
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বাংলারচিঠিডটকম
একজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পলাতক আসামি সাহাব উদ্দিন (৪১) জামালপুরের ইসলামপুর থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ১৪ মার্চ দুপুরে ইসলামপুর ডাকবাংলোয় তিনি পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরপুঠিমারী ইউনিয়নের আইরমারী গ্রামের সবেল শেখের ছেলে সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে গাজীপুরের টঙ্গী থানায় মাদক কারবারি, স্ত্রীকে নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ৭-৮টি মামলা রয়েছে। দুটি মামলায় সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশপত্র ইসলামপুর থানায় এলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়। এরই মধ্যে সাহাব উদ্দিন স্বেচ্ছায় সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চরপুঠিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সামছুজ্জামান সুরুজের মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলালের কাছে আবেদন জানান। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সুস্থ জীবনে ফিরে আসা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংসদ সদস্যের আশ^াসের প্রেক্ষিতে আসামি সাহাব উদ্দিন আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
১৪ মার্চ দুপুরে ইসলামপুর ডাকবাংলো ভবনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলাল ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সামছুজ্জামান সুরুজসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক লোকের উপস্থিতিতে আসামি সাহাব উদ্দিন ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন এ প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদককে বলেন, আসামি সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নিজ এলাকা ইসলামপুর থানায় কোনো মামলা নেই। মূলত: তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পৌর এলাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতেন। সেখানেই তিনি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। টঙ্গী থানায় তার বিরুদ্ধে ৭-৮টি মামলা রয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলেও তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলহাজতে পাঠিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমেই তাকে টঙ্গী থানায় পাঠানো হবে।
এ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলাল এ প্রতিবেদককে বলেন, আসামি সাহাব উদ্দিন এখন অনুতপ্ত। আমার কাছে কথা দিয়েছে সে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চায়। আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং স্বেচ্ছায় সুস্থ জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে বর্তমান সরকারের নানামুখী উদ্যোগের আলোকে আমি চেষ্টা করে দেখবো তার জন্য কিছু করা যায় কিনা।
বাংলার চিঠি ডেস্ক : 



















