ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, আসামি সাইদুর মুন্সিকে ৮ বছরের জেল সরিষাবাড়ীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ৫ নভেম্বর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি বাস্তবায়ন ডিসেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

শসা চাষে বদলাচ্ছে মাদারগঞ্জের কৃষকের ভাগ্য

মাদারগঞ্জ : বাজারজাত করার জন্য জমানো হচ্ছে পলিথিনের ব্যাগে ভরা শসা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এবার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার চাষ করা হয়েছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় শসা চাষে ঝুঁকছেন এই উপজেলার কৃষকেরা।

অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। উৎপাদিত শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল।

মাদারগঞ্জ : চলছে শসা পরিষ্কার ও বস্তাজাত করার কাজ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কৃষকেরা জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শসা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এবার আগাম শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার আবাদ। মাচায় ফুটেছে হলুদ-সাদা ফুল। কোথাও থরে থরে ঝুলছে শসা। কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কেউ ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরছেন। শসাভর্তি বস্তা অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাজারে। এবার কৃষকেরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।

জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, শসার বীজ রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এবার শসার ফলন ভাল হয়েছে। বাজারে দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে। ফলন ও দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে শসা চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।

বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভাল ফলন হলে প্রতি বিঘার শসা বিক্রি করা যায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। তবে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর প্রকৃত লাভের পরিমাণ নির্ভর করে। এবার দাম ভাল থাকায় আমরা খুশি। আগামীতে আরও জমিতে শসা চাষ করার ইচ্ছা আছে।

মাদারগঞ্জ : ট্রাকে করে বাজারজাত করা হচ্ছে বস্তায় বস্তায় শসা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, এবার মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসার আবাদ করছেন। এবার প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য উপযোগী। ফলে প্রতিবছরই শসার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভাল হয়েছে।

শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

শসা চাষে বদলাচ্ছে মাদারগঞ্জের কৃষকের ভাগ্য

আপডেট সময় ১০:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এবার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার চাষ করা হয়েছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় শসা চাষে ঝুঁকছেন এই উপজেলার কৃষকেরা।

অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। উৎপাদিত শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভাল।

মাদারগঞ্জ : চলছে শসা পরিষ্কার ও বস্তাজাত করার কাজ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

কৃষকেরা জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শসা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এবার আগাম শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার আবাদ। মাচায় ফুটেছে হলুদ-সাদা ফুল। কোথাও থরে থরে ঝুলছে শসা। কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কেউ ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরছেন। শসাভর্তি বস্তা অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাজারে। এবার কৃষকেরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।

জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, শসার বীজ রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এবার শসার ফলন ভাল হয়েছে। বাজারে দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে। ফলন ও দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে শসা চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।

বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভাল ফলন হলে প্রতি বিঘার শসা বিক্রি করা যায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। তবে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর প্রকৃত লাভের পরিমাণ নির্ভর করে। এবার দাম ভাল থাকায় আমরা খুশি। আগামীতে আরও জমিতে শসা চাষ করার ইচ্ছা আছে।

মাদারগঞ্জ : ট্রাকে করে বাজারজাত করা হচ্ছে বস্তায় বস্তায় শসা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, এবার মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসার আবাদ করছেন। এবার প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য উপযোগী। ফলে প্রতিবছরই শসার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভাল হয়েছে।