ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে : স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বিজিবি’র অভিযান : দেওয়ানগঞ্জে ভারতীয় মদসহ প্রাইভেট কার জব্দ, আটক ২ মাদারগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে মরে যাচ্ছে মরিচগাছ, কৃষকের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন ইসলামপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ, চ্যাম্পিয়ন ভারত সয়েল ফিভারে থাইল্যান্ডে ৫৭০ জন আক্রান্ত, মৃত্যু ৪৫ দীর্ঘ ৫ বছর পর ছেলের সাথে ফোনে কথা বললেন অং সান সু চি

শিকলবন্দী জীবন

নিরুপতি কোচ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিরুপতি কোচ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

নিরুপতি কোচ (৩৭)। প্রায় এক যুগ আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের এই নারী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সে যেন কোথাও হারিয়ে না যায় এ কারণে তার মা তাকে পায়ে শিকলের বেড়ি পরিয়ে বাড়িতে রেখেছেন। আর্থিক সামর্থ না থাকায় নিরুপতির ভাগ্যে জোটেনি চিকিৎসা সেবা। এখনও চলছে ওই নারীর শিকলবন্দী জীবন। ওই নারীর বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউপির নওকুচি গ্রামে। সে ওই গ্রামের সতেন্দ্র কোচের স্ত্রী।

নিরুপতির বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচ জানান, বিশ বছর আগে স্থানীয় সতেন্দ্র কোচের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। আর বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর মা হন নিরুপতি। এরপর থেকেই সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এ সময় তার মেয়ে বাড়ির কাউকে কিছু না বলে এদিক সেদিক চলে যেত। সে যেন কোথাও হারিয়ে না যায় তাই পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়। এক বছর হলো তার মেয়ে স্বামী হয়। ফলে অভাব-অনটন, দুঃখ, দুর্দশা নিরুপতির নিত্যসঙ্গী।

পাতিশ্বরী আরও জানান, তিনি নিজেও সহায়-সম্বলহীন। তবুও মেয়ের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ান। চিকিৎসা করানোর সামর্থ না থাকায় তাই এক যুগ ধরে মেয়ে শিকলবন্দী।

মেয়ের জন্য একটি বিধবা ভাতা কার্ড পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পাতিশ্বরী।

এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের কাজ চলছে : তথ্যমন্ত্রী

শিকলবন্দী জীবন

আপডেট সময় ০১:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০
নিরুপতি কোচ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

নিরুপতি কোচ (৩৭)। প্রায় এক যুগ আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের এই নারী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। সে যেন কোথাও হারিয়ে না যায় এ কারণে তার মা তাকে পায়ে শিকলের বেড়ি পরিয়ে বাড়িতে রেখেছেন। আর্থিক সামর্থ না থাকায় নিরুপতির ভাগ্যে জোটেনি চিকিৎসা সেবা। এখনও চলছে ওই নারীর শিকলবন্দী জীবন। ওই নারীর বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউপির নওকুচি গ্রামে। সে ওই গ্রামের সতেন্দ্র কোচের স্ত্রী।

নিরুপতির বৃদ্ধা মা পাতিশ্বরী কোচ জানান, বিশ বছর আগে স্থানীয় সতেন্দ্র কোচের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। আর বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর মা হন নিরুপতি। এরপর থেকেই সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এ সময় তার মেয়ে বাড়ির কাউকে কিছু না বলে এদিক সেদিক চলে যেত। সে যেন কোথাও হারিয়ে না যায় তাই পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়। এক বছর হলো তার মেয়ে স্বামী হয়। ফলে অভাব-অনটন, দুঃখ, দুর্দশা নিরুপতির নিত্যসঙ্গী।

পাতিশ্বরী আরও জানান, তিনি নিজেও সহায়-সম্বলহীন। তবুও মেয়ের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দিতে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়ান। চিকিৎসা করানোর সামর্থ না থাকায় তাই এক যুগ ধরে মেয়ে শিকলবন্দী।

মেয়ের জন্য একটি বিধবা ভাতা কার্ড পেতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পাতিশ্বরী।

এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ।