আক্রমণ চালায়। সেদিন দুপুর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত একটানা যুদ্ধ হয়।

সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে টিকতে না পেরে হানাদার বাহিনী অস্ত্র, গোলাবারুদসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ফেলে ট্রেনযোগে জামালপুরের দিকে পালিয়ে যায়। হানাদার বাহিনী ইসলামপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ইসলামপুর থানা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ নেতাসহ হাজারও মুক্তিকামী জনতা আনন্দ উল্লাস করে ইসলামপুর থানা চত্বরে সমবেত হন। সেই সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন ইসলামপুরের মাটিতে প্রথম বিজয় পতাকা উত্তোলন করেন। সেই দিন থেকেই ইসলামপুরের মাটি শত্রুমুক্ত হয় ।