ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪ বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণার আহ্বান ল্যানসেটের দুর্নীতি ও দাবানল মোকাবিলায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভ ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে শেরপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ জামালপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ নিরাপদ সড়কের জন্য রোড-শো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন তাকাইচি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ মোকাবিলায় ভারতে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

পুকুরে বাসর রাত কাটিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি!

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: শেরপুরে পুকুরে বাসর রাত কাটিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এক ওয়ার্কশপ মিস্ত্রী। ওই শ্রমিকের নাম হালিম মিয়া (২৫)। তার বাড়ি সদর উপজেলার চরশেরপুর সাতানীপাড়ায়। ২২ জুলাই দুপুরে ওই এলাকায় পুকুরে বাসর ঘর তৈরির ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। এ ঘটনার পর বিকেল থেকে বাসর ঘরটি দেখতে ভিড় শুরু করে আশপাশের উৎসুক জনতা।

জানা যায়, সাতানীপাড়ার আব্দুল হামিদের ৯ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট হালিম মিয়া। সে পেশায় ওয়ার্কশপ মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করে। তার ইচ্ছা ছিল ব্যতিক্রমীভাবে বিয়ে করার। সেই ইচ্ছা থেকে এমন ভিন্ন আয়োজনের কথা মাথায় আসে তার।

হালিম মিয়া বলেন, বিয়ের কথা ফাইনাল হওয়ার পর থেকে আমার ইচ্ছা হয় ব্যতিক্রম কিছু করার। সেই ব্যতিক্রমী ইচ্ছা থেকে আমার নানা ও চাচা মিলে উদ্যোগ নেয় পুকুরের পানিতে বাসরঘর তৈরি করার। পরে ৪-৫দিন ধরে স্বজনরা আমাদের বাড়ির পাশে পুকুরের উপর খুব কষ্ট করে তৈরি করে এ বাসরঘর। পরে আশপাশের মানুষ বাসরঘরটি দেখতে আমার বাড়িতে আসতে শুরু করে। আমার খুব ভালো লাগছে, আমি অনেক উৎসাহ পাচ্ছি।

চাচা রোকন সরকার বলেন, ভাতিজার খুব ইচ্ছা ব্যতিক্রমভাবে বিয়ে করবে। পরে বিয়ে ঠিক হলে আমরা পারিবারিকভাবে কয়েকবার বসে সিদ্ধান্ত নেই কী করা যায়। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় পানির উপরে বাসরঘর করার। বাড়ির পাশে একটা পুকুর আছে, সেই পুকুরের মাঝখানে বাসরঘর বানানোর কাজ শুরু হয়। এ সময় অনেক মানুষ আজেবাজে কথা বলে। এক সময় কাজটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে বাসরঘরটি দেখতে মানুষের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে।

টাংগারপাড়া থেকে বাসরঘর দেখতে আসা বজলুর রহমান বলেন, এর আগে আমার জীবনে এমন বাসরঘর দেখি নাই। এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পেরে দেখতে এসেছি, আসলেই ব্যতিক্রমী এটি।

পার্শ্ববর্তী তালুকপাড়া থেকে আসা খাইরুল ইসলাম বলেন, পানির মধ্যে বাসরঘর সত্যিই খুব ভালো হয়েছে। এটি চমৎকার একটি আইডিয়া।

চরশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, আমার ইউনিয়নে এমন বিয়ে হওয়ায় মানুষের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়েছে। পানিতে এমন বাসরঘর দেখি নাই। মানুষ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখতে আসে এই বিয়ে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শেরপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪

পুকুরে বাসর রাত কাটিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি!

আপডেট সময় ০৩:০৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ জুলাই ২০২২

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর, বাংলারচিঠিডটকম: শেরপুরে পুকুরে বাসর রাত কাটিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এক ওয়ার্কশপ মিস্ত্রী। ওই শ্রমিকের নাম হালিম মিয়া (২৫)। তার বাড়ি সদর উপজেলার চরশেরপুর সাতানীপাড়ায়। ২২ জুলাই দুপুরে ওই এলাকায় পুকুরে বাসর ঘর তৈরির ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। এ ঘটনার পর বিকেল থেকে বাসর ঘরটি দেখতে ভিড় শুরু করে আশপাশের উৎসুক জনতা।

জানা যায়, সাতানীপাড়ার আব্দুল হামিদের ৯ ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবার ছোট হালিম মিয়া। সে পেশায় ওয়ার্কশপ মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করে। তার ইচ্ছা ছিল ব্যতিক্রমীভাবে বিয়ে করার। সেই ইচ্ছা থেকে এমন ভিন্ন আয়োজনের কথা মাথায় আসে তার।

হালিম মিয়া বলেন, বিয়ের কথা ফাইনাল হওয়ার পর থেকে আমার ইচ্ছা হয় ব্যতিক্রম কিছু করার। সেই ব্যতিক্রমী ইচ্ছা থেকে আমার নানা ও চাচা মিলে উদ্যোগ নেয় পুকুরের পানিতে বাসরঘর তৈরি করার। পরে ৪-৫দিন ধরে স্বজনরা আমাদের বাড়ির পাশে পুকুরের উপর খুব কষ্ট করে তৈরি করে এ বাসরঘর। পরে আশপাশের মানুষ বাসরঘরটি দেখতে আমার বাড়িতে আসতে শুরু করে। আমার খুব ভালো লাগছে, আমি অনেক উৎসাহ পাচ্ছি।

চাচা রোকন সরকার বলেন, ভাতিজার খুব ইচ্ছা ব্যতিক্রমভাবে বিয়ে করবে। পরে বিয়ে ঠিক হলে আমরা পারিবারিকভাবে কয়েকবার বসে সিদ্ধান্ত নেই কী করা যায়। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় পানির উপরে বাসরঘর করার। বাড়ির পাশে একটা পুকুর আছে, সেই পুকুরের মাঝখানে বাসরঘর বানানোর কাজ শুরু হয়। এ সময় অনেক মানুষ আজেবাজে কথা বলে। এক সময় কাজটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে বাসরঘরটি দেখতে মানুষের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে।

টাংগারপাড়া থেকে বাসরঘর দেখতে আসা বজলুর রহমান বলেন, এর আগে আমার জীবনে এমন বাসরঘর দেখি নাই। এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পেরে দেখতে এসেছি, আসলেই ব্যতিক্রমী এটি।

পার্শ্ববর্তী তালুকপাড়া থেকে আসা খাইরুল ইসলাম বলেন, পানির মধ্যে বাসরঘর সত্যিই খুব ভালো হয়েছে। এটি চমৎকার একটি আইডিয়া।

চরশেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা বলেন, আমার ইউনিয়নে এমন বিয়ে হওয়ায় মানুষের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়েছে। পানিতে এমন বাসরঘর দেখি নাই। মানুষ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখতে আসে এই বিয়ে।