ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভিউ প্রতিযোগিতার নামে অপসাংবাদিকতা বন্ধের আহ্বান আতিকুর রহমান রুমনের মূলধারার গণমাধ্যমের পেশা চর্চায় অনৈতিক বাধা মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ : তথ্যমন্ত্রী মাদারগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী : জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যােগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যাকাণ্ডে আদালতে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী সন্ত্রাসমুক্ত হবে জঙ্গল সলিমপুর, এখনই কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিঞ্জিরাম নদে শিশু নিখোঁজ ব্রহ্মপুত্র নদে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার নরুন্দিতে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মারা গেছেন পলান সরকার

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক : প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পথে ঘুরে ঘুরে বইপড়া আন্দোলন গড়ে তুলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগে ৯৮ বছর বয়সে ১ মার্চ বেলা ১২টার ২০ মিনিটে তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলা বাউশার নিজ বাড়িতে মারা যান। পলান সরকার ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। ২০১১ সালে সামাজসেবায় অবদানের জন্য তাকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। বিনামূল্যে বই বিতরণ করে সকলের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য পলান সরকার ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবেও ভূষিত হন।

পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে জন্মের পর থেকেই মা ‘পলান’ নামে ডাকতেন। দেশব্যাপী তিনি পলান নামেই পরিচিতি পেয়েছেন।

তিনি ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বাবা মারা যান। আর্থিক টানাপোড়েনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই লেখাপড়ায় ইতি টানতে হয় পলান সরকারকে।

১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই বই পাগল গুণী ব্যক্তিটি প্রথম দিকে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিলি শুরু করেন।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের বই পড়া আন্দোলনের ভিত তৈরি করেন তিনি। স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন পলান সরকার। এলাকার মানুষকে বিনা পয়সায় বই পড়াতেন তিনি। তবে শর্ত ছিলো পড়া শেষে বই ফেরত দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা তালিকায় এক থেকে ১০ ক্রমিক প্রাপ্তদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন। পরে সবাইকেই বই দেয়া শুরু করেন। এভাবে পায়ে হেঁটে একটানা ৩০ বছরের বেশি বই বিলি করেছেন পলান সরকার।
সূত্র : বাসস

আপলোডকারীর তথ্য

ভিউ প্রতিযোগিতার নামে অপসাংবাদিকতা বন্ধের আহ্বান আতিকুর রহমান রুমনের

মারা গেছেন পলান সরকার

আপডেট সময় ০৬:২৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মার্চ ২০১৯

বাংলারচিঠি ডটকম ডেস্ক : প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পথে ঘুরে ঘুরে বইপড়া আন্দোলন গড়ে তুলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগে ৯৮ বছর বয়সে ১ মার্চ বেলা ১২টার ২০ মিনিটে তিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলা বাউশার নিজ বাড়িতে মারা যান। পলান সরকার ছয় ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিজের টাকায় বই কিনে পাঠকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন পলান সরকার। ২০১১ সালে সামাজসেবায় অবদানের জন্য তাকে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। বিনামূল্যে বই বিতরণ করে সকলের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য পলান সরকার ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবেও ভূষিত হন।

পলান সরকারের আসল নাম হারেজ উদ্দিন সরকার। তবে জন্মের পর থেকেই মা ‘পলান’ নামে ডাকতেন। দেশব্যাপী তিনি পলান নামেই পরিচিতি পেয়েছেন।

তিনি ১৯২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তার বাবা মারা যান। আর্থিক টানাপোড়েনে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই লেখাপড়ায় ইতি টানতে হয় পলান সরকারকে।

১৯২১ সালে জন্ম নেয়া এই বই পাগল গুণী ব্যক্তিটি প্রথম দিকে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিলি শুরু করেন।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের বই পড়া আন্দোলনের ভিত তৈরি করেন তিনি। স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন পলান সরকার। এলাকার মানুষকে বিনা পয়সায় বই পড়াতেন তিনি। তবে শর্ত ছিলো পড়া শেষে বই ফেরত দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা তালিকায় এক থেকে ১০ ক্রমিক প্রাপ্তদের তিনি একটি করে বই উপহার দিতেন। পরে সবাইকেই বই দেয়া শুরু করেন। এভাবে পায়ে হেঁটে একটানা ৩০ বছরের বেশি বই বিলি করেছেন পলান সরকার।
সূত্র : বাসস