ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জানালো দেওয়ানগঞ্জবাসী পুড়িয়ে হত্যা : আসামির মৃত্যুদণ্ড, ধর্ষণ : আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জামালপুরে বাল্যবিবাহ-শিশুশ্রম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সঙ্গে এপির মতবিনিময় বীর মুক্তিযোদ্ধা বারী মণ্ডল আর নেই, তাঁর প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন জামালপুরে অংশীজনদের সাথে সমঝোতা স্মারক ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ বিএনপিনেতা জিএস ফিরোজ মিয়ার গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ সংসদ সদস্য শামীম তালুকদারের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল বকশীগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু

বকশীগঞ্জে প্রশাসনের কঠোরতায় নিষিদ্ধ পলিথিন উধাও, ব্যবহার হচ্ছে কাপড়ের তৈরি ব্যাগ

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পলিথিন উধাও হয়েছে।

ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির অপরাধে দুইজনকে কারাদন্ডও দেওয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে অনেক ব্যবসায়ীকে।

জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ বিভাগকে পলিথিন মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান এনডিসি এই ঘোষণা দেন। এরই লক্ষ্যে এই বিভাগের সকল উপজেলাকে পলিথিন মুক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। এরপর থেকে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন আ স ম জামশেদ খোন্দকার। তিনি এই উপজেলায় যোগ দিয়েই পলিথিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। প্রথমে ব্যবসায়ীদের ডেকে সতর্ক করা, সচেতনতা সৃষ্টি, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহারের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার আদেশ সকলকে ফলো করতে বলেন।

শুধু তাই নয় বকশীগঞ্জ পৌর শহর, নঈম মিয়র বাজার, সারমারা বাজার, কামালের বার্ত্তী বাজার, জিন্নাহ বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ইউএনও আ স ম জামশেদ খোন্দকার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদা পারভীন পলিথিনের উপর অভিযান পরিচালনা করেন।

বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে যেখানে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি করা হতো অভিযানের পর প্রকাশ্যে পলিথিন বিক্রেতারা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পলিথিন বিক্রি করায় দুই ব্যবসায়ী সাতদিন করে কারাদন্ডও দেওয়া হয়েছে।

কয়েকদিনের অভিযানে পাল্টে গেছে পলিথিন বিক্রিতাদের চিত্র। এখন কোথাও কোনো ব্যবসায়ী, বা ক্রেতারা পলিথিন ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে না। পলিথিনের পরিবর্তে কোথাও কোথাও পাটের ব্যাগ বা কাপড়ের তৈরি ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানের পর পলিথিন ব্যবহার ৯৫ ভাগ কমে গেছে। তবে অভিযান অব্যাহত থাকলে দু’এক মাসের মধ্যে পলিথিন ব্যবহার শূন্যের কোঠায় চলে আসবে।

পলিথিন রোধ করা প্রসঙ্গে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে জেলা নেটওয়ার্ক ফোরামের’ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আফসার আলী বলেন, যেভাবে পলিথিন ব্যবহার বেড়ে গিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানের পর তা অনেকাংশে কমে গেছে। অভিযানের পরিধি বাড়ালে সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হেদায়েত হোসনা উল্লাহ বলেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করায় অসাধু কিছু লোকের সমস্যা হলেও পরিবেশের জন্য তা খুবই উপকার হচ্ছে। তিনি পলিথিন বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, পলিথিন নিয়ে সরকারের দেওয়া ম্যাসেজ জনগণকে জানানো হচ্ছে। প্রশাসনের অগোচরে কাউকে পলিথিন ব্যবহার, বিক্রি, ক্রয় করতে দেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার রোধে আমরা অভিযান অব্যাহত রাখব এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া

বকশীগঞ্জে প্রশাসনের কঠোরতায় নিষিদ্ধ পলিথিন উধাও, ব্যবহার হচ্ছে কাপড়ের তৈরি ব্যাগ

আপডেট সময় ০৬:২৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পলিথিন উধাও হয়েছে।

ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রির অপরাধে দুইজনকে কারাদন্ডও দেওয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে অনেক ব্যবসায়ীকে।

জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ বিভাগকে পলিথিন মুক্ত ঘোষণা করা হয়। ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান এনডিসি এই ঘোষণা দেন। এরই লক্ষ্যে এই বিভাগের সকল উপজেলাকে পলিথিন মুক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। এরপর থেকে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেন আ স ম জামশেদ খোন্দকার। তিনি এই উপজেলায় যোগ দিয়েই পলিথিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। প্রথমে ব্যবসায়ীদের ডেকে সতর্ক করা, সচেতনতা সৃষ্টি, নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহারের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার আদেশ সকলকে ফলো করতে বলেন।

শুধু তাই নয় বকশীগঞ্জ পৌর শহর, নঈম মিয়র বাজার, সারমারা বাজার, কামালের বার্ত্তী বাজার, জিন্নাহ বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ইউএনও আ স ম জামশেদ খোন্দকার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদা পারভীন পলিথিনের উপর অভিযান পরিচালনা করেন।

বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে যেখানে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি করা হতো অভিযানের পর প্রকাশ্যে পলিথিন বিক্রেতারা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পলিথিন বিক্রি করায় দুই ব্যবসায়ী সাতদিন করে কারাদন্ডও দেওয়া হয়েছে।

কয়েকদিনের অভিযানে পাল্টে গেছে পলিথিন বিক্রিতাদের চিত্র। এখন কোথাও কোনো ব্যবসায়ী, বা ক্রেতারা পলিথিন ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে না। পলিথিনের পরিবর্তে কোথাও কোথাও পাটের ব্যাগ বা কাপড়ের তৈরি ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানের পর পলিথিন ব্যবহার ৯৫ ভাগ কমে গেছে। তবে অভিযান অব্যাহত থাকলে দু’এক মাসের মধ্যে পলিথিন ব্যবহার শূন্যের কোঠায় চলে আসবে।

পলিথিন রোধ করা প্রসঙ্গে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে জেলা নেটওয়ার্ক ফোরামের’ কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আফসার আলী বলেন, যেভাবে পলিথিন ব্যবহার বেড়ে গিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানের পর তা অনেকাংশে কমে গেছে। অভিযানের পরিধি বাড়ালে সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হেদায়েত হোসনা উল্লাহ বলেন, বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করায় অসাধু কিছু লোকের সমস্যা হলেও পরিবেশের জন্য তা খুবই উপকার হচ্ছে। তিনি পলিথিন বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, পলিথিন নিয়ে সরকারের দেওয়া ম্যাসেজ জনগণকে জানানো হচ্ছে। প্রশাসনের অগোচরে কাউকে পলিথিন ব্যবহার, বিক্রি, ক্রয় করতে দেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার রোধে আমরা অভিযান অব্যাহত রাখব এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।