নালিতাবাড়ীতে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, করোনা সন্দেহে ১০টি বাড়ি লকডাউন

মৃত ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে ৩০ মার্চ দুপুরে তার শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

সুজন সেন, নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর
বাংলারচিঠিডটকম

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় আব্দুল আওয়াল নামে এক নির্মাণ শ্রমিক তিনদিন তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগে মারা যান। ওই মৃত ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে ৩০ মার্চ দুপুরে তার শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে তা ঢাকার আইইসিডিআরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন করেছে। ২৯ মার্চ রাত ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ পলাশী কুঁড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান আওয়াল।

মৃতের স্বজন ও প্রতিবেশিরা জানান, আব্দুল আওয়াল অন্তত এক যুগ ধরে শ্বাসকষ্ট (হাঁপানী) জনিত রোগে ভোগছিলেন। বর্তমানে বাগেরহাট জেলার রামপাল খয়লারহাট এলাকার পুলিশফাঁড়ি সংলগ্ন স্থানে একটি কনস্ট্রাকশন কাজের পাইলিং মিস্ত্রি হিসাবে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে অঘোষিত লকডাউন চলায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তিনি এবং সঙ্গীয় অন্যান্য শ্রমিকরা ২৬ মার্চ সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে ২৭ মার্চ বিকেলে নিজবাড়ি পলাশি কুড়ায় ফিরেন। এরই মধ্যে ২৯ মার্চ রাতসাড়ে নয়টার দিকে তার জ¦র আর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃতের ভাতিজা জাকির হোসেন বলেন, চাচা দীর্ঘদিন যাবত শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। তার গলা ব্যথা বা পাতলা পায়খানা এমন কোন লক্ষণ ছিলনা। ২৯ মার্চ রাতে জ¦র ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে তিনি মারা যান।

আওয়ালের সহকর্মী একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, তার (আওয়াল) শরীরে করোনাভাইরাসের কোন লক্ষণ ছিলনা। আমাদের সাথেই কাজ করতেন। আমরা সবাই এক সাথে সুস্থ অবস্থায় ২৬ মার্চ বাড়ি ফিরেছি। তিনি মূলত আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন।

মৃত ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে ৩০ মার্চ দুপুরে তার শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

প্রতিবেশী আহের উদ্দিন বলেন, বহুদিন যাবত আওয়াল হাঁপানী রোগে আক্রান্ত। ২৬ মার্চ বিকেলেও আমার বাড়ি থেকে ঘুরে গেছে। রাতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে সে মারা যায়।

অপর প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রবিউল আলম ইউসুফ বলেন, গত ৩ বছর যাবত তার শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে গিয়েছিল। এলাকায় থাকলে বেশির ভাগ সময় আমার বাড়িতেই কাটত। করোনার কোন লক্ষণ তার শরীরে ছিলনা। তবে এ ঘটনায় জনমনে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আইইসিডিআর থেকে রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন চিকিৎসক এ কে এম আনোয়ারুল রউফ।

মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশ পাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে তা ঢাকার আইইসিডিআরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আইইডিসিআরের নির্দেশনা মেনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। এসময় তিনি জনসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।