ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ মাদকাসক্ত ছেলেকে ধরিয়ে দিলেন মা, হল ছয় মাসের জেল জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তৈরি করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া : তথ্যমন্ত্রী অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উন্মোচন জামালপুরে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু মাদারগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের রুগ্নদশার অবসান চাই কাল পিতৃভূমি বগুড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মারা গেছেন পলান সরকার

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক : প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পথে ঘুরে ঘুরে বইপড়া আন্দোলন গড়ে তুলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগে ৯৮ বছর বয়সে ১ মার্চ বেলা ১২টার ২০ মিনিটে তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলা বাউশার নিজ বাড়িতে মারা যান। পলান সরকার ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। ২০১১ সালে সামাজসেবায় অবদানের জন্য তাকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। বিনামূল্যে বই বিতরণ করে সকলের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য পলান সরকার ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবেও ভূষিত হন।

পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে জন্মের পর থেকেই মা ‘পলান’ নামে ডাকতেন। দেশব্যাপী তিনি পলান নামেই পরিচিতি পেয়েছেন।

তিনি ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বাবা মারা যান। আর্থিক টানাপোড়েনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই লেখাপড়ায় ইতি টানতে হয় পলান সরকারকে।

১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই বই পাগল গুণী ব্যক্তিটি প্রথম দিকে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিলি শুরু করেন।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের বই পড়া আন্দোলনের ভিত তৈরি করেন তিনি। স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন পলান সরকার। এলাকার মানুষকে বিনা পয়সায় বই পড়াতেন তিনি। তবে শর্ত ছিলো পড়া শেষে বই ফেরত দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা তালিকায় এক থেকে ১০ ক্রমিক প্রাপ্তদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন। পরে সবাইকেই বই দেয়া শুরু করেন। এভাবে পায়ে হেঁটে একটানা ৩০ বছরের বেশি বই বিলি করেছেন পলান সরকার।
সূত্র : বাসস

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারগঞ্জে যমুনার বালুর চরে ফিরেছে সবুজ প্রাণ

মারা গেছেন পলান সরকার

আপডেট সময় ০৬:২৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০১৯

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক : প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পথে ঘুরে ঘুরে বইপড়া আন্দোলন গড়ে তুলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগে ৯৮ বছর বয়সে ১ মার্চ বেলা ১২টার ২০ মিনিটে তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলা বাউশার নিজ বাড়িতে মারা যান। পলান সরকার ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। ২০১১ সালে সামাজসেবায় অবদানের জন্য তাকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। বিনামূল্যে বই বিতরণ করে সকলের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য পলান সরকার ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবেও ভূষিত হন।

পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে জন্মের পর থেকেই মা ‘পলান’ নামে ডাকতেন। দেশব্যাপী তিনি পলান নামেই পরিচিতি পেয়েছেন।

তিনি ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বাবা মারা যান। আর্থিক টানাপোড়েনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই লেখাপড়ায় ইতি টানতে হয় পলান সরকারকে।

১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই বই পাগল গুণী ব্যক্তিটি প্রথম দিকে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিলি শুরু করেন।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের বই পড়া আন্দোলনের ভিত তৈরি করেন তিনি। স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন পলান সরকার। এলাকার মানুষকে বিনা পয়সায় বই পড়াতেন তিনি। তবে শর্ত ছিলো পড়া শেষে বই ফেরত দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা তালিকায় এক থেকে ১০ ক্রমিক প্রাপ্তদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন। পরে সবাইকেই বই দেয়া শুরু করেন। এভাবে পায়ে হেঁটে একটানা ৩০ বছরের বেশি বই বিলি করেছেন পলান সরকার।
সূত্র : বাসস