ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন ওয়েজ বোর্ডসহ সাংবাদিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী জামালপুরে সাংবাদিকদের নিয়ে জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালা সমাপ্ত বকশীগঞ্জে মাটিকাটার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা জামালপুরে জেলা শ্রমিকদলের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ অনুষ্ঠিত জামালপুর সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের নবনির্মিত তিনটি ভবন উদ্বোধন দেওয়ানগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জামালপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত জামালপুরে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধে করণীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেওয়ানগঞ্জে নাশকতা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্যের পিএস গ্রেপ্তার

জামালপুরের প্রবীণ আওয়ামী লীগনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন আর নেই

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বাংলারচিঠিডটকম

বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রবীণ আওয়ামী লীগনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রাদেশিক আইন পরিষদ সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী আশরাফ হোসেন (৮৩) আর নেই। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়েসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

পরিবার সূত্র জানায়, প্রবীণ আওয়ামী লীগনেতা আশরাফ হোসেনের মরদেহ প্রথমে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ময়নসিংহ মহানগরের বাগরাসা এলাকায় নিজবাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহ আঞ্জুমান ঈদগাহে এশার নামাজের পর তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনিংহের মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকায় কফিন ঢেকে দিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা সরকারবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় সরকারবাড়ি প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠানের আগে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন শাস্ত্রে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে দীর্ঘদিন ময়মনসিংহে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে রয়েছে তার অনেক অবদান। ১৯৫৮ সালে গঠিত ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্টের অন্যতম নেতা এবং বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ (বর্তমানে জামালপুর-১) থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে গণপরিষদ সদস্যও ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদনকারীদের অন্যতম। জামালপুর জেলা ঘোষিত হলে তিনিই প্রথম জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন জামালপুর মহকুমা শাখার সহ-সভাপতি এবং একই সময়কালে তিনি দেওয়ানগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেনের মৃত্যুতে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

জামালপুরের প্রবীণ আওয়ামী লীগনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন আর নেই

আপডেট সময় ০৫:১৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বাংলারচিঠিডটকম

বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রবীণ আওয়ামী লীগনেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রাদেশিক আইন পরিষদ সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী আশরাফ হোসেন (৮৩) আর নেই। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়েসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

পরিবার সূত্র জানায়, প্রবীণ আওয়ামী লীগনেতা আশরাফ হোসেনের মরদেহ প্রথমে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ময়নসিংহ মহানগরের বাগরাসা এলাকায় নিজবাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহ আঞ্জুমান ঈদগাহে এশার নামাজের পর তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনিংহের মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকায় কফিন ঢেকে দিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার পাখিমারা সরকারবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় সরকারবাড়ি প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠানের আগে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেন ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন শাস্ত্রে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করে দীর্ঘদিন ময়মনসিংহে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে রয়েছে তার অনেক অবদান। ১৯৫৮ সালে গঠিত ইস্ট বেঙ্গল লিবারেশন ফ্রন্টের অন্যতম নেতা এবং বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ (বর্তমানে জামালপুর-১) থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে গণপরিষদ সদস্যও ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদনকারীদের অন্যতম। জামালপুর জেলা ঘোষিত হলে তিনিই প্রথম জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন জামালপুর মহকুমা শাখার সহ-সভাপতি এবং একই সময়কালে তিনি দেওয়ানগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ হোসেনের মৃত্যুতে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।