ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিজিবি’র অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে ভারতীয় মদসহ প্রাইভেট কার জব্দ, আটক ২ মাদারগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে মরে যাচ্ছে মরিচগাছ, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়ন ভারত সয়েল ফিভারে থাইল্যান্ডে ৫৭০ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৫ দীর্ঘ ৫ বছর পর ছেলের সাথে ফোনে কথা বললেন অং সান সু চি

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন : নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তীরের বাসিন্দারা

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মুত্তাছিম বিল্লাহ, মেলান্দহ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের পচাবহলা এলাকা থেকে সাদিপাটি বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার আলাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ফসলি জমিসহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

জানা গেছে, জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়ন থেকে যমুনার শাখা আলাই নদীর উৎপত্তি। প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে বন্যার পানি বাড়ার ফলে তীব্র ভাঙন শুরু হয় এই নদীর তীরে। গত কয়েক বছরের ভাঙনে বিলীন হয়েছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পানি বেড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন নদী পাড়ের মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, আলাই নদীতে চার বছর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ বছরও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সাদিপাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদিপাটি বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদসহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত সড়ক ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় লোকজন যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না।

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

স্থানীয় পারভিন বেগম জানান, আমার ঘর ভাঙতে শুধু এক হাত বাকি আছে। এই এক হাত ভাঙলেই ঘর ভেঙে যাবে। আমার আর জায়গা-জমি নাই। কখন যে ভেঙে পড়বে জানি না। রাতে ঘুমাতে পারি না ভাঙনের চিন্তায়।

সাদিপাটি এলাকার আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, রাস্তা, জায়গা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের বাড়ি হুমকিতে আছে। কখন যে ভাঙে এই ভয়ে আছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

সাদিপাটি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আহমদ উল্লাহ বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে মসজিদের কিনারে এসেছে। মসজিদের পিলার বেরিয়ে এসেছে। এ বছরে নতুন পানি এসেছে, এখন যদি ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে মসজিদ কী হবে জানি না। আমাদের দাবি দ্রুত যেন ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, আলাই নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ খুবই আতঙ্কে রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম মিঞা বলেন, আলাই নদীতে ভাঙনের বিষয়ে জানতে পেরেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন : নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তীরের বাসিন্দারা

আপডেট সময় ০৬:১৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩
মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

মুত্তাছিম বিল্লাহ, মেলান্দহ প্রতিনিধি, বাংলারচিঠিডটকম: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের পচাবহলা এলাকা থেকে সাদিপাটি বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার আলাই নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ফসলি জমিসহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

জানা গেছে, জেলার ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়ন থেকে যমুনার শাখা আলাই নদীর উৎপত্তি। প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে বন্যার পানি বাড়ার ফলে তীব্র ভাঙন শুরু হয় এই নদীর তীরে। গত কয়েক বছরের ভাঙনে বিলীন হয়েছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ি। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পানি বেড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন নদী পাড়ের মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, আলাই নদীতে চার বছর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ বছরও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সাদিপাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদিপাটি বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদসহ প্রায় ৫০০ বসতবাড়ি ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। সাদিপাটি থেকে পচাবহলা পর্যন্ত সড়ক ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় লোকজন যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করতে পারছেন না।

মেলান্দহে আলাই নদীতে ভাঙন। ছবি: বাংলারচিঠিডটকম

স্থানীয় পারভিন বেগম জানান, আমার ঘর ভাঙতে শুধু এক হাত বাকি আছে। এই এক হাত ভাঙলেই ঘর ভেঙে যাবে। আমার আর জায়গা-জমি নাই। কখন যে ভেঙে পড়বে জানি না। রাতে ঘুমাতে পারি না ভাঙনের চিন্তায়।

সাদিপাটি এলাকার আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, রাস্তা, জায়গা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের বাড়ি হুমকিতে আছে। কখন যে ভাঙে এই ভয়ে আছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।

সাদিপাটি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আহমদ উল্লাহ বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে মসজিদের কিনারে এসেছে। মসজিদের পিলার বেরিয়ে এসেছে। এ বছরে নতুন পানি এসেছে, এখন যদি ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে মসজিদ কী হবে জানি না। আমাদের দাবি দ্রুত যেন ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, আলাই নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ খুবই আতঙ্কে রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম মিঞা বলেন, আলাই নদীতে ভাঙনের বিষয়ে জানতে পেরেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।