ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি জামালপুরে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু জামালপুরে মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী সোহেল রানা খানের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জমজমাট আয়োজনে ‘জামালপুর জেলা সমিতি অব নর্থ আমেরিকা ইনক’র অভিষেক অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে চরাঞ্চলের ২৩০ পরিবার পেল হাঁস-মুরগি জামালপুরে জেসমিন প্রকল্পের সেরা চর্চা বিষয়ক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত যমুনায় নিখোঁজ দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জামালপুরের মারিয়া জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি জানালো দেওয়ানগঞ্জবাসী

ইসলামপুরে বেড়েই চলেছে বিবাহ বিচ্ছেদ

বিবাহ একটি পবিত্র সামাজিক বন্ধন। যা মানব জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কেবল দুটি মানুষের নয়। বরং দুটি পরিবারের এবং বৃহৎ অর্থে একটি সমাজের মধ্যকার বন্ধনের প্রতিফলন।

বিবাহ মানব জীবনে স্থিতিশীলতা, ভালোবাসা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও বিশ্বাস গঠনের একটি অনন্য উপায়। কিন্তু বর্তমানে সমাজে এই স্থায়ী সম্পর্কটি বিচ্ছেদে রূপ নিয়ে আশঙ্কাজনক হারে দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে বড় কারণগুলো হল দাম্পত্য জীবনে বনিবনার অভাব, যৌতুক, বাল্যবিবাহ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। সাম্প্রতিক বছরে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৭৬৭টি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। যা দৈনিক গড়ে সাতজনের সমান।

সচেতনমহল বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে পরকীয়া, অপরিণত বয়সে বিয়ে, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার ও প্রবাস জীবনের কারণে সংসারে অস্থিরতাকেই দায়ী করেন। বিচ্ছেদের কারণে অনেকেই মামলার শিকার হয়ে আদালতে ঘুরে সেখানেও পড়ছেন বিড়ম্বনায়। তাদের মতে, পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দিলে সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ ও তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এএএম আবু তাহের বলেছেন, অল্প বয়সে বিয়ে হলে ছেলে-মেয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে মাতৃমৃত্যু হারও বৃদ্ধি পায়। বাল্যবিবাহ বিবাহ বিচ্ছেদের একটি প্রধান কারণ।

ইসলামপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা প্রতিবেদককে বলেন, আগে নারীরা স্বামীর নির্যাতন মেনে নিতেন। এখন নারীরা নির্যাতন হলেই তার প্রতিকার চান। পারিবারিক বন্ধনের দূরত্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও যৌতুক প্রথার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। এ প্রথা বিলুপ্ত হলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

ইসলামপুরে বেড়েই চলেছে বিবাহ বিচ্ছেদ

আপডেট সময় ০৯:৫০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

বিবাহ একটি পবিত্র সামাজিক বন্ধন। যা মানব জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কেবল দুটি মানুষের নয়। বরং দুটি পরিবারের এবং বৃহৎ অর্থে একটি সমাজের মধ্যকার বন্ধনের প্রতিফলন।

বিবাহ মানব জীবনে স্থিতিশীলতা, ভালোবাসা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও বিশ্বাস গঠনের একটি অনন্য উপায়। কিন্তু বর্তমানে সমাজে এই স্থায়ী সম্পর্কটি বিচ্ছেদে রূপ নিয়ে আশঙ্কাজনক হারে দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে বড় কারণগুলো হল দাম্পত্য জীবনে বনিবনার অভাব, যৌতুক, বাল্যবিবাহ এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। সাম্প্রতিক বছরে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৭৬৭টি বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। যা দৈনিক গড়ে সাতজনের সমান।

সচেতনমহল বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে পরকীয়া, অপরিণত বয়সে বিয়ে, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার ও প্রবাস জীবনের কারণে সংসারে অস্থিরতাকেই দায়ী করেন। বিচ্ছেদের কারণে অনেকেই মামলার শিকার হয়ে আদালতে ঘুরে সেখানেও পড়ছেন বিড়ম্বনায়। তাদের মতে, পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দিলে সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি দেশের প্রচলিত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ ও তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এএএম আবু তাহের বলেছেন, অল্প বয়সে বিয়ে হলে ছেলে-মেয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। এর ফলে মাতৃমৃত্যু হারও বৃদ্ধি পায়। বাল্যবিবাহ বিবাহ বিচ্ছেদের একটি প্রধান কারণ।

ইসলামপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা প্রতিবেদককে বলেন, আগে নারীরা স্বামীর নির্যাতন মেনে নিতেন। এখন নারীরা নির্যাতন হলেই তার প্রতিকার চান। পারিবারিক বন্ধনের দূরত্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ও যৌতুক প্রথার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। এ প্রথা বিলুপ্ত হলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।