প্রাণ বাঁচাতে পারে শিক্ষার্থী সেজানের রোবটিক গাড়ি!

নিজের আবিষ্কার করা রোবটিক গাড়ির রিমোট কন্ট্রোল হাতে সেজান। ছবি : সুজন সেন
নিজের আবিষ্কার করা রোবটিক গাড়ির রিমোট কন্ট্রোল হাতে সেজান। ছবি : সুজন সেন

সুজন সেন, শেরপুর ॥
শেরপুরের নকলা উপজেলার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাবিদুর রহমান সেজান নামে এক শিক্ষার্থী উদ্ভাবন করেছেন রোবটিক গাড়ি। সেজানের দাবি তার উদ্ভাবিত রোবটিক গাড়ি অগণিত উদ্ধারকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম। ইতোমধ্যে তার আবিষ্কার করা ওই গাড়িটি সবার নজর কেড়েছে, সৃষ্টি হয়েছে আলোড়ন।

সেজান উপজেলা পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নকলা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের বড় ছেলে।

সেজানের পারিবারিক সূত্র জানায়, ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন উদ্ভাবন বা আবিষ্কারের প্রতি ছিল সেজানের ব্যাপক আগ্রহ। সুযোগ পেলেই সে তৈরি করতো বিভিন্ন চমকপ্রদ খেলনা। এজন্য তার বন্ধুরা তাকে বিজ্ঞানী বলে ডাকতো এবং এখনও ডাকে। রানা প্লাজা ধ্বংসের পরে উদ্ধার কাজ, হলি আর্টিজান হোটেলে জঙ্গি আস্তানায় উদ্ধার, আগুনলাগা স্থানসহ বিভিন্ন উদ্ধার কাজে জটিলতা ও নিহতের ঘটনা দেখে সেজান মনে মনে পরিকল্পনা নেয় কিভাবে হতাহতের ঘটনা ছাড়া দ্রুত উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা যায়। এরপর থেকে সে ছোট পরিসরে গবেষণা কাজ শুরু করে। অবশেষে সেজান বাইরে থেকে রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত রোবট গাড়ি আবিষ্কার করে। ওই গাড়ি সব বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম।

সেজান জানায়, গাড়িটি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাইরের নিয়ন্ত্রকদের কাছে অনবরত ছবি ও সরাসরি ভিডিও পাঠাবে এবং তার অবস্থান জানিয়ে দেবে রোবটিক গাড়ি। বাইরে থেকে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং ভিডিও দেখে সে মোতাবেক উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে পারবে উদ্ধার কর্মীরা। তাছাড়া ছবি দেখে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা সহজ হবে। তাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দ্রুত সময়ের মধ্যে যেকোনো উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার উদ্দীন বলেন, রোবটিক গাড়িটি উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলায় প্রদর্শন করে সেজান ও তার দল প্রথমস্থান অধিকার করে। পরে ওই দলটি জেলা ছাড়িয়ে বিভাগীয় পর্যায়েও (ময়মনসিংহ) পদক অর্জন করতে সক্ষম হয়। এর আগে ২০১৬ সালে রেললাইন সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল দিতে সক্ষম এমন একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করে উপজেলা ছাড়িয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সেজান। ওই সিগন্যালটি রেললাইনের কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে তা আগাম জানান দিতে সক্ষম। কিন্তু পৃষ্টপোষকতার অভাবে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

রেললাইনের ত্রুটির আগাম সিগন্যাল, বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া মানুষদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করাসহ নানা ধরনের জনকল্যাণ মূলক প্রযুক্তি উপহার দিতে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা চেয়েছে সাবিদুর রহমান সেজান।

বাবা আনিসুর রহমান বলেন, সেজান ছোট থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট। তাই বিভিন্ন জিনিস উদ্ভাবনে সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় নানা উপকরণ বাজার থেকে এনে দেন তিনি।

নকলা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব বলেন, সেজান বরাবরই আধুনিক প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী। ওর আবিষ্কার বিদ্যালয়কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ওই বিদ্যালয়ের আইটি (ইনফরমেশন টেকনোলজি) বিষয়ক শিক্ষক সামিউল হক মুক্তা বলেন, সেজানের আগ্রহ দেখে তিনিসহ সবাই খুব খুশি হয়ে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

লাইব্রেরিয়ান আইয়্যুব খান বলেন, লাইব্রেরিতে সেজানের উপস্থিতিই প্রমাণ করে তার জানার আগ্রহ প্রবল। আর এই আগ্রহের ফলই হলো বিভিন্ন বিষয়ে উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেজানের সফলতা।