ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা দুর্গম যমুনার চরে হেকমত আতঙ্কে অবরুদ্ধ অসহায় এক পরিবার শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এআই টুল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখছে গুগল গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান : তথ্য প্রতিমন্ত্রী কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, আসামি সাইদুর মুন্সিকে ৮ বছরের জেল সরিষাবাড়ীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ৫ নভেম্বর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

দেওয়ানগঞ্জ : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। ছবি :বাংলারচিঠিডটকম

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

১৮ জুন, ​বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে নদীভাঙনের এই নির্মম চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর বাজারের পূর্ব পাশে এবং দক্ষিণ গোয়ালকান্দা গ্রামে নদীভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বিলীন হচ্ছে গরিব ও অসহায় মানুষের বসতভিটা। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। তীব্র ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীর তীরবর্তী শত শত মানুষ। অনেক বাড়িঘর এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।

ভাঙনের শিকার তারা মিয়া জানান, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মাত্র দুই দিনের মধ্যে তাদের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় আলী আহমদ, জরিনা বেগম, রশিদ, হাফেজ ও জহুরুলও একই আক্ষেপ করেন। তারা বলেন, আমরা ত্রাণ বা সাহায্য চাই না। আমরা স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ চাই।

​উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সারোয়ার আলম বলেন, গত বছরও একইভাবে বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নদী রক্ষা বাঁধ বা ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে শুধু বসতবাড়িই নয়, ঐতিহাসিক পাথরেরচর বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, মসজিদ, সড়ক ও খেলার মাঠও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

দেওয়ানগঞ্জ : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর ও গোয়ালকান্দা এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে ইতোমধ্যে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।

​জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেককে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আমাদের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুতই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি অসহায় পরিবারের পাশে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

আপডেট সময় ১১:২৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

১৮ জুন, ​বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে নদীভাঙনের এই নির্মম চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর বাজারের পূর্ব পাশে এবং দক্ষিণ গোয়ালকান্দা গ্রামে নদীভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে বিলীন হচ্ছে গরিব ও অসহায় মানুষের বসতভিটা। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। তীব্র ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীর তীরবর্তী শত শত মানুষ। অনেক বাড়িঘর এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।

ভাঙনের শিকার তারা মিয়া জানান, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে মাত্র দুই দিনের মধ্যে তাদের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় আলী আহমদ, জরিনা বেগম, রশিদ, হাফেজ ও জহুরুলও একই আক্ষেপ করেন। তারা বলেন, আমরা ত্রাণ বা সাহায্য চাই না। আমরা স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ চাই।

​উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সারোয়ার আলম বলেন, গত বছরও একইভাবে বহু ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নদী রক্ষা বাঁধ বা ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে শুধু বসতবাড়িই নয়, ঐতিহাসিক পাথরেরচর বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, মসজিদ, সড়ক ও খেলার মাঠও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

দেওয়ানগঞ্জ : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি। ছবি : বাংলারচিঠিডটকম

​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর ও গোয়ালকান্দা এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে ইতোমধ্যে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।

​জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেককে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আমাদের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশা করছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে খুব দ্রুতই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।