ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাহাদুরাবাদ-বালাসি দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ২৬ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত দুই প্রবাসীর কফিনবন্দি মরদেহ জামালপুরে শেষ হল তিনদিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা মাদকের সাথে জড়িত বিএনপি নেতা-কর্মীদের সর্বপ্রথম গ্রেপ্তার করুন : ওয়ারেছ আলী মামুন জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ : প্রধানমন্ত্রী আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল পাঁচ বছরে মাদারগঞ্জে এক লাখ গাছ লাগানোর ঘোষণা বিএনপির সরিষাবাড়ীতে মাদক জুয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি জামালপুরে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু

২৬ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত দুই প্রবাসীর কফিনবন্দি মরদেহ

মাদারগঞ্জ : ইরাকে নিহত মনোহর আলী ও বজলুর রশীদ। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর মরদেহ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। ২০ জুন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দুটি নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোহর আলী (৩৬)। নিহত বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে ও মনোহর আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৫ মে, সোমবার ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। ২০ জুন, শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তাদের কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না।

জানা গেছে, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে দীর্ঘ ২৬ দিন পর তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়।

২০ জুন বিকাল সাড়ে ৪টায় বজলুর রশীদ ও সাড়ে ৫টায় মনোহর আলীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। তাদের জানাজায় সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন।


মাদারগঞ্জ : ইরাকে নিহত বজলুর রশীদের নামাজে জানাজা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। এভাবে মরদেহ আসবে, কখনো ভাবিনি। এখনও অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব- জানি না।

বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনে ফিরে এসেছে। পরিবার এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় প্রশাসন পাশে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাহাদুরাবাদ-বালাসি দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

২৬ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত দুই প্রবাসীর কফিনবন্দি মরদেহ

আপডেট সময় ১১:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর মরদেহ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। ২০ জুন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দুটি নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে এবং পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। পরে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতরা হলেন বজলুর রশীদ (৩৮) ও মনোহর আলী (৩৬)। নিহত বজলুর রশীদ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে ও মনোহর আলী কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৫ মে, সোমবার ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। ২০ জুন, শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নেয়া হয়।

স্বজনদের ভাষ্য, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তাদের কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না।

জানা গেছে, কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে দীর্ঘ ২৬ দিন পর তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়।

২০ জুন বিকাল সাড়ে ৪টায় বজলুর রশীদ ও সাড়ে ৫টায় মনোহর আলীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। তাদের জানাজায় সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন।


মাদারগঞ্জ : ইরাকে নিহত বজলুর রশীদের নামাজে জানাজা। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। এভাবে মরদেহ আসবে, কখনো ভাবিনি। এখনও অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব- জানি না।

বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনে ফিরে এসেছে। পরিবার এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় প্রশাসন পাশে থাকবে।