জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় র্যাব সদস্যের স্ত্রী লিপি হত্যাকাণ্ডের খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সরিষাবাড়ী থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এর আগে সরিষাবাড়ী গণময়দান মাঠ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দিগপাইত-তারাকান্দি প্রধান সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে সরিষাবাড়ী থানার সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের শিথিলতার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
মানববন্ধনে নিহতের মা কল্পনা বেগম ও তার বাবা মনজুরুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার মেয়েকে যারা অন্যায়ভাবে কেড়ে নিয়েছে। তাদের ফাঁসি না দেখা পর্যন্ত আমরা শান্ত হব না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নিহতের বোন মিম ও সালেমা খাতুন, ভাবী মোমনা ও এলাকাবাসীর পক্ষে সাইফুল ইসলাম। এ সময় লিপি আক্তারের শিশু সন্তানকে স্বজনদের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও আগামী সাতদিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিবেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ, গত বছর ১১ ডিসেম্বর ভোরে পৌরসভার শিমলা বাজার এলাকায় ঘরে ঢুকে র্যাব সদস্যদের স্ত্রী লিপি খাতুনকে (৩৫) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই গৃহবধূ কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর এলাকার মহর উদ্দিনের স্ত্রী। তার স্বামী ঢাকার মোহাম্মদপুর র্যাব-২ এ কর্মকরত। গৃহবধূ উপজেলার শিমলা বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকান্ডের ২৬ দিন পার হলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
বাংলার চিঠি ডেস্ক : 



















