ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কন্যাশিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক জনতার হাতে আটক যোগিরঘোপায় পানিবন্দি ২০০ পরিবার পেল বিএনপির ত্রাণ সহায়তা শেরপুরে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কৃষি উপকরণ বিতরণ দেওয়ানগঞ্জে সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিডি ক্লিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ জামানত ছাড়াই ৫ কোটি টাকা ঋণ পাবে তরুণ উদ্যোক্তারা : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হেফাজ উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ

শেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে পাশে দাঁড়ালো জেলা প্রশাসন

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে তাদের সহায়তা প্রদান করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। ৪ আগস্ট বিকেলে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে হিজড়াদের জন্য গড়ে তোলা আন্ধারিয়া স্বপ্নের ঠিকানা গুচ্ছগ্রামের মুক্তমঞ্চে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন। এ মতবিনিময় সভা থেকে হিজড়াদের জন্য আর্থিক অনুদানসহ নানা ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ প্রধান অতিথি এবং পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সদর ইউএনও মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারি চাঁন, জনউদ্যোগ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি হিজড়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিন হিজড়াদের আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বীতা অর্জনের জন্য হিজড়া নিশি সরকারকে গরু কেনা বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং হিজড়া মোর্শেদাকে গাভী কেনার জন্য ৩৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বপ্নের ঠিকানায় বসবাসকারি হিজড়াদের পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের আওতায় এককালীন তহবিল হিসেবে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং ঘুর্ণায়মান তহবিলের ঋণ প্রদানের জন্য আরও ৫ লক্ষ টাকার থোক বরাদ্দ প্রদান করে জেলা প্রশাসন। হিজড়াদের বিনোদনের জন্য একটি এলইডি টেলিভিশনও প্রদান করা হয়।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম স্বপ্নের ঠিকানা হিজড়া গুচ্ছগ্রামের সবগুলো ঘরের ভিটি পাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা দু’টি সিলিং ফ্যান প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে হিজড়াদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ইউএনও জেলায় হিজড়াদের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনা এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্তকরণের কাজ করায় নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ এবং এর আহŸায়ক আবুল কালাম আজাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটি জেলায় হিজড়াদের সংগঠিত করে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনে। এরই ধারাবাহিকতায় সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর মৌজার আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায় দুই একর খাস জমির ওপর ওপর ৪০ জন হিজড়াদের বসবাসের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠির এ গুচ্ছগ্রাম।

গত ৭ জুন ওই গুচ্ছগ্রামে হিজড়াদের পূণর্বাসন করে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন। গুচ্ছগ্রামে বাসস্থানের সুযোগ পেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজি ছেড়ে আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে শেরপুরের হিজড়ারা।

কেউ কেউ হাঁস-মুরগি লালন-পালন, পশুপালন, খোলা জমিতে সবজি চাষ, পুকুরে মাছের চাষ, কাপড় সেলাইয়ের কাজ করছেন। আবার কেউ নিজেদেরকে আত্মকর্মে নিয়োজিত করার মধ্যদিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে চাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ জানান, হিজড়ারা যেকোনো কর্মমুখী উদ্যোগ নিলে জেলা প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে এবং সবরকম সহযোগিতা প্রদান করবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে পাশে দাঁড়ালো জেলা প্রশাসন

আপডেট সময় ০৭:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
শেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে তাদের সহায়তা প্রদান করা হয়। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরে হিজড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। ৪ আগস্ট বিকেলে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে হিজড়াদের জন্য গড়ে তোলা আন্ধারিয়া স্বপ্নের ঠিকানা গুচ্ছগ্রামের মুক্তমঞ্চে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন। এ মতবিনিময় সভা থেকে হিজড়াদের জন্য আর্থিক অনুদানসহ নানা ধরনের সহযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ প্রধান অতিথি এবং পুলিশ সুপার হাসান নাহিদ চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সদর ইউএনও মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারি চাঁন, জনউদ্যোগ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি হিজড়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এদিন হিজড়াদের আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বীতা অর্জনের জন্য হিজড়া নিশি সরকারকে গরু কেনা বাবদ ৩০ হাজার টাকা এবং হিজড়া মোর্শেদাকে গাভী কেনার জন্য ৩৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বপ্নের ঠিকানায় বসবাসকারি হিজড়াদের পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের আওতায় এককালীন তহবিল হিসেবে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা এবং ঘুর্ণায়মান তহবিলের ঋণ প্রদানের জন্য আরও ৫ লক্ষ টাকার থোক বরাদ্দ প্রদান করে জেলা প্রশাসন। হিজড়াদের বিনোদনের জন্য একটি এলইডি টেলিভিশনও প্রদান করা হয়।

সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম স্বপ্নের ঠিকানা হিজড়া গুচ্ছগ্রামের সবগুলো ঘরের ভিটি পাকা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহা জামান শাপলা দু’টি সিলিং ফ্যান প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে হিজড়াদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও ইউএনও জেলায় হিজড়াদের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনা এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্তকরণের কাজ করায় নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ এবং এর আহŸায়ক আবুল কালাম আজাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীবৃন্দ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটি জেলায় হিজড়াদের সংগঠিত করে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনে। এরই ধারাবাহিকতায় সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর মৌজার আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায় দুই একর খাস জমির ওপর ওপর ৪০ জন হিজড়াদের বসবাসের জন্য সরকারিভাবে নির্মিত হয়েছে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠির এ গুচ্ছগ্রাম।

গত ৭ জুন ওই গুচ্ছগ্রামে হিজড়াদের পূণর্বাসন করে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন। গুচ্ছগ্রামে বাসস্থানের সুযোগ পেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজি ছেড়ে আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছে শেরপুরের হিজড়ারা।

কেউ কেউ হাঁস-মুরগি লালন-পালন, পশুপালন, খোলা জমিতে সবজি চাষ, পুকুরে মাছের চাষ, কাপড় সেলাইয়ের কাজ করছেন। আবার কেউ নিজেদেরকে আত্মকর্মে নিয়োজিত করার মধ্যদিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে চাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ জানান, হিজড়ারা যেকোনো কর্মমুখী উদ্যোগ নিলে জেলা প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে এবং সবরকম সহযোগিতা প্রদান করবে।